রবিবার, এপ্রিল ১১
শীর্ষ সংবাদ

দোয়ারাবাজারে বৃদ্ধি পাচ্ছে অবৈধ মোটর সাইকেল চলাচল, বাড়ছে দুর্ঘটনা

এখানে শেয়ার বোতাম

এনামুল কবির মুন্না, দোয়ারাবাজার:: সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের মেধাবী ছাত্র পরীক্ষার্থী মোঃশামীম আহমদ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সমুজ আলী স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। স্থানীয় মহব্বতপুর বাজার প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। আহত এস এসসি পরীক্ষার্থী শামীম আহমদ উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের চৌকিরঘাট গ্রামের গীতিকার নূরনবী সরকারের ছেলে।

আজ মঙ্গলবার সকালে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার জন্য শামীম আহমদ মোটর সাইকেলে সমুজ আলী স্কুল এন্ড কলেজের কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য রওনা হয়। সমুজ আলী স্কুল এন্ড কলেজ পাশে রবিউল মিয়া দোকানের সামনে অন্য একটি মোটর সাইকেলের সাথে সংঘর্ষ হয়। পরিক্ষার সময় নিকটবর্তী দেখে স্থানীয় মহব্বতপুর বাজারে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সমুজ আলী স্কুল এন্ড কলেজের কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়। গতকাল উপজেলার দীনেরটুক দারুল কোরআন আলিম মাদ্রাসার মেধাবী দাখিল পরীক্ষার্থী অসহায় মোছাঃজুমা আক্তার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে কলাউড়া ফাজিল(ডিগ্রী) মাদ্রাসা কেন্দ্রে যাওয়ার সময় মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

দোয়ারাবাজার উপজেলায় দিন দিন অবৈধ মোটর সাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসমস্ত মোটর সাইকেলের মালিকগণ বেশীর ভাগই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। অদক্ষ, অনভিজ্ঞ স্বল্প বয়সের ছেলেরা যাত্রী পরিবহনের উদ্দ্যেশ্য নিয়ে মোটর সাইকেল ক্রয় করছে। এ সমস্ত গাড়ির যেমনি নেই লাইসেন্স, ব্লুবুক তেমনি নেই চালকের লাইসেন্স ও চালানোর অভিজ্ঞতা। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেরা এ মোটর সাইকেল চালাচ্ছে। তাদের কাছে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে কোন অভিজ্ঞতা নেই। ইচ্ছা মাফিক গাড়ি চালায়। এরা সড়কে মোটর সাইকেল বের করলেই যেমনি গতি তেমনি গাড়ির বিকট আওয়াজে পথচারী লোকজন আতংকিত হয়ে পড়ে। ঘন্টায় যে যত গতি বাড়িয়ে চালাতে পারে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। ফলে এলাকার ছোট ছোট কোমলমতি শিশু, স্কুল, মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র/ছাত্রীরা প্রতিনিয়ত আতংকে ভোগে। আবার অনেকেই এদের মোটর সাইকেলে আহত নিহত হচ্ছে। দিবা-রাত্রী সমান তালে এ অপ্রাপ্ত বয়স্করা মোটর সাইকেল দোয়ারাবাজারের সড়ক সমূহে চালিয়ে আসচ্ছে। একটি মোটর সাইকেলের যাত্রী ধারনের ক্ষমতা ২জন হলেও কিন্তু এরা বহন করছে ৩/৪জন। এদের বেশীর ভাগই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। মাঝে মধ্যে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ মোটর সাইকেল আটক অভিযান পরিচালনা করলে সু-চতুর মোটর সাইকেল মালিকগণ মোবাইলের মাধ্যমে খবর নিয়ে গাড়ি গুলো পুলিশের অগোচরে নিরাপদে লোকিয়ে রাখে। মাঝে মধ্যে কিছু আটক হলে আটককৃত মোটর সাইকেল লাইসেন্স না করে পুনরায় নতুন ভাবে আরেকটি মোটর সাইকেল ক্রয় করে নিয়ে আসে। স্থানীয় লোকজন জানায়, দোয়ারাবাজারে বিপুল পরিমাণ মোটর সাইকেলের সংখ্যা বৃদ্ধির একমাত্র কারন হচ্ছে যাত্রী পরিবহন করা। নিয়ম কানুন ছাড়ায় বেপোয়ারা গতিতে মোটর সাইকেল চালানোর কারনে দোয়ারাবাজারে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলাকার সচেতন মহল মোটর সাইকেল অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষন করেছেন।

দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের অভিভাবদের সাথে কথা বলে জানা যায়,অপ্রাপ্ত বয়স্করা মোটর সাইকেল চালানোর করানে আমরা অভিভাবকরা বর্তমানে বাচ্চাদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছি। কখন জানি দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় আমার বাচ্চা। তাই আমরা অভিভাবকরা উপজেলার পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি প্রতিদিন যেন গ্রামের বাজার গুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার করা হয়।

দোয়ারাবাজার থানার ওসি মোঃআবুল হাশেম বলেন অবৈধ মোটর সাইকেল ও ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে ।


এখানে শেয়ার বোতাম