বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২১

ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 18
    Shares

খুলনা প্রতিনিধি:: সারাদেশে অব্যাহতাবে ধর্ষণ নিপীড়ন ও পাহাড় সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সকল প্রকার যৌন সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ এবং ধর্ষণ মামলায় স্বাক্ষ্য আইন বাতিলসহ নয় দফা দাবিতে খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

আজ শুক্রবার ৪ ডিসেম্বর ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ খুলনা জেলার উদ্যোগে ধর্ষণ বিরোধী এই বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সনজিত কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু , সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল কাদেরী জয়, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা সহ প্রগতিশীল শিক্ষক, ছাত্র, নারী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন এখন বাংলাদেশে এখন চরম সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। নিজের ঘরে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্র্মীয় উপাসনালয়, সমতল-পাহাড়ে দেশের কোথাও মানুষের নিরাপত্তা নেই।

বক্তারা আরো বলেন, গণতন্ত্রহীনতা ও বিচারহীনতার এই সময়ে খাগড়াছড়িতে আদিবাসী নারী ধর্ষণ সাভারে স্কুল ছাত্রীকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা, সিলেট এমসি কলেজে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ দ্বারা এক নারী গণধর্ষন রাজশাহীর ধর্মীয় উপাসনালয়ে ধর্মযাজক দ্বারা আদিবাসী তরুনী ধর্ষণ ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে এলাকাবাসীর সামনে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের সাথে যুক্ত সকল ধর্ষক নিপীড়কদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে ৯ দফা দাবি:

১। সারাদেশে অব্যাহতভাবে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার সাথে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ন বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
২। পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সকল প্রকার যোন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।
৩। হাইকোর্টের নির্দেশানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে নারী নিযার্তন বিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। সিডর সনদে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।
৪। ধষর্ণ মামলা ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫ (৪) ধারাকে বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।
৫। অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন অনিষ্পন্ন সকল মামলা দ্রুতনিষ্পন্ন করতে হবে।
৬। তদন্তকালীন সময়ে ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৭। ধর্মীয়সহ সকল ধরণের সভা-সমাবেশে নারী বিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। সুস্থু ধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।
৮। পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমুলক যে কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে।
৯। গ্রামীণ সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 18
    Shares