সোমবার, মার্চ ৮
শীর্ষ সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ের “দিশারী ক্লাব”, নীরবে কাঁদছে শত প্রতিভা

এখানে শেয়ার বোতাম

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবস্থিত “দিশারী ক্লাব”। ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালে। এ ক্লাবের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গণকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। মাদক থেকে যুব সমাজকে ফিরিয়ে খেলার মাঠে মনোনিবেশ করা। এখানে রয়েছে এক ঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়ার। যাদের রক্তে মিশে আছে খেলা আর খেলা। কিন্তু আথিক সঙ্কটের কারনে খেলার জন্য সরঞ্জাম ও নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় পিছিয়ে পড়ছে ঠাকুরগাঁওয়ের “দিশারী ক্লাব”, নীরবে কাঁদছে শত প্রতিভা।

রবিবার সরেজমিনে দিশারী ক্লাব ঘুরে জানা যায়, এ ক্লাবে অনেক তরুন উদীয়মান ও প্রতিভাবান খেলোয়ার রয়েছে। যাদের মধ্যে কেউ অনেক ভালো ফুটবল, কেউ ভালো ক্রিকেট, কেউ দাবা, আবার কেউ ব্যাটমিন্টন ভালো খেলে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সেই প্রতিভাবান অনেক খেলোয়ারই অসচ্ছল পরিবার থেকে উঠে আসা। তাদের মধ্যে কারো বাবা রিক্সা চালক, ভ্যান চালক, দিনমজুর, কেউ বা আবার এতিম। তাই খেলার প্রতি তাদের শত টান থাকা সত্ত্বেও অভাবের পিছুটান তাদের খেলায় বাঁধাগ্রস্ত করছে। ক্লাবটি স্থানীয়দের সামান্য সহযোগিতায় কোন মতে পরিচালিত হলেও সেসব খেলোয়ারদের খেলার খরচ যোগার করতে পারছেনা ক্লাবটি। ফলে অনেক মেধাবী ও প্রতিভাবান গরীব খেলোয়ার শুধু মাত্র খেলার সুযোগ সুবধিা না পাওয়া অন্য পেশায় নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে। এরকম ভাবে চলতে থাকলে এসব খেলোয়ার একটা সময় বিলীন হয়ে যাবে এবং নানা রকম অপসংস্কৃতিতে লিপ্ত হবে বলে ধারণা করছে সুশিল মহল। তাই সরকারের কাছে এই ক্লাবের সদস্য ও খেলোয়ারদের দাবি খেলার জন্য যাবতীয় সুযোগ সুবিধা যেন এই ক্লাবটিকে দেওয়া হয়। তাহলে একদিকে যেমন তরুন সমাজ খেলার মধ্যদিয়ে জীবনের সজীবতা ধরে রাখতে পারবে অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গণ আরও এগিয়ে যাবে।

দিশারী ক্লাবের তরুন ফুটবলার সৌরভ বলেন, আমরা ইতিমধ্যে স্থানীয়ভাবে অনেক ভালো ফুটবল খেলেছি। কয়েকবার কয়েকটি টুর্ণামেন্টে চ্যাম্পিয়নও হয়েছি। দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা দিশারী ক্লাবের সব খেলোয়ারই প্রস্তুত। কিন্তু শুধুমাত্র খেলার সুযোগ সুবিধা ও সরঞ্জাম না পাওয়ায় আমরা ভালো ও বড় বড় টুর্ণামেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারছিনা। তিনি বলেন, একটি খেলা অংশগ্রহণ করতে অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু আমরা অর্থের অভাবে এসব টুর্নামেন্ট অংশ গ্রহণ করতে পারছিনা। এ সময় তিনি সমাজের ও জেলার যারা নীতি নির্ধারক রয়েছেন তাঁদের সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন যেনো এই ক্লাবটিকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

দিশারী ক্লাবের আরেক প্রতিভাবান খেলোয়ার আশিকুর রহমান ভারাক্রান্ত হৃদয়ে একটু চাপা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে খেলাটা ছেড়ে দেই। এমন ইচ্ছা শুধু আমার একার জাগেনা, হয়তো আমার মতো এ ক্লাবের অনেক খেলোয়ারের জাগে। কারন আমরা এতো ভালো খেলেও নিজেদের জায়গা মতো নিয়ে যেতে পারছিনা। পারছিনা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গণের বড় কোন ভূমিকা রাখতে। একমাত্র কারন আমরা আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী না। সরকারিভাবেও কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছিনা। তাই আমি মনে করি গরীব হয়ে জন্মনিয়ে খেলার মাঠে যাওয়াটা আমাদের জীবনের পাপ ছিলো। হয়তো খেলাকে ভালোবেসে আমরা ভুল করেছি। তবে আমাদের বিশ্বাস বাংলাদেশের ক্রীড়ামোদী সরকার আমাদের উপর সদয় হবেন। আমাদের মতো গরীব খেলোয়ারদের পাশে দাড়াবেন।

এ বিষয়ে দিশারী ক্লাবের সাধারন সম্পাদক মো: সবুজ জামান লিটন বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলায় আমাদের ক্লাবের একটি সুনাম আছে। আর এ সুনাম আমরা অর্জন করেছি ভালো খেলার মধ্য দিয়ে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সংস্কৃতিক কাজে অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে। এ ক্লাবটি ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। আমাদের তেমন কোন তহবিল নেই। তবে রয়েছে অনেক উদীয়মনা ও প্রতিভাবান তরুন খেলোয়ার। যারা ইতিমধ্যে জেলা ও জেলার বাইরে ভালো খেলে সুনাম অর্জন করেছে। কিন্তু খেলতে গিয়ে এসব খেলোয়ারদের প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। যেমন তাদের ভালো কোন সরঞ্জাম ও খেলার যাবতীয় সুযোগ সুবিধা তারা পায়না। এত করে অনেক খেলোয়ার ঝড়ে পড়েছে। আমরা স্থানীয় লোকজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লাবটি কোন মতো প্রতিষ্ঠিত করেছি মাত্র। কিন্তু ক্লাবটি এখনো রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার কারনে এটা খেলোয়ারদের তেমন কাজে আসছেনা। তাদের এগিয়ে নিতে পারছেনা। আমরা ২০১৩ সালে একবার ঠাকুরগাঁও জেলায় সেকেন্ড ডিভিশন ফুটবল টুর্ণামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। তারপরও আমরা তেমন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছিনা। এ দুর্ভাগ্য যেনো মেনে নেওয়ার মতো নয়। তাই আমি সরকারের প্রতি অনুরোধ করবো যেনো এ ক্লাবটি রেজিষ্ট্রেশন খুব তারাতারি দেওয়া হয় এবং এই সব প্রতিভাবান খেলোয়ারদের সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করেন। কারন একটি মানুষের দেহ ও মনকে ভালো রাখতে হলে খেলার কোন বিকল্প নেই।


এখানে শেয়ার বোতাম