শনিবার, মে ৮
শীর্ষ সংবাদ

ডেঙ্গু : সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে বগুড়া বাম গণতান্ত্রিক জোটের স্মারকলিপি পেশ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক ::  ডেঙ্গু মহামারী থেকে জনগণকে রক্ষায় সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর বগুড়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাম গণতান্ত্রিক জোটের স্মারকলিপি পেশ।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় এডিস মশা নির্মূল, সরকার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপি প্রদানকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রঙ্গণে জোটের বগুড়া জেলার সমন্বয়ক, গণসংহতি আন্দোলন বগুড়ার সমন্বয়ক আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি জেলা সভাপতি জিন্নাতুল ইসলাম, বাসদ জেলা আহ্বায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা নেতা আমিনুল ইসলাম, সিপিব জেলা সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ, বাসদ জেলা সদস্য সচিব সাইফুজ্জামান টুটুল প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে এবছর একটু আগে ভাগেই অর্থাৎ জুন মাস থেকেই এডিস মশার আক্রমণে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রথমে রাজধানী ঢাকায় এবং পরবর্তীতে সারা দেশে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এপর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রায় শতাধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। এদের মধ্যে ১ জন সিভিল সার্জন, ২ জন নারী চিকিৎসক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী আদিবাসী ছাত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিবের স্ত্রী, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপির স্ত্রীও রয়েছে। কিন্তু ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদ্বয়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথমে ডেঙ্গুর আক্রমণকে গুজব বলেছেন, আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যাকে কমিয়ে দেখিয়ে তাদের অবহেলা ও দুর্নীতিকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ডেঙ্গুর ভয়াবহতা এতোই বেশি যে, একে কোন ভাবেই ঢেকে রাখা সম্ভব হয়নি। তারপরও সরকারি ভাষ্যে আক্রান্ত ও মৃতের প্রকৃত সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গত ফেব্র“য়ারি মাসে জরিপ করে মার্চ মাসেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সিটি কর্পোরেশনকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এবছর বাড়বে বলে সতর্ক করা হয়েছিল। তারপরও সিটি কর্পোরেশন এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তাছাড়া মশা নিধনে যে ওষুধ ছিটানোর কথা তাও নিয়মিত ছিটানো হয়না। আবার মশা নিধনে অকার্যকর প্রমাণিত হওয়ার পরও সেই ওষুধই বছরের পর বছর ধরে ছিটানো হচ্ছে। ওষুধ ক্রয়ে দুর্নীতির সাথে যুক্তদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

ডেঙ্গু মশার প্রজনন সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এটা সবাই জানার পরও কোন আগাম সতর্কতা ও মশা নিধন কার্যক্রম যথাসময়ে না নেয়ায় আজ ডেঙ্গু মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে। জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে ডেঙ্গু ঢাকা থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সারা দেশে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আতংক বহুগুনে বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে আগামী ১২ আগস্ট ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৯ তারিখ থেকে ছুটিতে রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৫০/৬০ লক্ষ লোক সারা দেশে গ্রামের বাড়িতে যাবে স্বজনদের সাথে ঈদ করতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এতে করে সারা দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আশংকাজনক হারে ছড়িয়ে পড়বে। এমনকি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। জেলাসমূহ এবং গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু রোগির চিকিৎসা ব্যবস্থার তেমন কোন আয়োজন না থাকায় মৃত্যুমিছিলও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনিতেই ঢাকায় হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো ডেঙ্গু সনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় হিমসিম খাচ্ছে। আর এ সুযোগে বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে বাণিজ্য শুরু হয়েছে। ডেঙ্গু সনাক্তকরণ কীট এর কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা ১৪০ টাকার কীট ৪০০ টাকায় বিক্রি করে মুনাফা লুটছে।

এ অবস্থায় দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু মশা নিধন ও আক্রান্তদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে যথাযথ সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। এলক্ষে স্মারকলিপির মাধ্যমে নিন্মোক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবি জানানো হয়।

১. ঈদের আগেই সারা দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডেঙ্গু সনাক্তকরণ কীট প্লাাজমা, পল­াটিলেট টেস্টের রিএজেন্ট ও মশা নিধনের কার্যকর ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
২. এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে ও নির্মূলে নিম্নমানের ওষুধ নয়, কার্যকর ওষুধ আমদানি করে প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউপিতে পরিচ্ছন্ন কর্মীসহ জনবল ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
৩. সকল সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে ডেঙ্গু সনাক্তকরণ ও আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গুর চিকিৎসায় বাণিজ্য বন্ধ কর। হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা বাড়াতে হবে।
৪. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাঝে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।
৫. গণমাধ্যমে (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়) ডেঙ্গু বিষয়ে জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন ব্যাপক আকারে প্রচার করতে হবে। নেতা-নেত্রীদের ছবির পোস্টার-বিলবোর্ড নয়, ডেঙ্গু সচেতনতার পোস্টার, বিলবোর্ড প্রচার করতে হবে।
৬. সরকার ও সিটি কর্পোরেশনের অবহেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণকারী প্রতিটি নাগরিকের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও তাদের পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. হাসপাতালের পাশাপাশি নগর শহরের বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার, এমনকি মাঠেও আপদকালীন সাময়িক তাবু, বহনযোগ্য বেড দিয়ে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


এখানে শেয়ার বোতাম