মঙ্গলবার, মে ১১
শীর্ষ সংবাদ

সেই ইউপি চেয়ারম্যান এবার ছবি তুলে ত্রাণ কেড়ে নিলেন

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 175
    Shares

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:: ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ছবি তোলার পর সেই ত্রাণ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে করোনার ত্রাণ ‘আত্মসাত’তে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদ করায় মারধোরের শিকার হয়েছেন ত্রাণ সংগ্রহকারী অসহায় পরিবার গুলো। ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নে।

এর আগে সেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ত্রাণ বিতরণসহ সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনিয়মের অভিযোগে আট জন ইউপি সদস্য অনাস্থা জানিয়েছিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার পরিবারগুলো এ ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন ৩নং মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান নুরুল আবছারকে।

এই বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ত্রাণ বিতরণের কথা বলে ডেকে নিয়ে ছবি তোলার পর সেই ত্রাণ কেড়ে নিয়ে। এর পর অসহায় ২৬ টি পবিবারের লোকজন আমার কাছে অভিযোগ করলে আমি ভুক্তোভোগীদের সরকারি ত্রাণ তুলে দেই।

রুহুল আমিন বলেন, সেই চেয়ারম্যানের কাছে এই ঘটনার লিখিত ব্যাখা চেয়েছি। সেই ব্যাখা জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হবে বলে জানান ইউএনও রুহুল আমিন।

তিনি আরো বলেন, ইউপি সদস্যদের অনাস্থা প্রস্তাবের একটি চিঠি আমি পেয়েছি। চিঠিটি জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করেছি। জেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশনা আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, এইগুলা আমার এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনগনকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা। এই ঘটনাগুলার পিছনে বিএনপির ইউপি মেম্বার জড়িত। আমি আমার লিখিত বক্তব্য জেলা প্রশাসক বরাবর জানাবো।

মারধরের শিকার কয়েকজন বলেন, গতকাল সকালে চেয়ারম্যান ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে শতাধিক ব্যক্তিকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান । এ সময় চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ও তার লোকজন ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে ছবি তোলেন। ছবি তোলার পর চেয়ারম্যানের ছোট ভাই মিজান ও তার লোকজন ত্রাণগুলো কেড়ে নেয়। এর প্রতিবাদ করলে আমাদের লাঠি ও ইট দিয়ে মারতে আসে। পরে ইউএনও আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেন বলেও জানান তারা।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত নুরুল আবছার ২০১৬ সালে হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার বিরুদ্ধে যেসব ইউপি সদস্য অনাস্থা এনেছেন তারা হলেন— গাজী মো. আলী হাসান, মো. নুরুল ইসলাম, মো. জাকির হোসেন, মো. আলী, মো. আবদুল লতিফ, লাকি আকতার. জালাল আহমেদ ও সাজেদা ইয়াসমিন।

গত শনিবার (৪ এপ্রিল) হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিনের কাছে আট জন নির্বাচিত সদস্য নুরুল আবছারেরকে নিয়ে অনাস্থাপত্র দেন। এ অবস্থায় অভিযোগগুলো বিবেচনা করে মির্জাপুর চেয়ারম্যান নুরুল আবছারকে বরখাস্তের দাবি করেন ওই আট ইউপি সদস্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চিঠিতে আট ইউপি সদস্যের অভিযোগ, চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যদের না জানিয়ে রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করছেন। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ইউপি সদস্যদের না জানিয়েই। এছাড়া করোনা নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ঘরবন্দি থাকা হতদরিদ্রদের তালিকা প্রতিস্থাপনের বিষয়টিও ইউপি সদস্যদের জানানো হয়নি। এর ফলে আদৌ করোনার ত্রাণ ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান তারা।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 175
    Shares