দুটি ভাবনা...... -
 

দুটি ভাবনা……

Pronob paul 2:20 pm মতামত,
Home  »  অন্যান্যমতামত   »   দুটি ভাবনা……

রাশেদা রওনক খান ::

১। প্রথম ভাবনাটি নিয়ে এর আগেও বলেছি, আজ দুইদিন ধরে আবার মনে হচ্ছে- বার বার বলতে বলতে যদি আমাদের অভ্যাসের পরিবর্তন করা যায়! একজন অপরাধ করলে সেই অপরাধীর পারিবারিক ভিডিও কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের ছবি দেয়া, তাদের নিয়েও ফেসবুক বা ইউটিউবে মন্তব্য যারা করছেন, তারা একটা ইতর পর্যায়ের কাজ করছেন| আসুন, তা হতে বিরত থাকতে ইতর শ্রেণীকে নিরুৎসাহিত করি| একটি অপরাধ বা একজন অপরাধীর বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে নিজেও যে অপরাধমুলক কাজ করছি, সেটা কবে বুঝবো আমরা?

একজন অপরাধীর শাস্তি কেন তার পরিবারের নিরপরাধ সদস্যদেরও পেতে হবে, সারাজীবন বহন করতে হবে, প্রশ্নটি কখনো কি ভেবে দেখছি আমরা? সাইবার ওয়ার্ল্ড এমন একটি জায়গা, এই ছবি, ভিডিওটিকে কেন্দ্রও করে এর আশে পাশের এই সত্য-মিথ্যা মেশানো গল্পগুলো থেকে যাবে, যেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে নিরপরাধ মানুষগুলোর ছবি| বাবার অপরাধের কারণে কেন সন্তান সারাজীবনের জন্য সাইবার ওয়ার্ল্ড এ এভাবে বার বার হেনস্তা হবে? আমরা দুর্নীতি, অপকর্ম, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছি, কিন্তু নিজে যে অপরাধ, অন্যায় করছি নিরপরাধ মানুষগুলোর প্রতি, সেটা একবারও ভেবে দেখছিনা| কি মহান আমরা!

২| জীবন! পদ্ম পাতার জল! কতটা স্বল্প সময়ের, অনিশ্চিত! ব্যাংক কর্মকর্তার ভিডিওটি দেখে কয়েকটি বিষয় মনের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে| এক, আমরা কোন অফিসে/ব্যাংকে গিয়ে সার্ভিস নিতে গেলে কেবল স্বার্থপরের মতো কখন নিজের কাজটা করে বের হয়ে যাবো, তার জন্য অস্থির থাকি, কিন্তু যারা সার্ভিস দেন, তাদেরও যে একটা জীবন আছে, খারাপ লাগা/ভালো লাগা আছে, আছে কষ্ট- দুঃখ, অর্থাৎ সমস্যা থাকতে পারে, সেদিকেও যেন একটু লক্ষ রাখি| সার্ভিস যিনি দিচ্ছেন তিনি একটু বিরতি নিলে আমরা রেগে যাই, অস্থির হয়ে পড়ি যেন আমাদের সব সময় তিনি নষ্ট করে ফেলছেন! কিন্তু যারা কাজ করছেন, তাদেরও যে শরীর খারাপ লাগতে পারে, সেটা যেন একটু মনে রাখি| ব্যাংক কর্মকর্তার শরীর যে খারাপ লাগছে, তা এখন ভিডিওটি দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, অথচ সামনে যারা ছিলেন তারা যদি একটু আগে থেকে লক্ষ করতেন, হয়তো কিছু একটা করা যেতো| আবার এটাও আমাদের জন্য শিক্ষণীয় যে, শরীর খারাপ লাগলে আশে পাশে কাউকে বলতে হবে| দৌড়ে চলা এই জীবনে এখন কেউ কারো মুখের দিকে তাকিয়ে, চোখে চোখ রেখে কথা বলার সময় পায়না|

মানব জীবন এখন কাজ আর কাজের বাইরে মোবাইলে চোখ! এর বাইরে আমাদের কেউ কারো দিকে ভাল করে তাকানোর ফুসরত নেই| আগের সেই সময় নেই যখন একজন আরেকজনকে বলতো, আপনার শরীরটা কি খারাপ লাগছে? আপনাকে দেখে ক্লান্ত লাগছে! এসব কথামালা কখন কোথায় হারিয়ে গেলো, আমাদের অজান্তেই , অনেকটা আমাদের অবহেলায়……

আরেকটি বিষয়ও ভাবাচ্ছে, এতো অনিশ্চিত জীবন নিয়ে আমাদের কত অহমিকা, আমাদের কত ভুল বুঝা বুঝি, একে অপরের প্রতি অনাস্থা, কুৎসা রটনা, অবিশ্বাস, দুর্নীতি, সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অসুস্থ প্রতিযোগিতা, শো অফ করার তীব্র প্রতিযোগিতা সহ আরও কত কি! কিন্তু জীবন, তাতো কেবল জলে ভাসা পদ্ম!! মানব জীবন যেখানে এতোটাই ছোট ও অনিশ্চিত, সেখানে মানব মনে কিসের জন্য এতোসব মিথ্যা আয়োজন?

লেখক: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

( লেখকের ফেইসবুক থেকে নেওয়া)