মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪

দরিদ্র ও ঝুঁকির্পূণ মানুষের জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা স্কীম চালুর পক্ষে মত রাশেদ খান মেননের

এখানে শেয়ার বোতাম

গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন প্রাক বাজেট ওয়েবিনার

অধিকার ডেস্ক:: করোনা মহামারিকালীন এই সময়ে এবং আগামী অর্থবছর জুডে ১.৫ কোটি দরিদ্র পরিবারের জন্য বিশেষ নগদ সহায়তা কর্মসুচী এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচীর প্রস্তাবনা নিয়ে গনতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন ”করোনায় অনিশ্চিত জীবন-জীবিকা: সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেট প্রত্যাশা ২০২০-২০২১” বিষয়ক শীর্ষক ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে ছিলেন জাতীয় সংসদের সাংসদ এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্টান্ডিং কমিটির সভাপ্রধান রাশেদ খান মেনন , সিপিবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স , সিপিবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ এর অধ্যাপক এবং সেন্টার অন বাজেট এন্ড পলিসি এর পরিচালক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ব্যারিষ্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড: সামিনা লুৎফা ।

রাশেদ খান মেনন বলেন, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা,বেসিক ইনকাম গ্রান্ট এবং সার্বজনীন পেনশন স্কীম চালুর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী আগামী দুই বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকবে তাই তিনি স্বাস্থ্য খাতকে বাজেটে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির অংশ হিসেবে নন কন্ট্রিবিউটরি ইউনির্ভাসেল পেনশন স্কীম চালুর উপর গুরুত্ব প্রদান করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম , দীঘমেয়াদী স্বাস্থ্য অব্যবস্থাপনার কথা বলেন এবং বাজেটে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে বর্তমান পরিস্থিতিতে জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগদ অর্থ প্রদানের কথা বলেন।

সিপিবি’র সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সক্ষমতা এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন। তিনি বলেন বর্তমান পরিস্থিতিতে উপকারভোগী জনগনের স্ট্যাটাস পাল্টাবে, দরিদ্ররা আরোও দরিদ্র হবে, মধ্যবিত্ত এবং নিম্মবিত্তরা দ্ররিদ্রের কাতারে চলে আসবে। ডিজিটাল সুবিধা কাজে লাগিয়ে এখন উপকারভোগীদের তথ্য উপাত্ত আপডেট করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের ৪৬৪ টি উপজেলার তথ্য উপাত্ত আপডেট করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে যেন প্রত্যেক উপকারভোগী প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ পায়। এছাড়াও সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহনের জন্যও তিনি সরকারকে অনুরোধ করেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ব্যারিষ্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, বাজেটে বরাদ্দ কত হলো এটি যেমন বিবেচনার বিষয় তেমনি বরাদ্দ অর্থ কিভাবে ব্যয় হচ্ছে সেটা ও জরুরী। কেননা বাজেট বরাদ্দ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার মৌলিক কোন পরিবর্তন আমরা আইনগত বা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এখন দেখতে পাচ্ছি না ।

অধ্যাপক ড: সামিনা লুৎফা বলেন,স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলনা। তাই বাজেটে কোভিড -১৯ ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরী।স্বাস্থ্যখাত এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জনগনের অংশগ্রহন এবং ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় ভাল উদাহরণগুলোকে সামনে এনে কাজে লাগাতে হবে।সরকারী এবং বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রযুক্তি বৃদ্ধির জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও অংশগ্রহণকারীগণের মুক্ত আলোচনায়,কৃষকের জন্য স্বল্পমেয়াদী বা দীর্ঘমেয়াদী বাজেট বরাদ্দ করা,প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ বাজেট দীর্ঘমেয়াদী না করে প্রতিবন্ধী অধিকার ও সুরক্ষা আইনে লিপিবদ্ধ কাজগুলোকে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা এবং আদিবাসি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা ও উন্নয়নের জন্য বাজেট বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।

অনলাইন ভিত্তিক এই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জনাব মনোয়ার মোস্তফা। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপ্রধান আমানুর রহমান আমান। মূল প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী মিনা। তথ্য প্রযুক্তি ও ডকুমেন্টেশনে ছিলেন সংগঠনের তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক নুরল আলম মাসুদ।


এখানে শেয়ার বোতাম