শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৬
শীর্ষ সংবাদ

থমথমে বসুরহাটে হরতালের আবহ

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 6
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসনের নেওয়া এই উদ্যোগে কার্যত অঘোষিত হরতাল চলছে এই এলাকায়।

সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বসুরহাটে ১৪৪ ধারা অব্যাহত থাকবে। সকাল থেকেই শহরে সাধারণ লোকজনের উপস্থিতি কম। দোকানপাট বন্ধ রয়েছে, যান চলাচল সীমিত। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সবমিলিয়ে হরতালের আবহ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির পরিপ্রেক্ষিতে আতঙ্কের কারণে অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকান খোলেননি। ১৪৪ ধারা কার্যকর হওয়ার আগেই বিভিন্ন সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখা হয়। পরে পুলিশ স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস সেগুলো সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

এর আগে রোববার রাতে ১৪৪ ধারা জারির তথ্য নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল হক মীর।

ইউএনও বলেন, ‘সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার বিচার দাবিতে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা সোমবার বিকেল ৩টায় বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন বসুরহাট রুপালি চত্বরে। ঠিক একই সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলও কাদের মির্জার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। সংঘাত এড়াতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।’

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যেন না হয় সেজন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। র‌্যাব-পুলিশ ও ডিবি প্রতিনিয়ত এলাকায় টহল দিচ্ছে।

এর আগে সবশেষ ২০১৩ সালে ছাত্রশিবির ও পুলিশের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল কোম্পানীগঞ্জ। ওই সময় প্রাণ হারান আটজন। প্রায় আট বছর পর আবার অশান্ত হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সংসদীয় এই এলাকা।

৩১ ডিসেম্বর থেকে ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌর মেয়র কাদের মির্জার ‘সত্য বচনে’ শুরু হয় অস্বস্তি। ধীরে ধীরে তা রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। পাশের জেলা ফেনীতেও ছড়িয়ে পড়ছে উত্তাপ। চলছে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি।

গত কিছুদিন কোম্পানীগঞ্জে কাদের মির্জার একক সভা-সমাবেশ হলেও শুক্রবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল মাঠে নামেন। এরপর দু’জনের অনুসারীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ৬০ জন আহত হন। এর মধ্যে অন্তত সাতজন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 6
    Shares