রবিবার, জানুয়ারি ২৪

ধনী তোষণের বাজেট সংশোধন করে শ্রমজীবীদের কর্মসংস্থানে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: “ধনীদের দয়ায় দরিদ্র শ্রমজীবীদের জীবনধারণ” এই নীতিতে প্রণিত ২০২০-২১ সালের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দেশের শ্রমজীবী মানুষের দাবির কোন প্রতিফলন না থাকায় সংসদে পাশের পূর্বে প্রস্তাবিত বাজেট সংশোধন করে শ্রমজীবীদের রেশন, আবাসন, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য বীমা, কর্মসংস্থান, বিদেশ প্রত্যাগতদের পুণর্বাসন এবং করোনায় কর্মহীনদের সহায়তার জন্য বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো, অপচয়-দুর্নীতি বন্ধ করে শ্রমজীবীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং লে-অফ, ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে শ্রমিক ফ্রন্টের মানববন্ধন।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যোগে আজ ১৫ জুন ২০২০, সোমবার, সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এবং একই সময়ে সারাদেশের জেলা-উপজেলা-শিল্পঞ্চলে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতীকী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল এর সঞ্চালনায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন সহ-সম্পাদক ইমাম হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, কোষাধ্যক্ষ জুলফিকার আলী, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম দিদার, সংহতি জানান সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি আল কাদেরী জয়, ছাত্র নেতা রিয়াজ মাহমুদ প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা দুর্যোগে সারাদেশে শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে অর্ধাহার- অনাহারে, বিনা চিকিৎসায় চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিনযাপন করছে, প্রবাসী শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে অসহায় অবস্থায় দেশে ফিরে আসছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, মালিকরা দায়িত্বশীল আচরণের পরিবর্তে মুনাফা নিশ্চিত করতে শ্রমিক ছাঁটাই করছে, সেই সময়ও একদিকে ভ্যাট থেকে প্রধান আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরে, মোবাইল ফোন ব্যবহারে বাড়তি শুল্ক আরোপ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমজীবী মানুষের পকেট কেটে টাকা নেওয়া আর প্রনোদনার নামে মালিকদের পকেটে টাকা দেওয়ার নীতিতেই প্রস্তাবিত বাজেট প্রণিত হয়েছে। দেশের সম্পদ লুট করে ধনী হওয়া শিল্প মালিক,ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করে শ্রমজীবীদেরকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিবর্তে ব্যাক্তি পর্যায়ের কর হারের ঊর্ধসীমা ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে, করপোরেট করহার ২.৫ শতাংশ কমানো হয়েছে, উৎসে করের হার অর্ধেক করা হয়েছে, হাজার-হাজার কোটি টাকার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পদের উপর কোন সম্পদ কর প্রস্তাব করা হয়নি, পরিচালন বাজেটের ১৩.৯ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রণোদনা আর ভর্তূকির জন্য যা মুলত ধনী মালিকদের পকেটেই যাবে। অথচ শ্রমিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দুটি মন্ত্রণালয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ যথাক্রমে ৩৫০ কোটি এবং ৬৪১ কোটি টাকা যা ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটের মাত্র .১৭ শতাংশ। আর করোনা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমজীবীদের জন্য বিশেষত মোট শ্রম শক্তির ৮৫ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিতক খাতের শ্রমিকদের জন্য রাষ্ট্রিয় উদ্যোগে কর্মসংস্থান, রেশন, আবাসন, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য বীমা কিংবা করোনারকারণে কর্মহীন সময়ে সহায়তার জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ করা হয়নি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা দুর্যোগকালিন সময়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সহায়তার জন্য ইতিপূর্বে ঘোষিত ৭৬০ কোটি টাকা এখনও সুষ্ঠ ভাবে বিতরণ করা হয়নি আর প্রস্তাবিত বাজেটেও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের কর্মহীনতার সময়ে সহায়তার জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়নি। অর্থাৎ সরকার লুটেরা ধনীদের আরো ধনী করতে অবাধ শ্রম শোষণের সুযোগ তৈরী করতে এবং দ্ররিদ্র কে শুধুমাত্র শ্রম পুণঃউৎপাদনের যন্ত্র হিসাবে বাচিঁয়ে রাখতে চায়, শ্রমজীবী মানুষ সরকারের কাছে মানুষ হিসাবে বিবেচ্য নয় ২০২০-২১ সালের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট তাই প্রমাণ করে।

নেতৃবৃন্দ, অবিলম্বে শ্রমজীবীদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে বাজেট সংশোধনের আহবান জানিয়ে বলেন, আমলাতন্ত্র আর ধনীদের সেবার বাজেটের পরিবর্তে জনগনের বাজেট প্রণয়ন করুন।


এখানে শেয়ার বোতাম