রবিবার, নভেম্বর ২৯

ধর্ষণের প্রতিবাদে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সমাবেশ

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 18
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: দেশে একের পর এক নারী ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটে চলায় এর তীব্র নিন্দ ও প্রতিবাদে দেশব্যাপি কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ (১৪ অক্টোবর) বুধবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি হাবিবউল্লা বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেঃ জেনাঃ (অবঃ) এম. জাহাঙ্গীর হুসাইন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইয়াছিন, ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান খান ও বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রমূখ।

সমাবেশ পরিচালনা করেন সহ-সাধারন সম্পাদক প্রকাশ দত্ত।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ধর্ষণ কার্যত এক অপ্রতিরোধ্য অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। দেশের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বয়সী নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। কখনো কখনো অবিশ্বাস্য রকমের পাশবিক কায়দায় একের পর এক ঘটে চলেছে ধর্ষণ; যেন ধর্ষকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ধর্ষণপ্রবণতা সংক্রামক ব্যাধির মতো বেড়ে গেছে। সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের কতিপয় কর্মীর সংঘবদ্ধ ধর্ষণযজ্ঞের পর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালানো এবং সেই ন্যক্কারজনক পৈশাচিকতার ভিডিও চিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রতিবাদের প্রয়োজন নেই; সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। আর খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সিলেট ও নোয়াখালীর দুই ঘটনাকে ‘বর্বরতার চূড়ান্ত উদাহরণ’ বলে আখ্যায়িত করে আশ্বাস দিয়েছেন, এই ঘটনায় যারাই জড়িত হোক না কেন, তাদের সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তি পেতেই হবে। কিন্তু খোদ সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার মাত্র ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশের ক্ষেত্রে আদালতের রায় ঘোষিত হয়েছে; আর অপরাধীদের দন্ডদেশ ঘোষিত হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ মামলায়। যে দেশে ৯৯ শতাংশের বেশি মামলায় অপরাধীরা শাস্তির বাইরে থেকে যায়, সেই দেশে সময়ে-সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের ন্যায়বিচারের আশ্বাসবাণী উচ্চারণ জনমনে কোনো আশ্বাস জাগাতে পারে না।

বক্তারা বলেন, নারী নির্যাতনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড বিধান, সড়ক আন্দোলনের সময় সড়কে একতরফা শ্রমিককে দায়ি করে মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব- এগুলো সরকারের গণরোষকে স্তিমিত করায় প্রয়াস ছাড়া আর কি হতে পারে? আসলে কোনো দেশে আইনের শাসন কার্যকর থাকলে অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত হয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়; এ জন্য সরকারের নেতারা কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস-অঙ্গীকারের প্রয়োজন পড়ে না, প্রশ্নও ওঠে না। নারীর প্রতি সহিংসতা তথা নারী ও শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন, হত্যা বন্ধ করতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ছাড়া সম্ভব নয় যা মূলত সমাজ পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত।

নেতৃবৃন্দ এ প্রেক্ষিতে, নারী ও শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন, দূর্যোগ-দূর্নীতি-দুঃশাসন-সর্বোপরি নৈরাজ্য, বিচার বহির্ভূত হত্যা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 18
    Shares