শনিবার, ডিসেম্বর ৫

ধর্ষণের বিচারে ফাঁসির দাবি অযৌক্তিক নয়: কাদের

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 11
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিচার দাবিতে ‘আন্দোলনের দরকার নেই’ মন্তব্য করার একদিন পরেই সে বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) তিনি বলেছেন, ‘ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে দেশব্যাপী যে আন্দোলন চলেছে তাতে আমাদেরও সমর্থন রয়েছে। ধর্ষণের বিচার হিসেবে ফাঁসির দাবি অযৌক্তিক নয়। তবে ধর্ষণসহ নানা বিষয়ে সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর নামে অন্ধ সমালোচনা এখন বিএনপির রোজনামচা।’

তেজগাঁওয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের নবনির্মিত ভবনে প্রকৌশলীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ষণ একটি জঘন্য অপরাধ। তাই দেশব্যাপী এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির যে দাবি উঠেছে তা যুক্তিসঙ্গত। শুধু ধর্ষকদের বিচার করলে সমাধান হবে না। তাদের পেছনের কুশীলবদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবিতে সমর্থন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘এদের ছোটখাটো লঘু দণ্ড দিয়ে লাভ নেই। সর্বোচ্চ বিচারের যে দাবি উঠেছে, আমার মনে হয় এটা অযৌক্তিক নয়। এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনকে আপসহীন মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘যে সব অপরাধী বা ধর্ষক এসব ঘৃণ্য কাজ করছে, তাদের জন্য শাস্তিই শেষ কথা নয়। তারা কোনও রাজনৈতিক দলের ছায়ায় থাকলে তাদের চিরতরে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করতে হবে। ধর্ষণকারী যেন কোনও রাজনৈতিক আশ্রয়ের ঠিকানা না পায়। ধর্ষকদের যেন কোনও রাজনৈতিক দল প্রশ্রয় না দেয়।’

শেখ হাসিনার শাসনামলে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের গতি ধরে রাখার পাশাপাশি সামাজিক অপরাধ, দুর্নীতি, অনিয়ম, বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। দুর্নীতি-অনিয়ম করে যেমন কেউ ছাড় পায়নি, তেমনি নারীর প্রতি, শিশুদের প্রতি অন্যায়ের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে। যেখানে যে ঘটনাই ঘটুক কোনোটাকেই সরকার ছাড় দেয়নি। অপরাধীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছে, বিচার কাজ চলমান রয়েছে অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার। কোনোটির রায়ও ইতোমধ্যে হয়েছে।’

বিএনপি নেতাদের ‘দেশে গণতন্ত্র নেই‘ অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, প্রতিদিন গণমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ফ্রি স্টাইলে তারা বিষোদগার করছে। গণতন্ত্র না থাকলে মির্জা ফখরুল সাহেবরা এভাবে অবিরাম মিথ্যাচার করতে কি পারতেন? তাদের দলের কাউকে কি জেলে যেতে হচ্ছে? গণতন্ত্র আছে বলেই তারা সরকারের সমালোচনা করতে পারছেন। এমনকি গঠনমূলক না হয়ে বিরূপ আচরণ করছেন। মিথ্যাচারের পুরনো ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে অবাধ মিথ্যাচার, অপরদিকে গণতন্ত্র নেই বলে তারা মিথ্যাচার করছেন, যা বিএনপির স্বভাবসুলভ দ্বিচারিতা।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুর্নীতি ও অপকর্মের মূলোৎপাটনে শেখ হাসিনার কোনও পিছুটান নেই। নারীর প্রতি সহিংসতা, নারীর অবমাননা, মাদক, সাইবার অপরাধ, গুজব ছড়ানো এই সব অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে, গড়ে তুলতে হবে সামাজিক প্রতিরোধ। এসব নষ্ট রুচির অপরাধীদের কঠোর শাস্তির পাশাপাশি তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে বলেই ধর্ষণ বাড়ছে’ বক্তব্যের সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বিচার শেখ হাসিনার আমলেই হয়েছে। ফাহিমা, মুন্নি, পূর্ণিমাদের কথাই ভাবুন। একটি ঘটনারও কি বিচার হয়েছে? একটি অপরাধেরও কি দণ্ড দেওয়া হয়েছে? বিএনপির দলীয় লোকদের একটিরও কি বিচার হয়েছে? তাদের মুখে এটা শোভা পায় না।’


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 11
    Shares