শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

দেশব্যাপী বাম গণতান্ত্রিক জোটের ‘বন্দিমুক্তি দিবসে’ পালিত

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: খুলনায় নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেশের সম্পদ লুট করা চলবে না।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের আহ্বানে গত ১৯ অক্টোবর বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহ খুলে দেয়া ও পাটকলসমূহ আধুনিকায়নের দাবিতে দেশব্যাপী সড়ক ও রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে খুলনায় গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে ঘোষিত ‘বন্দিমুক্তি দিবস’-এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ আজ ২৯ অক্টোবর ২০২০ উপরোক্ত বক্তব্য প্রদান করেন।

রাজধানী ঢাকা ছাড়াও সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় একই দাবিতে ‘বন্দিমুক্তি দিবস’ পালিত হয়েছে বলে নেতৃবৃন্দ একতা টেলিভিশনকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে আজ দুপুরের আগে পাটকল রক্ষার আন্দোলনে গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, ইউসিএল’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড ফখরুদ্দিন কবীর আতিক, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল্লাহ সবুজ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি কমরেড হামিদুল হক। সভা পরিচালনা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড আকবর খান।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন দেশে লুটপাটের রাজত্ব চলছে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় দিয়ে দেয়ার জন্য সরকার
বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করছে। গত ১৯ অক্টোবর পুলিশ কর্মসূচি থেকে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব ও সিপিবি নেতা এস এ রশিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাসদ নেতা জনার্দন দত্ত নান্টু, সিপিবি নেতা মিজানুর রহমান বাবু, শ্রমিকনেতা অলিয়ার রহমান, শ্রমিকনেতা শামশেদ আলম শমশের, ছাত্র ফেডারেশনের নেতা আল-আমিন শেখ, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা রবিউল ইসলাম রবিসহ ১৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে।

পরে ১৪ জনের নামসহ অজ্ঞাত ২০০/২৫০ ব্যাক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় অজামিনযোগ্য মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদেরকে কারারুদ্ধ করা হয়। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, নানা তালবাহানার পর আজ আদালত তাদের জামিন দিলেও তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। নেতৃবৃন্দ তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, এরকম হামলা-মামলা দিয়ে বাম জোটের নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। দুর্বার আন্দোলন গড়ে শ্রমিকবিরোধী আওয়ামী সরকারকে পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য করা হবে। সেইসাথে নেতৃবৃন্দ বন্ধ পাটকলসমূহ খুলে দেয়ার দাবি জানান। তারা পাটকলসমূহে ৭০ বছরের পুরনো মেশিন ফেলে দিয়ে নতুন মেশিন দিয়ে পাটকলসমূহ আধুনিকায়ন করার দাবি জানান। তারা বলেন, সরকার পাটশ্রমিকদের চাকুরিচ্যুতির জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে রাজি আছে। কিন্তু মাত্র ১২০০ কোটি টাকা খরচ করে ২৫টি পাটকলকে অত্যাধুনিক কারখানায় পরিণত করা সম্ভব।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এ সরকার গণবিরোধী সরকার, নারীবিরোধী সরকার, শ্রমিকবিরোধী সরকার। এ সরকার ভোট ডাকাতির সরকার। ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন থেকে দেশ বাঁচাতে মধ্যরাতের ভোট ডাকাতির এ সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। বাম জোটের নেতাকর্মীরা এ লড়াইকে বিজয়ী করবে।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন পথ প্রদক্ষিণ করে।


এখানে শেয়ার বোতাম