শনিবার, মার্চ ৬
শীর্ষ সংবাদ

নরকসম কর্মক্ষেত্র

এখানে শেয়ার বোতাম

মাইদুল ইসলাম ::

ইউরোপের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে একবছরের জন্য গবেষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েও যোগদান করতে পারছি না বিভাগের কারণে। উচ্চ আদালতে মামলা স্থগিতের পর রায়ের কপিসহ বিভাগে ছুটির জন্য আবেদন করেছি গত ৪ সেপ্টেম্বর। পাঁচদিন ছুটিবাদেও সাত কর্মদিবস অতিবাহিত হয়ে গেল। নিয়ম সাত কর্মদিবসের মধ্যেই করার, অথচ সাত কর্মদিবস পেরিয়ে গেলেও প্ল্যানিং এর ন্যূনতম কোন উদ্যোগ নেই। ওদিকে পহেলা সেপ্টেম্বর আমার সেশন শুরু হয়ে গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় যেতে তাগাদা দিচ্ছে প্রতিদিন। অথচ বিভাগের চেয়ারপার্সনকে বারবার বলার পরও কোন উদ্যোগ নেননি। আজ বারো দিন হয়ে গেল।

এরমধ্যে বিভাগের চেয়ারম্যান রেজিস্ট্রারকে চিঠি লিখেছেন বিভাগে আমার ছুটির জন্য সভা আহ্বান করবেন কি না সে মর্মে। আজ রেজিস্ট্রারের কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, “এটা বিভাগের ব্যাপার, চেয়ারম্যান প্ল্যানিঙের প্রধান, তাকে এ ব্যাপারে আমি নির্দেশনা দেব কেন? এটা তো উনার ব্যাপার। আমারতো সেই এখতিয়ারই নেই।” অথচ চেয়ারপার্সন বললেন রেজিস্ট্রারের চিঠি ছাড়া সভা আহ্বান করবেন না। চেয়ারম্যান প্ল্যানিং কমিটির অনুমোদন নেবেন, ছুটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যাপার।এই হচ্ছে বর্তমান অবস্থা।


একটা কাজও যেখানে ঝামেলা, মানসিক নির্যাতন ছাড়া করতে দেয় না সেটা আর যাই হোক বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে না। নিজের কাজটুকু করতে যতটা যুদ্ধ করতে হয় তা জানলে অবিশ্বাস্যই মনে হবে অনেকের। এ পরিবেশে টিকে থাকাই মুশকিল, এখানে শিক্ষকতা ও গবেষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যার্ঙ্কিং বাড়ানোর মত সুযোগ নেই। নিজেরা কাজ করেন না, কেউ করতে চাইলে তাকেও আটকানো হয়, এখানে র্যাঙ্কিং আশা করাটাও বোকামি।

কথা হচ্ছে আইনসঙ্গত ছুটিটাও পাব না? উচ্চ আদালতের রায়কেও একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা বিভাগ/বিভাগের চেয়ারম্যান মানবে না?

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সমাজতত্ত্ব বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
( লেখকের ফেইসবুক থেকে নেওয়া)


এখানে শেয়ার বোতাম