বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩

ধর্ষক ও ধর্ষকদের প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলুন

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 34
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক:: ১ লা অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দাবি মাসের কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আজ ১০ ম দিনে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে লাক্কাতুরা রেষ্ট ক্যাম্পবাজার পর্যন্ত বাসদ( মার্কসবাদী) সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

পদযাত্রার সূচনায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পদযাত্রা চলাকালে আম্বরখানা পয়েন্ট, চৌখিদেখী বাজার,এবং সমাপনী সমাবেশ লাক্কাতুরা রেষ্ট ক্যাম্প বাজার বিভাগীয় স্টেডিয়াম গেইটে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ সমূহে সভাপতিত্ব করেন জেলা আহবায়ক কমরেড উজ্জল রায়, বক্তব্য রাখেন এ্যাডভোকেট হুমায়ুন রশীদ সোয়েব, মোখলেছুর রহমান, রেজাউর রহমান রানা, সঞ্জয় কান্ত দাস,জিতু সেন,বীরেন সিং, অজিত রায় প্রমুখ।

সমাবেশ সমূহে বক্তাগন বলেন, দেশে করোনা মহামারীতে জনজীবন বিপর্যস্ত। মানুষের জীবিকা নির্বাহ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এরকম মহামারী পরিস্থিতির মধ্যে দুঃসপ্নের মতো ভয়াবহ ধর্ষণ ও গণধর্ষণের মতো ঘটনা একের পর এক ঘটে চলেছে। পাহাড়ে ও সমতলে শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউই রেহাই পাচ্ছে না।সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এম সি কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্র লীগ সন্ত্রাসীদের দ্বারা স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় সিলেট জুড়ে এক আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।

ধর্ষণকারীদের গ্রেফতার করা হলেও তাদের আশ্রয়- প্রশ্রয়দাতাদের বিষয়ে প্রশাসন নীরব। সারাদেশ জুড়ে এ পরিস্থিতির রেশ না কাটতেই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এক নারীকে বিবস্ত্র করার ঘটনা ঘটিয়েছে সরকার দলীয় যুবলীগ সন্ত্রাসীরা।ভোট ডাকাতির সরকার ধর্ষকদের পাহারাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তাদের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এসব খুনী, ধর্ষক তারা তৈরি করছে। রাতের আঁধারে ভোটডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা এ সরকারের জনগণের প্রতি কোন দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নেই ।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ একটি দীর্ঘমেয়াদী বৃহত্তর সংক্রমণের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ মোকাবেলায় ব্যর্থ সরকার জনগনকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছে,যারা মরার মরবে ও যারা বাঁচার বাঁচবে। অন্যদিকে করোনাজনিত অর্থনৈতিক মন্দার অজুহাতে ছাটাই – বেতন কর্তন চলছে, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বাড়ছে। প্রবাসীরা অনেকে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকার ২৫ টি রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ করে দিয়ে ৬০ হাজার শ্রমিককে এক ধাক্কায় বেকার করে দিয়েছে, পাটচাষিদের ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিদ্যুৎবিলের বোঝা, বর্ধিত পানির বিল- গাড়িভাড়ায় মানুষ দিশেহারা। অর্থনৈতিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমজীবী মানুষ – কৃষক – নিম্নবিত্তকে সহায়তা দেয়ার পরিবর্তে সরকার প্রধানত শিল্পপতি – ব্যাবসায়ীদের আর্থিক প্রণোদনা দিচ্ছে।

করোনা মহামারীতে আওয়ামী লীগ সরকারের তথাকথিত উন্নয়নের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। ঢাকা – চট্টগ্রামের মতো প্রধান শহরেই বেশিরভাগ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই – এর মতো প্রাথমিক জীবনরক্ষকারী ব্যাবস্থা নেই। জেলা- উপজেলা হাসপাতালগুলোর কথা বলাই বাহুল্য। নেতৃবৃন্দ এই ফ্যাসিবাদী- গনবিরোধী – দূর্নীতিগ্রস্থ সরকারের বিরুদ্ধে জনগনকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 34
    Shares