বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫
শীর্ষ সংবাদ

দশ জেলায় বন্যার অবনতি, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার প্রতিবেদক :: সারাদেশে ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সব প্রধান নদ-নদীর পানি বেড়েই চলেছে। তিস্তা, যমুনা, ব্র‏হ্মপুত্র, সুরমা, কুশিয়ারা, সাংগুসহ বিভিন্ন নদীর পানি ২৩টি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তা-যমুনা ও সুরমার পানি বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে আরও ৭৯ পয়েন্টে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। তলিয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। ভেসে যাচ্ছে পুকুরের মাছ। পাহাড়ি এলাকায় শুরু হয়েছে ভূমিধস। ভারি বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে দু’জন মারা গেছেন এবং চট্টগ্রামে তিন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

বিভিন্ন এলাকায় বানভাসি মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রয়োজনীয় খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে মানুষ।

বন্যাকবলিত ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। বন্যাকবলিতদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে শুকনো খাবার ও নগদ টাকা। খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। তবে তা অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ। তারা বলছেন, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা চোখে পড়ার মতো নয়। দুর্গত এলাকায় পশুখাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অব্যাহত ভারি বৃষ্টি ও বন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। জেলা ও উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক এলাকায়।

তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে তিস্তা ব্যারাজের আশপাশে বসবাসরত মানুষজনকে নিরাপদে অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ব্যারাজ এলাকায় জারি করা হয়েছে সতর্কতা। বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার ১৭৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সবক’টি পয়েন্টেই বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নেত্রকোনার সোমেশ্বরী, কংস ও ধনুসহ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রংপুরের কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া, সদর ও পীরগাছার চরাঞ্চলের ৪০ গ্রাম তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ৭০ হাজার মানুষ। শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দুটি বাঁধ ভেঙে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পাঁচ হাজার পরিবার। কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে তীব্র হয়েছে যমুনা নদীর ভাঙন। চৌহালীতে আবাদি জমি ও কয়েকশ’ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগের সুরমা, কুশিয়ারা, কংস, সোমেশ্বরী, ফেনী, হালদা, মাতামুহুরী, সাঙ্গু, ধরলাসহ প্রধান নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এতে নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, কপবাজার, বান্দরবান, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, জামালপুর ও গাইবান্ধা জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, তৎসংলগ্ন ভারতীয় অংশে ভারতের সিকিম, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সংলগ্ন বিহার ও নেপালে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সারিয়াকান্দি ও কাজীপুর পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করবে। এতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

শনিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৯৩টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৭৯টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমায় পৌঁছে যাচ্ছে। ২৩টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

যে ২৩ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে : সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট, সিলেট, সুনামগঞ্জে, কুশিয়ারার পানি আমলশদি, শেওলা ও শেরপুর সিলেটে, মনু নদীর পানি মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও কমলগঞ্জে, ধলাই নদীর পানি কমলগঞ্জে, খোয়াই নদীর পানি বাল্লায়, সোমেশ্বরী নদীর পানি কলমাকান্দা, কংস নদীর পানি জারিয়া জাঞ্জাইলে, হালদা নদীর পানি নারায়ণ হাটে, সাঙ্গু নদীর পানি দোহাজারীতে, মাতামুহুরীর পানি চিরিঙ্গা পয়েন্টে, ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রামে, তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে, ঘাগট নদীর পানি গাইবান্ধায়, ব্রহ্মপুত্র নুনখাওয়া ও চিলমারীতে, যমুনা নদীর পানি ফুলছড়ি ও বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।


এখানে শেয়ার বোতাম