বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৪
শীর্ষ সংবাদ

‘নদী আক্তারের ডিএনএ টেস্ট-ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি’

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 16
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: নদী আক্তারের ডিএনএ টেস্ট-ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দ্রুত জনসমক্ষে প্রকাশ করা ও নদী আক্তার হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে দুপুর ১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র এর সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দপ্তর সম্পাদক তৌফিকা লিজা, ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট; নদীর মা বিউটি বেগম, বাবা দুলাল শেখ, দৈনিক দিন প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিক ইভা আক্তার।

সমাবেশে নদী আক্তারের মা বলেন, আমার মেয়ে সৌদি আরবের মদিনায় আগষ্টের ১৪ তারিখ ২০২০ মারা গেছে আর আমরা জানতে পারি প্রায় ১০ দিন পর। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে আমরা যখন নানাভাবে চেষ্টা করছিলাম তার কি হয়েছে তা জানতে, তখন একদিন আমাদের জানানো হয় আমাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমরা জানি আমাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তাকে খুন করা হয়েছে। আমরা মা মেয়ে একসাথে গিয়েছিলাম। কিন্তু সৌদিআরবের এয়ারপোর্ট থেকে আমাকে ফেরত আসতে হয়। তাকে যে বাসায় কাজের জন্য নেয়া হয় ৫ মাস পর সে বাসা থেকে তাকে অন্য বাসায় দেয়া হয়। এভাবে তাকে ১৮ মাসে ৩টি বাসায় কাজে দেয়া হয়। সেখানে তাকে নানাভাবে নির্যাতন করা হতো। রিক্রুটিং এজেন্সী ঢাকা এক্সপোর্টস এর মালিক লালনকে বার বার এবিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বললেও সে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বরং ধমক দিয়েছে। কালাবাগান থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে আমরা মামলা করেছি। ৩১ অক্টোবর নদীর লাশ দেশে ফিরলে আমরা পুলিশকে ময়নাতদন্তের কথা বলি কিন্তু পুলিশ আমাদের কথা গ্রাহ্য না করে তড়িঘড়ি লাশ দাফন করে। সৌদি আরব থেকে যে সব ডাক্তারী ডকুমেন্টস পাঠিয়েছে তা আমরা বিশ^াস করিনা। আমাদের দেশে সুষ্ঠু ময়না তদন্ত ও উঘঅ টেস্টের জন্য আমরা আবেদন করেছি। তার প্রেক্ষিতে গত ২৫ জানুয়ারি লাশ তোলা হয় এবং ২৬ তারিখ ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ টেস্ট এর আলামত সংগ্রহ করা হয়। আমরা শুনেছি নদীর শরীরে কিডনীসহ কিছু অঙ্গ প্রত্যঙ্গ খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমার মেয়েকে কি নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে আমরা তা জানিনা। সুষ্ঠু ডিএনএ টেস্ট-ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অতি দ্রুত সবার সামনে প্রকাশ করা হোক। প্রতারক লালনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে আর কোন বাবা মার কোল খালি না হয় সে ব্যবস্থা চাই।

ব্যারিস্টার এডভোকেট আব্দুল হালিম বলেন, সুবিচার পাওয়ার বিষয়টি গরিবের জন্য এক দূর স্বপ্ন। নিরীহকে বিপদে ফেলার সব রকম ফাঁদই এই বিচার ব্যবস্থার মধ্যে আছে, কিন্তুকে দোষীকে আটক করার ঘটনা কালে ভদ্রে ঘটে। আমাদের বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ফরেনসিক বিষয়ের উপর আরও ভাল দখল থাকা দরকার। অপরাধের পুলিশি তদন্ত ঠিকমতো হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারেও কঠোর নজরদারি থাকা দরকার।

সীমা দত্ত বলেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রচ্যের অনেক দেশে নারীরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করছে, শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরছে কিন্তু সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এসব নির্যাতনের দায় ভিকটিমের পরিবার বা ভিকটিমের উপর ছেড়ে দিয়ে নিজেরা দায়মুক্ত থাকতে চায়। ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশ সৌদি আরবে শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ বাংলাদেশ সরকার অতিরিক্ত রেমিটেন্স এর লোভে যেনতেনভাবে নারী শ্রমিকদের দেশের বাইরে পাঠাচ্ছে। বিদেশ থেকে শ্রমিকরা যখন দেশের জন্য রেমিটেন্স পাঠিয়ে
অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তখন তারা বাহাবা পায় আর যখন লাশ হয়ে ফেরে তখন শ্রমিকের দায়। অনেক রিক্রুটিং এজেন্সী অতিরিক্ত মুনাফার লোভে অসৎ উপায় অবলম্বন করছে অথচ সরকার এ বিষয়ে নির্বিকার বরং সরকারি অফিসে অপরাধীর সাথে বসে ভিকটিমের পরিবারকে নানাভাবে অপমান হয়রানি করছে। প্রবাসে দূতাবাসগুলোতে সহযোগিতা চাইতে গেলে সেখানেও নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়ার সংবাদ আমরা জানি। সৌদি সরকার এদেশে মসজিদ নির্মানের জন্য কোটি কোটি টাকা অনুদান দেয় এবং সরকার গদগদ কন্ঠে তাদরে প্রসংশায় যখন পঞ্চমুখ থাকে তখন বুঝতে অসুবিধা হয়না শ্রমিকদের রক্ত-ঘামে ঝড়া অর্থ তাদের গদি রক্ষার জন্য প্রয়োজন। মানবিকতা মূল্যবোধ দায়িত্ব সব অনেক দূরের বিষয়। কিন্তু যারা সত্যিকার অর্থে দেশের মালিক সাধারণ গরিব অসহায় জনগণ তারা এই ব্যবস্থা মেনে নিবে না। এর বিরুদ্ধে তারা সবসময় রুখে দাঁড়াবে।
সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, অবিলম্বে নদী আক্তারের সুষ্ঠু ডিএনএ টেস্ট- ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ ও নদীর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া নারী শ্রমিকদের বিদেশে পাঠানো যাবে না।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 16
    Shares