বুধবার, জানুয়ারি ২০

তাজরীনের শ্রমিক শারমিনের মৃত্যুর বিচারের দাবিতে শোক সমাবেশ

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 92
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: ২৫ নভেম্বর তাজরীন গার্মেন্টস অগ্নিকাণ্ডে আহত শ্রমিক শারমিন বেগমের ‍মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচার এবং আহত শ্রমিকদের তিন দফা দাবিতে শনিবার (২৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ ও শোক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ ও শোক সমাবেশে আন্দোলনরত শ্রমিক নাসিমা বেগমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক শামীম ইমাম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা শফিউল আলম আজাদ, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মমিন, কবি মাশুক শাহী, তাজরীনের আহত শ্রমিক আকাশ মৃধা ও রানা প্লাজা সার্ভাইভারস এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদুল হাসান হৃদয় প্রমুখ।

তাজরীন গার্মেন্টসের শ্রমিক শারমিন বেগম অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের তিন তলা থেকে লাফ দেয়। সেই সময় গর্ভবতী থাকায় তিনি বুকে এবং পেটে প্রচণ্ড আঘাত পান। তখনই তার ফুসফুসে পানি জমে এবং সুচিকিৎসার অভাবে নানা জটিল রোগে ভুগতে থাকেন। শারমিনের পরিবার তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে বসতভিটা বন্ধক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক লাখ টাকা ঋণ করে। অবশেষে চিকিৎসাহীনভাবে গত ২৫ নভেম্বর সকাল ৯ টার দিকে মারা যান। শারমিনের পুরো পরিবার ইতোমধ্যে ঋণে জর্জরিত। মা হারা দুই শিশু সন্তান এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতে দিকে ধাবিত হচ্ছে।

শোক সমাবেশে শ্রমিকনেতা শবনম হাফিজ বলেন, তিন দিন আগে শারমিন মারা গেলো। এর আগে আমেনা, রূপালীসহ চার জন মারা যায়। এরা সবাই তাজরীনের অগ্নিকাণ্ডে পঙ্গু হয়ে সুচিকিৎসা করতে পারেনি। মালিক পক্ষ এবং সরকার এই পঙ্গু শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের কোন ব্যবস্থা করেনি। আহত শ্রমিকরা কর্মহীন ও বেকার থাকার কারণে খাওয়া-পড়ার ন্যূনতম সংস্থান করতে গিয়ে বছরের পর বছর ঋণ করেছে। যেখানে শ্রমিকের খেয়েপড়ে বাঁচাটাই এক যুদ্ধ সেখানে সুচিকিৎসা তাদের জন্য বাতুলতা! শারমিন কিংবা আমেনারা মরেনি, তাদের হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার জন্য স্পষ্টভাবে দায়ী মালিকপক্ষ এবং সরকার। শ্রমিক হত্যার এই মিছিল এক্ষণি থামাতে হবে। তা না হলে এই আন্দোলনের শ্রমিকরা একজন একজন করে সবাই চিকিৎসার অভাবে মারা যাবে। শুধু তাজরীনের আহত শ্রমিকরা নয় অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে শ্রমিক হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আন্দোলনরত আহত শ্রমিক নাসিমা বেগম বলেন, তাজরীনের শ্রমিকরা ভীতু নয়। রাজপথে প্রয়োজনে জীবন দিবো তবুও শারমিনের হত্যার প্রতিশোধ নেবো। শারমিনের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত কিন্তু ভীত নই। আজ ৮ বছর ধরে আমরা ক্ষতিপূরণের দাবিতে আন্দোলন করছি। আমরা কোন ভিক্ষা কিংবা অনুদান চাই নাই। আমাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, বাস্তবসম্মত পুনর্বাসন এবং সুচিকিৎসা এবং খুনি গার্মেন্টস মালিক দেলোয়ারের বিচারের দাবি রাজপথে লড়াই করেই আদায় করবো। আজকের এই কর্মসূচিতে জরিনা আপার থাকার কথা ছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি থাকতে পারেননি। সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থতার করণে রাশিদাকে বাড়ীতে পাঠানো হয়েছে। আমাদের এই অবস্থান কর্মসূচিতে প্রতিদিন কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কিন্তু আমরা আন্দোলন থেকে একটুও পিছপা হইনি এবং হবোও না।

আমরা প্রধানমন্ত্রী ও শ্রম প্রতিমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাই, অবিলম্বে খুনি গার্মেন্টস মালিক দেলোয়ারের বিচার এবং তিন দফা বাস্তবায়ন করুন। তা না হলে পুরো শ্রমিক এলাকায় আগুন জ্বলবে।

 


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 92
    Shares