শনিবার, এপ্রিল ১৭
শীর্ষ সংবাদ

ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই করা দু’চালক আটক, ব্র্যাকের জ্যাকেটসহ গাড়ি জব্দ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অফিসার পরিচয়ে মেরিন ড্রাইভসহ পর্যটন এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে বেসরকারি এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের চুক্তিভিত্তিক দুইজন গাড়ি চালককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার ভোররাত ও সকালে মেরিন ড্রাইভের হিমছড়ি এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে হিমছড়ি পুলিশের সহযোগিতায় কক্সবাজার ডিবির সদস্যরা তাদের আটক ও ব্র্যাক এনজিও’র এক্স নোহা মডেলের দু’টি গাড়িও জব্দ করে।

গ্রেফতারের সময় তাদের গায়ে ব্র্যাকের অফিসিয়াল জ্যাকেট পরিহিত ছিল। আটকরা হলেন- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সুজা কাঠগড় এলাকার রাখাল দাশের ছেলে শিবু দাশ শুভ (৩৭) ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পূর্ব চালিয়াপাড়া নাপোড়ার বাসিন্দা মীর কাশেমের ছেলে মো. এরশাদ মিয়া (৩০)।

তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাতায়াতের জন্যই ব্র্যাকের ভাড়া গাড়িগুলো চালাতেন। সড়ক ও পর্যটন এলাকার বিভিন্ন স্থান চেনার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে গো-বেচারা টাইপের লোকজনকে ডিবি পরিচয়ে তারা গাড়িতে তুলে নির্জনে নিয়ে প্রহারের পর সবকিছু ছিনিয়ে নিয়ে তাড়িয়ে দিত বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে, গ্রেফতাররা ব্র্যাকের কেউ নন বলে দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন ব্র্যাকের হেড অব মিডিয়া অ্যান্ড এক্সটার্নাল রিলেশনস রাফে সাদনান আদেল।

ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) কক্সবাজার জেলার ইন্সপেক্টর মানস বড়ুয়া জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে অভিযোগ আসছিল ডিবি পরিচয়ে একটি চক্র লোকজনকে ধরে নিয়ে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে। এ অভিযোগ পাবার পর ডিবি সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় ফাঁদ পাতে। সেই ফাঁদেই সোমবার ভোরে প্রথমে আটক হন শিবু দাশ শুভ।

তার স্বীকারোক্তি মতে সহযোগী হিসেবে এরশাদ মিয়াকে আটক করা হয়। তারা নিজেদের অপরাধ কর্মের অনেক কিছু স্বীকার করে বলেছে, ব্র্যাকের জ্যাকেট পরে সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ ছিনতাই কাজ করে আসছে। বিস্তারিত জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে কক্সবাজার সৈকতের ডায়বেটিক পয়েন্ট থেকে নাজিরার টেক শুঁটকি মহলের আড়ৎদার জাহাঙ্গীর আলম নামে একজনকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় চক্রটি। তারা তাকে মেরিন ড্রাইভের হিমছড়ি সৈকতের জনশূন্য এলাকায় নিয়ে প্রহারের পর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়।

ছাড়া পেয়ে ভিক্টিমের বড় ভাই অলি আহমদ কক্সবাজার সদর থানায় সাধারণ ডায়রি করেন। জাহাঙ্গীর লাবণী ও সুগন্ধা বিচ এবং অন্য শুঁটকি দোকান থেকে আমদানির টাকা তুলে আড়তে ফেরার পথে ভুঁয়া ডিবির খপ্পরে পড়েছিল বলে জানান তার (জাহাঙ্গীরের) ছোট ভাই আশরাফুল ইসলাম।

এদিকে, আটকদের গায়ে ব্র্যাকের জ্যাকেট থাকায় এ ঘটনায় একটি বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির হেড অব মিডিয়া অ্যান্ড এক্সটার্নাল রিলেশনস রাফে সাদনান আদেল। তিনি উল্লেখ করেন, দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার অংশ হিসেবে ব্র্যাক মানবিক সহায়তা কর্মসূচি, কক্সবাজার নিজস্ব পরিবহনের পাশাপাশি রেন্ট-এ-কার থেকে বিভিন্ন সময়ে দৈনিক এবং মাসিক চুক্তিতে গাড়ি সেবাগ্রহণ করে থাকে।

সোমবার কক্সবাজার ঝাউতলাস্থ সায়রা রেন্ট-এ-কারের একটি গাড়ি ব্র্যাক দৈনিক ভিত্তিতে ভাড়া করে। সকালে এরশাদ মিয়া দৈনিক ভাড়া করা গাড়ির চালক হিসেবে মেরিন ড্রাইভস্থ ব্র্যাকের পানি পরীক্ষাগার অফিসের সামনে গাড়ি নিয়ে আসে। সেখান থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তাকে আটক করে।

তিনি আর জানান, ব্র্যাকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ভাড়াকৃত কোনো গাড়ির চালক ব্র্যাকের কর্মী নন এবং যেকোনো পর্যায়ে এদের কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের সাথে ব্র্যাকের কোনো সম্পর্ক নেই। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে তথ্য দিয়ে সর্বাত্মক সহায়তা করে ব্র্যাক।

অপরদিকে, সায়রা রেন্ট-এ-কারের স্বত্বাধিকারী জামালুল হক মামুন বলেন, এরা আমাদের কেউ নন। আমি ভেন্ডর হিসেবে গাড়ি মালিক থেকে ভাড়া নিয়ে ব্র্যাক বা অন্য এনজিওতে সরবরাহ দিয়ে থাকি। তবে, এদের অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি পাওয়া জরুরি।


এখানে শেয়ার বোতাম