মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১

নকল মাস্ক সরবরাহকারী শারমিন জাহান তিন দিনের রিমান্ডে

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী শারমিন জাহান বিচারককে বলেছেন, ‘আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি যদি নকল মাস্ক দিয়ে থাকি তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে সেটা ফেরত দেবেন। কিন্তু সেটা না করে আমার নামে মামলা দিলেন।’

শনিবার (২৫ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল ইসলামের আদালত শারমিন জাহানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিন রিমান্ড শুনানির মাঝে তিনি (শারমিন জাহান) এসব কথা বলেন।

এদিন দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে শাহবাগ থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করে তাকে আদালতে হাজির করেন। এরপর শুনানি শুরু হয়। শুনানির মাঝে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা শারমিন জাহান বিচারকের কাছে কিছু বলার অনুমতি চান। এরপর বিচারক তাকে অনুমতি দিলে শারমিন জাহান বলেন, ‘আমি প্রথম দুই বার মাস্ক দিলাম। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাস্কের মান নিয়ে কিছুই বললেন না। কিন্তু আবার যখন তৃতীয় বার মাস্ক দিলাম তখন বলা হলো যে নকল মাস্ক। যদি নকল মাস্ক আমি দিয়ে থাকি তাহলে সেটা আমাকে রিটার্ন দেবে। কিন্তু সেটা না করে আমার নামে মামলা দেওয়া হল। মূলত আমাকে ফাঁসানোর জন্য এটা করা হয়েছে।’

শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বেলা পৌনে ২টার দিকে তাকে আদালত থেকে নিয়ে যায় পুলিশ।

এর আগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় তাকে শাহবাগ এলাকা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করে।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে ‘এন-৯৫’ মাস্কের পরিবর্তে নকল ও ত্রুটিপূর্ণ মাস্ক সরবরাহ করায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বাদী হয়ে দায়ের করা প্রতারণার মামলায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অপরাজিতা ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী শারমিন জাহানকে আসামি করেছেন। শারমিন জাহান সাবেক ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত।

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের জন্য কর্তৃপক্ষ এন-৯৫ মাস্ক দেওয়ার কথা বললে তাদের নকল মাস্ক দেওয়া হয়। প্রথম ব্যাচের চিকিৎসকরা ডিউটি শুরু করার পর তাদের দেওয়া হয় ৮২১০ এন ৯৫ মাস্ক। তাতেও চিকিৎসকদের কোনও অভিযোগ ছিল না। কিন্তু তৃতীয় গ্রুপের চিকিৎসকরা কাজ শুরু করতেই বাধে বিপত্তি। তাদের দেওয়া হয় নকল এন-৯৫ মাস্ক। নকল মাস্কগুলোতে লেখা ভুল, লট নম্বর নেই। প্রকৃতপক্ষে আসল এন-৯৫ মাস্কের সঙ্গে নকল মাস্কও সরবরাহ করে কোম্পানি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক বলেন, গত ১৮ জুলাই যখন বিষয়টি হাসপাতাল পরিচালকের নজরে আনা হয় তখন তিনি নকল মাস্কগুলো বদলে দেন। তিনি নতুন করে যেগুলো দেন সেগুলোও নকল ছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, কোনও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ছাড়াই নিজস্ব লোকদের মাধ্যমে এসব কেনাকাটা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়নি, মান যাচাই না করে, যাচাই-বাছাই কমিটি ছাড়াই এসব কেনাকাটা সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে করোনা ইউনিটে দায়িত্বরত প্রত্যেকেই দুই থেকে তিনটি করে নকল মাস্ক পেয়েছেন।


এখানে শেয়ার বোতাম