শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কার দিতে আরও একটি প্রস্তাব

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 8
    Shares

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ২০২১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। কসোভো এবং সার্বিয়াকে শান্তি চুক্তির আওতায় আনতে ভূমিকা রাখায় পুরস্কারটির জন্য তার নাম প্রস্তাব করেছেন সুইডেনের আইনপ্রণেতা ম্যাগনাস জ্যাকবসন। এরআগে ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দীর্ঘদিন ধরে বিবাদমান ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে চুক্তির আওতায় আনতে মধ্যস্থতার জন্য ট্রাম্পকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব করেন নরওয়ে পার্লামেন্টের সদস্য ক্রিশ্চিয়ান টাইব্রিং-জিজেডে। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোনেও মন্তব্য করেনি নরওয়ের নোবেল কমিটি।

প্রসঙ্গত, কসোভোর আলবেনীয় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সার্ব বাহিনীর যুদ্ধ শেষ হয় ১৯৯৮-৯৯ সালে। ওই যুদ্ধে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে ন্যাটো। এতে কসোভো থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় দেশটি। এর এক দশক পর ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বিয়া থেকে পৃথক হয় কসোভো। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় স্বাধীনতা ঘোষণা করে তারা। এ মাসের প্রথম সপ্তাহে ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার)প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সার্বিয়া ও কসোভো অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেI ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ ও কসোভোর প্রধানমন্ত্রী, আব্দুল্লাহ হোতি পারস্পরিক সহযোগিতায় সম্মত হন। ওভাল অফিসে দুই নেতার পাশে দাঁড়িয়ে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমি এই ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দিতে পেরে গর্বিতI

ট্রাম্পকে দ্বিতীয় মনোনয়ন দেয়ার ঘোষণা দিয়ে জ্যাকবসন শুক্রবার টুইটে বলেন, ‘হোয়াইট হাউজে স্বাক্ষরিত শান্তি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের যৌথ চুক্তির জন্য আমি ট্রাম্প প্রশাসন, সার্বিয়া এবং কসোভোকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে মনোনীত করার প্রস্তাব দিয়েছি। বাণিজ্য এবং যোগাযোগ শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।’

দুই দিন আগে (৯ সেপ্টেম্বর) ২০২১ সালের শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করা হয় আমিরাত-ইসরায়েল চুক্তিতে মধ্যস্থতা করার প্রসঙ্গ টেনে। ১৯৭৯ সালে মিসর ও ১৯৯৪ সালে জর্ডানের পর তৃতীয় আরব রাষ্ট্র হিসেবে গত ১৩ আগস্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। দুই দেশের টেলিফোন যোগাযোগ সচল করার পাশাপাশি নিয়মিত বিমান চলাচলও শুরু হয়েছে। চুক্তিতে ভূমিকা রাখায় ২০২১ সালেল নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাম প্রস্তাব করেন ক্রিশ্চিয়ান টাইব্রিং। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা প্রশংসনীয়।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘ট্রাম্প পৃথিবীর অনেক দেশে শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন। সামনের বছর পুরস্কারটির জন্য তারই মনোনীত হওয়া উচিত।’

নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করতে ট্রাম্পের নাম প্রস্তাবের ঘটনা এ বছরই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প পুরস্কার জেতেননি।

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি শুরু হয় মূলত পূর্ববর্তী বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে। তখন মনোনয়ন দেওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত ব্যক্তিদের কাছে আমন্ত্রণপত্র পাঠায় নোবেল কমিটি। এদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমপি, মন্ত্রী), বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান, ইন্টারন্যাশনাল কোর্টস অব ল, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, দর্শন, আইন ও ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক; শান্তি গবেষণা ইন্সটিটিউটের নেতা, পররাষ্ট্রবিষয়ক ইন্সটিটিউট; শান্তিতে নোবেল জয়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান; নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সাবেক ও বর্তমান সদস্য এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউটের সাবেক উপদেষ্টারা।

নোবেলপ্রাইজ.ওআরজি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিদের দ্বারা মনোনীতদের মধ্য থেকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদানের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই এবং বিজয়ীর নাম ঘোষণার কাজটি করে থাকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী বাছাইয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। আর এ কমিটিকে নিয়োগ দেয় নরওয়ের পার্লামেন্ট স্টর্টিং।

সেপ্টেম্বরে আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার পর পরের বছরের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে কেউ নিজেকে মনোনয়ন দিতে পারেন না। এ সময় পার হয়ে যাওয়ার পর যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তাদেরকে পরের বছরের জন্য বিবেচনা করা হয়। যারা নির্ধারিত সময়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন সেগুলো থেকে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়। নোবেল কমিটি প্রার্থীদের কাজগুলো মূল্যায়ন করে ওই সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে। মার্চ থেকে আগস্টে উপদেষ্টাদের মত নেওয়া হয়। সংক্ষিপ্ত তালিকাটি কমিটির স্থায়ী উপদেষ্টারা পুনরায় মূল্যায়ন করেন।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 8
    Shares