শনিবার, এপ্রিল ১৭
শীর্ষ সংবাদ

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ৩৩ বছর পর মুন্নীকে ফিরে পেলো পরিবার

এখানে শেয়ার বোতাম

মোঃ রাশেদুল ইসলাম, নাটোর:: সিনেমার কাহিনীকেও হার মানিয়ে ফিরে পেল নাটোরের বাগাতিপাড়ার মুন্নীর পরিবার মুন্নীকে।

৭ বছর বয়সের শিশু মুন্নী পরিবারের কাছ থেকে হারিয়ে যায়। মুন্নি দীর্ঘ ৩৩ বছর পর ফিরে পেলো তার পরিবারকে।

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের সলইপাড়া গ্রামের মৃত মুনছের আলী ও নাজমা বেগমের মেয়ে মুন্নি।

গত ৩৩ বছর আগে লালপুর উপজেলায় নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে যায় মুন্নি। হারিয়ে যাওয়া সেই সন্তানকেই ফিরে পেল তার পরিবার।

মুন্নীর পরিবার জানান, ১৯৮৬ সালে পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর মিলকিপাড়া গ্রামে মায়ের সাথে নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে যায় ৭ বছরের শিশু কন্যা মুন্নি। তখন থেকেই শিশু সন্তানকে অনেক খোঁজা খুঁজি করেও কোন সন্ধান পাননি তার পরিবার।

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর পারিবারকে খুঁজে পেয়ে মুন্নি তার স্বামী সন্তানকে নিয়ে নায়রে আসেন মায়ের বাড়ি। মা তার সন্তানকে পেয়ে যেমন খুশি ,মাকে ও পরিবারকে খুঁজে পেয়ে তেমনি খুশি হয়েছেন মুন্নি ও তার পরিবার ।

ঘটনাক্রমে শিশু মুন্নি হারিয়ে যাওয়ার পর নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুর স্কুলের পাশে নির্জনে বসে থাকতে দেখে স্থানীয় একজন। এরপর ওই শিশুকে নিয়ে যান এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে।

এরপর তৎকালীন গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মৃত মাহাবুদ্দিন আহম্মেদ সাধু পরিচয় হীন শিশু মুন্নির দায়িত্ব নেন এবং তার নাম রাখেন আছিয়া। এরপর থেকে লালন পালন করে শিশু আছিয়া বড় হলে একই এলাকার বাহার উদ্দিনের ছেলে সোনালী ব্যাংকে কর্মরত আমিরুলের সাথে বিয়ে দেন।

এখন তাদের সংসারে দুটি পুত্র সন্তান সাজেদুল ইসলাম সাজু এবং রাজীবুল ইসলাম। কয়েকদিন আগে নিকট আত্নীয় মাধ্যমে মুন্নির খোঁজ পান তার পরিবার। চোখের পাতার নিচে তিল, হাতে পোড়া দাগ দেখে মাসহ আত্নীয় স্বজনরা মুন্নিই যে তাদের হারিয়ে যাওয়া মেয়ে সেটা সনাক্ত করেন ।

মুন্নি ওরফে আছিয়া জানান, দূরদূরান্ত থেকে অনেক বাবা-মা তাদের হারিয়ে যাওয়া সন্তান খুঁজতে তাকে দেখতে এসেছে।

দির্ঘ ৩৩ বছর পর আমার মা ও পরিবার আমার চোখের পাতার নিচে তিল, হাতে পোড়া দাগ এবং কপালে দাগ দেখে আমিই যে তাদের হারিয়ে যাওয়া মুন্নি সেটা প্রমান করেছে।

আমি আমার পরিবারকে পেয়ে আনন্দিত অনেক খুশি। আমার ছেলে তার সত্যিকারের নানার বাড়ি পেল। তারাও নানার পরিবার পেয়ে খুব খুশি ও আনান্দিত।

মুন্নির মা নাজমা বেগম বলেন, আমার সন্তানকে পেয়ে আমিসহ আমার পরিবার সকলেই আনন্দিত খুঁশি।

মুন্নির স্বামী জানান, আমার স্ত্রী তার পরিবারের সন্ধান না পেয়ে, অনেক কষ্টে ছিল। এখন তার চোখে মুখে আনন্দ দেখে আমি অনেক খুশি।

পাশাপাশি আমি নতুন পরিবারে এসে আনন্দিত এবং তারা খুবি ভাল মানুষ। মুন্নির ছোট ছেলে রাজীবুল ইসলাম বলেন, নানর বাড়ি এসে সে খুবি আনন্দিত সে।
মুন্নীকে তার মা বাগাতিপাড়ায় বাড়িতে নিয়ে আসলে নিকট আত্মীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশী প্রতিদিনই বাড়িতে ভির করছে দলে দলে এক নজর দেখার জন্য মুন্নীকে। তারাও মুন্নীকে দেখে ভিষন আনন্দিত।


এখানে শেয়ার বোতাম