রবিবার, মে ১৬
শীর্ষ সংবাদ

দিল্লিতে তাবলিগ থেকে করোনার ঝুঁকিতে ৯ হাজার মানুষ

এখানে শেয়ার বোতাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তাবলিগ জামায়াতের জমায়েতে অংশ নেওয়া ৭ হাজার ৬০০ ভারতীয় ও ১ হাজার ৩০০ বিদেশিকে চিহ্নিত করেছে দেশটির সরকার। এই ৯ হাজার মানুষ করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য দিয়েছে। খবর এনডিটিভির।

গত মাসে অনুষ্ঠিত ওই ধর্মীয় জমায়েতটি ভারতে করোনাভাইরাসের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে জমায়েতে অংশ নেওয়া আরও ব্যক্তি শনাক্ত হলে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ভারতের ২৩টি রাজ্য ও ৪টি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের সরকার ১ হাজার ৩০৬ জন বিদেশি নাগরিককে শনাক্ত করেছে। তারা দিল্লির নিজামউদ্দিন এলাকার একটি মসজিদে তাবলিগ জামায়াতে অংশ নিয়েছিলেন।

স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে হয়েছে, তাবলিগের জমায়েতে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৫১ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ৭ হাজার ৬০০ ভারতীয় ও তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলো ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, নিজামুদ্দিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৪০০ জনের শরীরে করোনাভাইাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে নিজামউদ্দিনের জমায়েত নিয়ে বেশি চাঞ্চল্য তৈরির প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ওই জমায়েতে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নির্দেশে পুলিশ গত সোমবার ওই মসজিদ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মামলা করেছে। এ ঘটনার পর দিল্লিতে তবলিগ জামায়াতের সদর দপ্তর মারকাজ নিজামুদ্দিন সিল করে দেওয়া হয়। তবে মারকাজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লকডাউন ঘোষণার আগেই ওই জমায়েত শেষ হয়েছে। এ ছাড়া ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘জনতা কারফিউ’ ঘোষণা দেওয়ার আগেই তাবলিগের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মার্চের ১৩ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত দিল্লিতে তাবলিগের ওই জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তারা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন। তাদের মাধ্যমে সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ওই জমায়েতে ভারতীয় ছাড়াও বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, মিয়ানমার, কিরগিজিস্তান, সৌদি আরব, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, জিবুতি, শ্রীলংকা, ব্রিটেন, ফিজি, ফ্রান্স ও কুয়েতের নাগরিকরা জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন।

ভারতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার।


এখানে শেয়ার বোতাম