রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮
শীর্ষ সংবাদ

ডা. মনীষা চক্রবর্তী রিকশা চালকদের দাবিতে আমরণ অনশনে বসবেন কাল

এখানে শেয়ার বোতাম

বরিশাল প্রতিনিধি :: বরিশালে বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া রিক্সা উচ্ছেদ বন্ধ, প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে রিক্সা চলাচলের অনুমতি এবং প্রশাসন কর্তৃক জব্দকৃত প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ব্যাটারি মোটর ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে আগামীকাল থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আমরণ অনশন শুরু করতে যাচ্ছেন ডা: মনীষা চক্রবর্ত্তী।

প্রায় দেড় মাস ধরে বরিশালে রিক্সা শ্রমিকদের উপর নির্মম নির্যাতন চলছে। ধারাবাহিক আন্দোলন, বারবার প্রশাসনের সাথে কথা বলার পরও কোন উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন।
শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে এরকম ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হলেন ডা. মনীষা।

ডা: মনীষা চক্রবর্ত্তী একটি ভিডিও বার্তায় জানান, বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া রিক্সা উচ্ছেদ বন্ধ, প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে রিক্সা চলাচলের অনুমতি এবং প্রশাসন কর্তৃক জব্দকৃত প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ব্যাটারি মোটর ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে আমরা ধারাবহিক আন্দোলন করেছি। স্মারকলিপি পেশ, শ্রমিকদের সন্তানদের মানববন্ধন, বরিশালবাসীর গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, সংহতি সমাবেশসহ টানা কর্মসূচিতেও বরিশাল সিটি করপোরেশন দাবি না মানায় আগামীকাল থেকে শ্রমিকদের নিয়ে অনশন শুরু করবো।

ডা. মনীষা অনশন কর্মসূচীতে বরিশালবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন ।

এদিকে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এবং সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার জানানো হয়, বরিশাল রিকশা ভ্যা ন শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ডা. মনীষার নেতৃত্বে এই কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছে।

বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদ বন্ধ ও নীতিমালার ভিত্তিতে ব্যাটারিচালিত রিক্সা চলাচলের দাবিতেই গরিবের ডাক্তার বলে বিখ্যাত মনীষার অনশন।

প্রশাসনের হাতে জব্দ প্রায় ২ কোটি টাকা অর্থমূল্যের ব্যাটারি ও মটর রিকশা শ্রমিকদের ফিরিয়ে দেয়ার দাবিও করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোন ঘটনা ঘটলে সিটি করপোরেশন ও প্রশাসন দায়ী থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এক যুক্ত বিবৃতিতে বাসদের জেলা আহ্বায়ক ইমরান হাবিব রুমন, সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী, বরিশাল মহানগর রিকশা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দোজা সৈকত, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের রুস্তম হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, ব্যাটারি চালিত রিকশা মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির সভাপতি শাহজাহান মিস্ত্রি অনশন কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ১৯ শে আগস্ট থেকে কোন ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বরিশাল শহরে দফায় দফায় ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদের নামে নির্মম প্রশাসনিক অভিযান চলছে। প্রায় দুই মাসব্যাপী এই অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক করা হয়েছে এবং প্রায় প্রতিটি গাড়ির ব্যাটারী-মটর খুলে রাখা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি দরিদ্র রিক্সাচালকরা শিকার হয়েছেন নানাবিধ আর্থিক হয়রানি ও নির্যাতনের।

শ্রমিকরা বিবৃতিতে বলেন, “সিটি করপোরেশনের মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আমরা তার সাথে দেখা করেছি, আবেদন করেছি আমাদের জীবিকা রক্ষার। তিনি শতাধিক রিকশা শ্রমিকদের সামনে বলেছেন, ‘তার শহরে গরীব মরবে না, রিক্সা চলবে।’ অথচ আমরা শুনতে পেয়েছি, বর্তমানে প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ সিদ্ধান্তে এই নির্মম অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আমরা বারবার মেয়র মহোদয়ের সাক্ষাৎপ্রার্থী হলেও, এই দুইমাস যাবৎ দুভার্গ্যবশত তার সাক্ষাৎ পাইনি। পুলিশ কমিশনার, ডিসি ট্রাফিকের সাথে সাক্ষাৎ করেও আমাদের যুক্তিগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’

বিবৃতিতে শ্রমিকরা বলেন, ‘আমরা মানববন্ধন-সমাবেশ, স্মারকলিপি পেশ, শ্রমিকদের সন্তানদের মানববন্ধন, বরিশালবাসীর গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, নাগরিক সমাবেশ, প্রচারপত্র বিলি করে আসছি। দুই মাস যাবৎ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পরিচালনার পরও আমাদের দাবি আদায়ে কোন উদ্যোগ না নেয়া, এমনকি দেখা পর্যন্ত না করায় আমরা জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ এধরনের কর্মসূচি নিতে বাধ্য হয়েছি।’


এখানে শেয়ার বোতাম