শনিবার, নভেম্বর ২৮

নারীর মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে শক্তিশালী করুন : নারীমুক্তি কেন্দ্র

বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র
এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ‘নারীর মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে শক্তিশালী করা; নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’র দাবিতে আজ ২৪ আগস্ট নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টায় প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রীয় সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক নাঈমা খালেদ মনিকা ও দপ্তর সম্পাদক তৌফিকা লিজা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট দিনাজপুরের কিশোরী ইয়াসমিনকে পুলিশ কর্তৃক ধর্ষণ ও হত্যার বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসের সৃষ্টি হয়েছে। সেদিন ধর্ষণকারী পুলিশ সদস্যরা ইয়াসমিনকে পতিতা বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্ত প্রতিরোধ আন্দোলন বাধ্য করেছিল ফৌজদারী মামলায় পুলিশের বিচার করতে। দীর্ঘ ২ বছর সারাদেশের নারী সমাজসহ দিনাজপুরবাসীর অপ্রতিরোধ্য গণআন্দোলন বাধ্য করেছিল ৩ পুলিশ সদস্যের ফাঁসির রায় প্রকাশ করতে। ২০০৪ সালে এই ফাঁসির রায় কার্যকর হয়।

আজ দীর্ঘ ২৫ বছর পর যখন আমরা এই দিবসকে স্মরণ করছি, তখন করোনাকালীন ভয়াবহ পরিস্থিতি মানুষকে এক অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। খেটে খাওয়া গরিব মানুষ করোনায় মৃত্যুর ভয়ের চেয়েও বেশি ভয়ে আছে না খেয়ে মরার। কাজ নেই, চিকিৎসা নেই, নিরাপত্তা নেই। তদুপরি নানা সহিংস মাত্রায় নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। সরকারি দল এবং ক্ষমতাশালীদের ছত্রছায়ায় এসব ঘটনা প্রতিদিন প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে চলেছে। গত ২১ আগস্ট চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নে গরু চুরির অভিযোগে মা ও মেয়েকে রশিতে বেঁধে দিবালোকে জনসমক্ষে ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় আাওয়ামী লীগের সভাপতি মিরানুল ইসলাম তার নিজ কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটায়। অতিরিক্ত মারধরে মা-,মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এলাকাবাসীর অভিমত বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গরু চুরির অভিযোগ দিয়ে তাদের উপর এই নির্যাতন চালানো হয়েছে। কক্সবাজারের পুলিশ কর্মকর্তা প্রদীপ কর্তৃক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা হত্যার ঘটনার পর তার সহযোগী শিপ্রাকে কেন্দ্র করে নানা অপপ্রচার, ত্রাণের কথা বলে নারী নির্যাতন, পাটকল শ্রমিকদের কর্মহীন করা, গার্মেন্টস শ্রমিকদের কাজ থেকে ছাঁটাই করা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা, যার ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত সাংবাদিক কাজলকে গ্রেফতার করা ইত্যাদি নানা ঘটনায় মানুষ দিশেহারা।

এই পরিস্থিতিতে নারীর উপর নির্যাতন সহিংসতা অনেকগুন বেড়েছে। পর্নোগ্রাফি, মাদকাসক্তি, জুয়া, অশ্লীল সিনেমা-নাটক-বিজ্ঞাপন মানুষকে ভোগবাদী মানসিকতায় নিমজ্জিত করেছে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সমাজব্যবস্থার ফলেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবার ক্ষমতাসীন সরকারগুলি অন্যায়ভাবে জবরদস্তি করে ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বার্থে অন্যায়, জুলুমকে প্রশ্রয় দিয়ে অপরাধীদের রক্ষা করে চলেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ এই দিবসের সূচনালগ্নে চকরিয়ায় মা-মেয়ের নির্যাতনের ঘটনা থেকে শুরু করে দেশের সকল নারী নির্যাতনের ঘটনা আমাদের এটাই শিক্ষা দেয় যে, শাসকগোষ্ঠী বরাবরই অপরাধীদের রক্ষক। নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা, নির্যাতন বন্ধ করতে হলে নারী নির্যাতন বিরোধী সকল আন্দোলনকে বৈষম্য ও দমনমূলক সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত করতে হবে।


এখানে শেয়ার বোতাম