সোমবার, নভেম্বর ৩০

নারায়ণগঞ্জে সিপিবি নারী সেল ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের মানববন্ধন

এখানে শেয়ার বোতাম

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:: কক্সবাজারের চকোরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গং কর্তৃক কোমরে রশি বেঁধে মা- মেয়ে নির্যাতনের প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সিপিবি নারী সেল ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলার যৌথ উদ্যোগে আজ বেলা ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সিপিবি নারী সেলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক লক্ষ্মী চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সংগঠক সুলতানা আক্তারের পরিচালনায় মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, সিপিবির জেলার সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্ত্তী, সিপিবি নারী সেলের নেত্রী শোভা সাহা, সাহানারা বেগম, বিপ্লবী নারী মৈত্রীর রাশিদা বেগম ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সংগঠক মুন্নী সর্দার।

নেতৃবৃন্দ বলেন, কক্সবাজারে মা-মেয়েকে রশি বেঁধে নির্যাতন মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। পুলিশ নির্যাতনের হাত থেকে মা-মেয়েকে উদ্ধার না করে নির্যাতক চেয়ারম্যানের কথায় তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এ থেকে প্রমাণিত হয় পুলিশ প্রশাসন নির্যাতনকারী প্রভাবশালীদের সাথে যুক্তভাবে অন্যায়ের সহযোগিতা করে থাকে। দ্রুত নির্যাতক চেয়ারম্যানকে তার পদ থেকে অপসারণ করে তাকে গ্রেফতার করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সারা দেশে প্রতিনিয়ত নারী-শিশু নির্যাতন বেড়েই চলেছে। করোনা মহামারির মধ্যেও নারী ও শিশু হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতন বেড়েছে। কেরাণীগঞ্জে ত্রাণ দেয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ১০ বছরের শিশু কন্যা ধর্ষণ, টাঙ্গাইলে করোনা রোগী তল্লাশির নামে কিশোরী মেয়েকে অপহরণ করে গণধর্ষণ, ফেনীতে ফেসবুকে লাইভ করে স্ত্রীকে হত্যা, এরকম বহু খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে। সংবাদপত্রে খবর হয়না এরচেয়ে আরও বেশি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ৯৭% নারী নির্যাতনের বিচার হয় না। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে। আমাদের বিচার ব্যবস্থাও নারী বান্ধব নয়। ভোগবাদী ও মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নারী নির্যাতনে উৎসাহ জোগাচ্ছে। ঘরে-বাইরে সর্বত্র পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি করছে। ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে নানারকম হয়রানির শিকার হতে হয়। ধর্ষণ বিষয়টি প্রমাণ করা সবচেয়ে কঠিন। এখানে ভিকটিমকেই প্রমাণ করতে হয় সে ধর্ষিত হয়েছে। পর্ণ সাইটগুলো অবাধে চলছে। নরপশুদের বিকৃতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ৩ বছরের নারী শিশুও এদের লালসা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। এর বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জাগরণ দরকার। গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার।

নেতৃবৃন্দ কক্সবাজারে নির্যাতনকারী চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অব্যাহত নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম