বুধবার, মে ১২
শীর্ষ সংবাদ

দেবীপক্ষ

এখানে শেয়ার বোতাম

শ্বেতা চক্রবর্তী ::

দূরে সমুদ্রের ঢেউ,চারদিকে বালিয়াড়ি,
নিবিড় ব্রততী হাওয়া,
রবীন্দ্রসঙ্গীতের মতো খিদে,
পাহাড়ের মতন মতিচুর কাঠিন্যের দুঃখ।

সব ছাপিয়ে মহিলাটি পাশের পুরুষটির,
কালও শরীর-ভরণ পুরুষটির দৃষ্টি এড়িয়ে
নতুন পাজামায় নারীর শেষ নরম মোহন ফেলে রেখে

ভোর ভোর ঝাউবনে ঢুকে গেল।

ঢোকার মুখে তার সমস্ত জামার স্তূপ,
মিশে গেল অন্ধকারে,
একগোছা খরগোশের মতো শাদা তার শরীর জুড়ে চমকে চমকে উঠল।

সে চমকায় নি।

পেছনে পড়ে রইল তার পুরুষ,
তার একাকিত্বের পামর,
তার শরীরের গোধুম,
তার বর্ণনীয় অকপট।

সে সতী নয়,
সে অসতীও নয়,
সে তারই মতো,

সে উলঙ্গ না হলে হাসতে পারে না,
শান্তি পায় না তার নবীসুধা পায়রাদুটি,

সে ঝাউবনে মিলিয়ে গেল।এভাবেই।

পড়ে রইলো তার নগ্ন শাড়িখানি
মহালয়ার ভোরে

স্বয়ং দুর্গা পরে নেবে বলে।
সব দেবীমূর্তির পেছনটা উলঙ্গ।

পৃথিবী ভর্তি বালি,সমুদ্র,হোটেল,পুরুষ।

পৃথিবী ভর্তি মহালয়ার ভোরে নারী খুব একা।
নধর-কানাই বুকে লেপ্টে রইলেও নারী একা।

চারণমোহে জাগো,তুমি জাগো।

ঝাউবনে স্তিমিত ঝিঁঝির আলোয় শুরু হল দেবীপক্ষ

শ্বেতা চক্রবর্তী :: কবি


এখানে শেয়ার বোতাম