বুধবার, জানুয়ারি ২৭

দুঃসংবাদ দিলেন মরিচ চাষিরা

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় অতিবৃষ্টি ও ছত্রাক রোগের কারণে প্রায় ৫০ ভাগ মরিচ গাছে মোড়ক ধরেছে। মরিচ গাছে মোড়কের কারণে উপজেলার মরিচ চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। এবার উপজেলার মরিচ চাষিদের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তাই মরিচের দাম বেড়ে গেছে।

পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মরিচ চাষি আব্দুল হাই বাশী মিয়া বলেন, উপজেলার প্রায় ৫০ ভাগ মরিচ গাছ মরে গেছে। অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও এক ধরনের ছত্রাকে আক্রান্ত হয়ে মরিচ গাছ মারা যাচ্ছে। এটি একজাতীয় রোগ। সাধারণত জমি, বীজতলা থেকে এ রোগ ছড়াতে পারে। একটা ছোঁয়াচে রোগও বটে। এক জমি থেকে অন্য জমিতে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে কৃষি অফিসের মাঠকর্মী ও অফিসাররা নজর দিলে এই রোগ কিছুটা রোধ করা যেতো। করোনাভাইরাসের কারণে মাঠে তাদের কম পাওয়া যায়। দুঃসংবাদ হলো এবার মরিচের দাম অনেক বেড়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে কার্তিক মাস পর্যন্ত এই এলাকায় মরিচ চাষ হয়। তিন মাস আগে মরিচের গাছ মরে চাষিদের মাথায় হাত। এ বছর প্রথম থেকে বাজারে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা প্রতিমণ কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়। উৎপাদন ও ফলন কম হওয়ায় বর্তমানে মরিচের মূল্য প্রতিমণ পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

কামালদিয়া ইউনিয়নের মেছরদিয়া এলাকার মরিচ চাষি মীর আব্দুর রহমান, মোতালেব মোল্যা, ছত্তার মোল্যা, দাউদ মোল্যাসহ অনেকেরই একই কথা। তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা এখন আগাম মরিচ গাছ তুলে রোপা আমন, শসা এবং মিষ্টি কুমড়া চাষ করছেন।

মধুখালীতে দেশের মধ্যে অন্যতম একটি মরিচের বাজার রয়েছে। মধুখালী থেকে ঢাকা, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলার ব্যাপারীরা প্রতিদিন হাজার মণ মরিচ খরিদ করেন।

মধুখালী বাজারের কাঁচা মরিচের আড়তদার মির্জা আহসানুজ্জামান আজাউল ও মির্জা আবু জাফর বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। গাছে এবার ফলনও কম। বাজারে কাঁচা মরিচের আমদানি কম। সেজন্য মরিচের দাম বেড়েছে। এ বছর মরিচ উৎপাদন কম হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে ফিরে যাচ্ছেন।

মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাব মন্ডল বলেন, অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং সম্প্রতি আম্ফানের কারণে উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকার মরিচ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুর্যোগের কারণে উপজেলার মোট ৭৭৪ হেক্টর জমির মরিচ আক্রান্ত হয়। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৬৮ হেক্টর জমির মরিচ। মোট ৪৬৬ হেক্টর জমির শতভাগ মরিচ নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা জেলায় পাঠিয়েছি।

এ বছর মধুখালী উপজেলায় মোট দুই হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। গত বছর এ উপজেলায় দুই হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছিল। এ বছর টার্গেট এর চেয়ে ১০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ বেশি হয়। দুর্যোগ না হলে এ বছর অধিক ফলন পাওয়া যেতো।


এখানে শেয়ার বোতাম