মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪

নবান্ন অভিযান : কলকাতা-হাওড়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 3
    Shares

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্ন’ ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিজেপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। নবান্ন অভিযান ঘিরে কলকাতা ও হাওড়া- দুই শহরেই খণ্ড খণ্ড সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইট-বৃষ্টি, বোমাও নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে।

বিজেপিকর্মীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় পিস্তল। জলকামানের সঙ্গে চলে পুলিশের লাঠিচার্জ। অনেক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে অভিযানকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়। সব মিলিয়ে বেশ কয়েক ঘণ্টা তুলকালাম চলে এই দুই শহরে। কিন্তু অভিযানকারীরা নবান্নের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি।

এদিকে অভিযানে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। জলকামানে রাসায়নিক মেশানোর মতো গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়। বিজেপির যুব মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি তেজস্বী সূর্য অভিযোগ করেন, পুলিশি অত্যাচারে তাদের অন্তত এক হাজার কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ৫০০ জনকে।

তিনি জলকামানে রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগ তুলে বলেন, পুলিশের লাঠিচার্জে আমাদের একজন নেতা বমি করেছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্বরতার সঙ্গে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। জলকামানে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে দেয়া হয়েছিল।

যদিও রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, জলকামানে ‘হোলির রং’ ছিল। তার কথায়, জলে হোলির রং মেশানো ছিল। বিশ্বজুড়েই এমনটা করা হয়। বিক্ষোভকারীরা ভিড়ে মিশে গেলেও, পরে তদন্তের প্রয়োজনে জামার রং দেখে তাদের শনাক্ত করা যায়।

বিজেপিকর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে বহু পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে পাল্টা দাবি করেছেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, কলকাতা পুলিশ ৮৯ জন এবং হাওড়া পুলিশ ২৪ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।

বিজেপির মিছিল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানান মুখ্যসচিব। যদিও রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ওই ব্যক্তি বিজেপির এক নেতার দেহরক্ষী। তার কাছে ওই পিস্তলের লাইসেন্স রয়েছে। মিথ্যা অভিযোগে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জম্মু কাশ্মীরের রাজৌরি থেকে ওই পিস্তলের লাইসেন্স নেয়া হয়। গোটা ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় বিজেপিকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে লালবাজার থানা পুলিশ।

এদিকে নবান্ন অভিযানে পুলিশি ভূমিকার নিন্দা করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, দলের অভিজ্ঞ নেতাদের ওপর বাংলার পুলিশের নৃশংস আচরণের তীব্র নিন্দা করছে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের অত্যন্ত বিনীতভাবেই বলব, পুলিশ এবং পুলিশের লাঠি দিয়ে বিজেপিকে রুখতে পারবেন না আপনারা।

বিজেপির মিছিল ঘিরে বেশকিছু দিন ধরেই উত্তাপ বাড়ছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতির। তার মধ্যেই বুধবার হঠাৎ দুদিনের জন্য নবান্ন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। শূন্য নবান্নের উদ্দেশেই এদিন চার জায়গা থেকে হাজার হাজার বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মিছিল রওনা হন।

কলকাতার মুরলিধর সেন রোডে বিজেপির সদরদফতর, হেস্টিংসে দলের কার্যালয়, হাওড়া ময়দান এবং সাঁতরাগাছি থেকে মোট চারটি মিছিল বের হয়। কিন্তু নবান্নের ধারেকাছে পৌঁছানো তো দূর-অস্ত‌, কিছু দূর এগোতেই চার জায়গায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।

হাওড়া ঢোকার মুখে, ডানকুনিতে ব্যারিকেড বসিয়ে আগে থেকেই বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল। তাদের সঙ্গে ছিল জলকামানও। সেখানে বিক্ষোভকারীদের বাস আটকানো হয়। বাধ্য হয়ে রাস্তায় বসে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।

তাতে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে রাজ্যের ২ নম্বর জাতীয় সড়ক। পুলিশ অবরোধ তুলতে এলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুটে আসতে থাকে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশ।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 3
    Shares