মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১

দুর্যোগে সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন জনগণকে বিভক্ত করার লক্ষ্যেই : কমরেড মুবিনুল

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেন, “এই দুর্যোগময় সময়েও সারাদেশে অব্যাহতভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতন চলছে। গত এক মাসের পত্রিকার খবরগুলো সকল সচেতন নাগরিকদের মনে গভীর চিন্তার উদ্রেক না করে পারছে না। বিভিন্ন সংবাদপত্র, থানায় দায়ের করা মামলা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সূত্রে জানা গেছে, লকডাউনের সময় দেশের ২৭টি জেলায় অন্তত ৩৬টি হামলা, নির্যাতন, অপহরণ ও উপাসনালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে পুরো দেশবাসীর মনযোগ যখন একদিকে তখন আরেকদিকে দখল, লুটপাট, নারী নিগ্রহের মতো ঘটনা ঘটছে। সীমাহীন নির্মম না হলে এ কাজ করা যায় না। করোনা মহামারীর এই পরিস্থিতিতে আক্রান্তদের কান্না দেশবাসীর গোচরেও আসছে না।

সংখ্যালঘুদের ত্রাতা হিসাবে পরিচিত আওয়ামী লীগ গত ১১ বছর ধরে দেশ শাসন করছে। তাদের দলের নেতাদের প্রত্যক্ষ মদতে মন্দিরের জায়গা দখল করা থেকে শুরু করে সংখ্যালঘুদের বাড়ি দখল, জমি দখল, মন্দির-মঠ পুড়িয়ে দেয়ার মতো ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ও রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ হয়েছে। এর কোনটিরই বিচার হয়নি। এ দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে সকল ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিয়েছে, ত্যাগ স্বীকার করেছে, নির্যাতন সহ্য করেছে, যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছে। অথচ স্বাধীন দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের উপর বারবার আঘাত এসেছে, আক্রমণ হয়েছে, তাদেরকে নির্যাতন করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে, ঘরের মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু কোন বিচার হয়নি। এসব কারণেই আজ পরিস্থিতি এতদূর গড়িয়েছে। এই সময়ে যখন সবাই ভীষণ আশঙ্কা ও উদ্বিগ্নতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, সরকার নাগরিকদের ন্যূনতম সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ- তখন এই ধরনের ঘটনা শুধু সম্পত্তি দখল কিংবা ব্যক্তিবিশেষের সাম্প্রদায়িক মনোভাবের প্রকাশ হিসেবে আমরা দেখতে পারছি না। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ এ সরকারের বিরুদ্ধে যখন তীব্র গণবিক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে তখন প্রতিবাদী জনতাকে বিভক্ত করতে এ ধরনের কর্মকা- করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক এবং আঞ্চলিক উন্মাদনা সৃষ্টি করে মানুষের মধ্যে বিভক্তিকে আরও উস্কে দেয়ার চেষ্টা সকল পুঁজিবাদী দেশের সরকারই করবে। আমাদের দেশেও সে চেষ্টার ব্যতিক্রম হবে না। কারণ পৃথিবীব্যাপী বিক্ষোভের ঢেউ উঠেছে। এই সংকট বুর্জোয়া রাষ্ট্রব্যবস্থার অসাড়তাকে একেবারে নগ্নভাবে সামনে এনেছে। ফলে জনগণের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি না করে কোন পুঁজিবাদী সরকারের টিকে থাকার উপায় নেই। আমাদের সরকারও সে পথেই হাঁটছেন বলে আমরা ধারণা করি।

আমরা দেশের গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন সকল মানুষকে আহবান করছি এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য। আমরা এই সময়ে সংঘটিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের সকল ঘটনার বিচার দাবি করছি।”


এখানে শেয়ার বোতাম