বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫
শীর্ষ সংবাদ

ডিসি সুলতানার পরিবারের দখল করা জমি বুঝে পেল প্রকৃত মালিক

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 5.9K
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: ডিসি সুলতানার পরিবারের দখল করা জমি প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দিলো আদালত। ক্ষমতার দাপটে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার জিয়াবাড়ি এলাকায় দরিদ্র পরিবারের ১১ বিঘা জমি দখল করে চাষাবাদ করে আসছিলেন। আদালতে বাটোয়ারা মামলা করার দীর্ঘ ১৪ বছর পর আদালতের রায়ে বুধবার পুলিশ ও আদালতের কর্মচারীদের উপস্থিতিতে জমিটির প্রকৃত মালিক ওই এলাকার আমিরুল ইসলাম ও ভাই বোনদের বুঝিয়ে দেয়া হয়।

পুলিশের উপস্থিতিতে ঢোল পিটিয়ে লাল নিশান টানিয়ে দিয়ে জমিটি চিহ্নিত করে দেয়া হয়। যদিও জমিটি তাদের কেনা সম্পত্তি বলে দাবি করেছেন ডিসি সুলতানার পরিবারের লোকজন।

জানা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের হাফিজাবাদ মৌজার ছয়টি দাগে প্রায় ১১ বিঘা জমির ওয়ারিশ সূত্রে মালিক ওই এলাকার আমিরুল ইসলাম ও তার ভাই বোনেরা। তারা তাদের দাদী রমজানী ওরফে রমজাদী বিবির ওয়ারিশ হিসেবে জমিটির মালিক।

কিন্তু জমিটি জাল দলিল করে কুড়িগ্রামের আলোচিত ডিসি সুলতানার বাবা মোহাম্মদ আলী, তার ভাই আব্দুল জব্বার ও স্বজনরা দখল করে চাষাবাদ করছিলেন। ২০০৬ সালে পঞ্চগড় আদালতে বাটোয়ারা মামলা করে আমিরুল গং। চার বছর পর মামলার রায় পায় তারা। কিন্তু এরপর অপর পক্ষ আদালতে বার বার আপিল করতে শুরু করে। এমনকি উচ্চ আদালতেও আপিল করে তারা। আদালত তাদের আপিল খারিজ করে দেয়। তারপরও তারা ওই জমি ভোগ দখল করতে থাকে। গত ১২ই মার্চ আদালত আমিরুলদের অনুকূলে রায় দেয় এবং বুধবার জমিটি আদালতের মাধ্যমে তাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়। এ সময় পঞ্চগড় সদর থানার একদল পুলিশ ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশরা উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আমিরুল ইসলাম বলেন, কুড়িগ্রামের সদ্য প্রত্যাহার করা ডিসি সুলতানার বাবা মোহাম্মদ আলী ও তাই ভাইসহ স্বজনরা আমাদের ১১ বিঘা জমির জাল দলিল করে জমিটি দখল করে চাষাবাদ করে আসছিল। মোহাম্মদ আলীর এক মেয়ে ডিসি এক ছেলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এলাকায় সুলতানার যে ভাইয়েরা আছে তারা আমাদের প্রতিনিয়ন ভয়ভীতি দেখাতো। এমনকি বিভিন্ন মামলা দিয়ে তারা আমাদের হয়রানি করেছে। প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা তাদের ভয়ে আমাদের জমিতে যেতে পারিনি। আমরা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দীর্ঘদিন পরে হলেও আমরা আমাদের প্রাপ্ত জমির দখল বুঝে পেয়েছি।

ডিসি সুলতানার ভাই বাবুল হোসেন বলেন, যে ১১ বিঘার উপর আদালত রায় দিয়েছে সেখানে আমাদের জমি অল্প। আর সে জমিও আমার বাবা আমিরুলের দাদীর ভাই সলিম উদ্দিনের কাছে কিনে নিয়েছে। আমরা আদালতে প্রয়োজনীয় কাগজ দেখাতে পারিনি বলে আদালতে তারা রায় পেয়েছে। তবে ডিসি সুলতানা এ বিষয়ে কোন প্রভাব খাটান নি বলে দাবি করেন তিনি।

পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির তমিজ উদ্দিন জানান, গত ১২ মার্চ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তেঁতুলিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক লিটন চন্দ্র রায় রেকর্ড মূলে বাদী আমিরুল ইসলামের অনুকূলে রায় প্রদান করে। সেই রায় অনুযায়ী আদালতের নির্দেশে আমরা বাদীকে জমি বুজিয়ে দিয়েছি।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 5.9K
    Shares