রবিবার, জানুয়ারি ২৪

ঢাবি উপাচার্যের বাসভবন, ডিনের কার্যালয় ‘ভূতের আস্তানা’

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: ভূত তাড়ানোর লক্ষ্যে ধোঁয়া-ওঠা ধূপদানি হাতে এগিয়ে চলেছেন দুই ‘ওঝা’। পেছনে অর্ধশতাধিক অনুসারী। সবারই লক্ষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুর্নীতি ও জালিয়াতির ভূত তাড়াবেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভূতের দেখা না পেয়ে ঢাবি উপাচার্যের বাসভবন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিনের কার্যালয় ও রোকেয়া হলের সামনে লিখে রাখেন, ওগুলো ‘ভূতের আস্তানা’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুর্নীতি ও জালিয়াতির ভূত তাড়াতে গতকাল রোববার দুপুরে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে থেকে দুজন ওঝার নেতৃত্বে এই অভিনব কর্মসূচি পালন করেন একদল শিক্ষার্থী। তাঁরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্যাকাশে জেঁকে বসেছে দুর্নীতি ও জালিয়াতির ভূত। এই ভূতকে তাড়াতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

গত মার্চে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একটি সন্ধ্যাকালীন স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান ৩৪ নেতা-কর্মীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভর্তির সুযোগ দেওয়ায় উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান ও অনুষদের ডিন শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের পদত্যাগ, সেই ৩৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিলসহ তাঁদের মধ্যে ডাকসু ও হল সংসদে নির্বাচিত ৮ নেতার পদত্যাগ এবং রোকেয়া হলে নিয়োগ-বাণিজ্যের ঘটনায় জড়িত হল সংসদের ভিপি ইসরাত জাহান ও জিএস সায়মা প্রমির পদত্যাগ—এই তিন দাবিতে ভূত তাড়ানো কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও স্বতন্ত্র জোটের নেতা-কর্মীরা যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করেন। ছাত্রদলের একজন নেতাকেও এই কর্মসূচিতে দেখা গেছে।

বেলা একটায় টিএসসির সামনে থেকে স্লোগান দিতে দিতে মিছিল নিয়ে প্রথমে রোকেয়া হলের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এই হল থেকে দুর্নীতির ভূত তাড়াতে হলের সামনে মিনিট দশেক ঝাড়ফুঁক দেন দুই ওঝা। আশপাশের এলাকায় থাকা শিক্ষার্থী ও পথচারীর দল ভিড় করে এই দৃশ্য দেখছিলেন। এরপর তাঁরা যান উপাচার্যের বাসভবনের সামনে। সেখানেও কয়েক দফায় ঝাড়ফুঁক চলে, উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে দেওয়া হয় নানা স্লোগান। উপাচার্যের বাসভবনের বাইরের ফটকে মার্কার কলমে ‘ভূতের আখড়া’, ‘চিরকুট ভূত’, ‘ঘোস্ট প্যালেস’ ইত্যাদি লিখে রেখে যান শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্যের বাসভবনের পর মল চত্বর হয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ এলাকায় যান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। অনুষদের এমবিএ ভবনের সামনে দুর্নীতি ও জালিয়াতির ভূত তাড়াতে নিজেদের কেরামতি দেখাতে ঝাড়ফুঁক দেন ওঝারা। অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই দৃশ্য দেখেন।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে গিয়েও তাঁরা ঝাড়ফুঁক করেন। পরে ডাকসু কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা।

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম বলেন, ‘এই কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্নীতি ও জালিয়াতির ভূত তাড়াতে আমরা সক্ষম হইনি। এই ভূত তাড়াতে হলে আন্দোলনের বিকল্প নেই।’ দাবি আদায়ে আগামী বুধবার ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আশরাফুল হক প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উপাচার্যকে ভিপি নুরুলের চিঠি

নিয়মবহির্ভূতভাবে ভর্তি হওয়া ৩৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিল, তাঁদের মধ্যে নির্বাচিত ৮ জনের পদ শূন্য ঘোষণা ও ডিন শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের অপসারণ দাবি করে গতকাল উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি মো. আখতারুজ্জামানকে চিঠি দিয়েছেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক। চিঠিতে এসব দাবির বিষয়ে উপাচার্যের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ‘সু-মর্জি’ প্রত্যাশা করেন তিনি।


এখানে শেয়ার বোতাম