শনিবার, মার্চ ৬
শীর্ষ সংবাদ

ধোঁয়ায় দিল্লি এখন ‘গ্যাস চেম্বার’, স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি

এখানে শেয়ার বোতাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভারতের দিল্লিতে পরিবেশ দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লিকে ‘গ্যাস চেম্বারে’র সঙ্গে তুলনা করেছেন।

ভয়াবহ দূষণের কারণে সেখানে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি (পাবলিক হেলথ্ এমার্জেন্সি) অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানী এবং সংলগ্ন এলাকায় সমস্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। শীতকালে কোথাও বাজি পোড়ানো যাবে না বলেও জানিয়েছে তারা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

বাতাসের গুণমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে অনুকুল বলে ধরা হয়। বাজি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের জেরে দিওয়ালিতে দিল্লি এবং নয়ডার গড় একিউআই বেড়ে ৩০৬ ও ৩৫৬ -তে দাঁড়িয়েছিল আগেই। এই মুহূর্তে রাজধানীর একিউআই ৫০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রক অধীনস্থ বাতাসের গুণমান নজরদারি সংস্থা ‘সফর’ জানিয়েছে, পার্শ্ববর্তী দুই রাজ্য পঞ্জাব এবং হরিয়ানায় ফসলের গোড়া পোড়ানোর জেরে গত দুই দিনে দিল্লিতে দূষণের পরিমাণ ২৭ শতাংশ বেড়ে গেছে। যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বাওয়ানার। সেখানে একিউআই ৫০০-র উপরেই ঘোরাফেরা করছে বলে জানা গিয়েছে।

দিল্লি টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, ওয়াজিরপুর, আনন্দ বিহার এবং বিবেক বিহার এলাকায় একিউআই বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৫০০, ৪৮৫, ৪৯৮ এবং ৪৮২-তে।

অন্যদিকে, দিল্লি সংলগ্ন উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে ভাসমান ধূলিকণার (পিএম ২.৫) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রতি ঘনমিটারে ৪৯৩ মাইক্রোগ্রাম।

দূষণের জেরে আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত দিল্লির সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি সরকার।

তবে রাজধানীর এমন পরিস্থিতির জন্য পাঞ্জাব ও হরিয়ানাকেই দুষছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল। তার অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে কৃষকদের ফসলের গোড়া পোড়াতে বাধ্য করছে ওই দুই রাজ্যের সরকার। তার জেরেই ধোঁয়ায় ঢাকা ‘গ্যাস চেম্বার’-এ পরিণত হয়েছে রাজধানী।

শুক্রবার সকালে টুইটারে এমন অভিযোগ করেন অরবিন্দ কেজরীবাল।

তিনি লেখেন, পড়শি রাজ্যগুলিতে ফসলের গোড়া পোড়ানোর জেরে ধোঁয়ায় ঢেকে গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছে দিল্লি। এই বিষাক্ত বাতাস থেকে নিজেদের বাঁচানো প্রয়োজন। তাই আজ সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলগুলিতে ৫০ লাখ মাস্ক বিতরণ করছি আমরা।’


এখানে শেয়ার বোতাম