শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৬
শীর্ষ সংবাদ

টেন মিনিট স্কুল রকমারি ডট কমের রাস্তাতেই হাঁটলো

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 10
    Shares

আরিফ রহমান ::

টেন মিনিট স্কুল শেষমেশ রকমারি ডট কমের রাস্তাতেই হাঁটলো। ফারাবির এক থ্রেটে চোটে রকমারি ডট কম অভিজিৎ রায়ের সমস্ত বইপত্র তাদের সাইট থেকে সরিয়ে দিয়েছিলো মনে আছে?

এখনো সেই বই সাইটে তোলার সাহস হয় নাই তাদের।

সাম্প্রতিক সময়ের একটা উদ্যোগকেই ভালো লাগতো, ‘টেন মিনিট স্কুল’। পোলাপানের পড়ালেখায় আসলেই একটা পজেটিভ ইফেক্ট ফেলেছিল এই উদ্যোগ।

সেক্সুয়াল বিষয়ে নারীর কনসেন্ট বা সম্মতি বিষয়ক একটা ভিডিও আর সমকামীদের অধিকার বিষয়ক একটা পোষ্টকে কেন্দ্র করে তারা এখন মৌলবাদী গোষ্ঠীর ‘নাস্তিক জোনে’ ঢুকে পড়েছে। ‘টেন মিনিট স্কুল’ এখন ক্ষমা চাইছে। ‘আর হবে না’ বলে কানে ধরছে। তারা ব্যাবসা বাঁচাতে যা খুশী তারা করুক। সেটা নিয়ে ভাবছি না।

শুধু মনে করিয়ে দিতে চাই সেই প্রথম দিনের কথা!

রাজীব হায়দার হত্যাকান্ডের পর যদি তার জাত, ধর্ম না দেখে মানুষ হিসেবে মানুষ খুনের প্রতিবাদ করতেন তাহলে আজকে আয়মান সাদিক কিংবা সাকিব বিন রশিদকে ‘নাস্তিক তকমা’ থেকে কল্লা বাঁচানোর জন্য মুমিন সাজতে হইতো না।

২০১৪ সালে বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা নুরুল ইসলামকে নিজ বাসায় জবাই হত্যা করার আগের মুহূর্তেই কথা বলি। খুনিদের তিনি অনুরোধ করেন তিনি কলেমা পড়তে চান। তাঁর গলার যখন ছুরি চালানো হচ্ছিল তখন তিনি সুর করে কলিমা পড়ছিলেন বলে বাসায় অন্য রুমে হাত বাঁধা অবস্থায় ওনার মা ও স্ত্রী শুনতে পান। তার স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনেরা দাবী, তার ধর্মীয় মতাদর্শের প্রচার-প্রচারণার কারণেই মাজারবিরোধী উগ্র গোষ্ঠীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

মৃত্যুর পরে ফারুকি সাহেব যে সহি মুসলমান ছিলেন না বহু মানুষ আমাদের সেই শিক্ষা দিয়েছিলেন বিভিন্ন লেখার মাধ্যমে!

ঢাবির ছাত্রী একটা মেয়ে পড়ালেখা করতে চাওয়ায় মেরে ফেলা হল অল্প কিছুদিন আগে। তার লাশটাও মনে হয় ঠিকমত দাফন হওয়ার আগে আমাদের মৌলবাদী গোষ্ঠী ফতোয়া দিয়ে দিসিল যে মেয়েটারই দোষ, সে আসলে ‘সহি মুসলমান’ ছিল না। স্বামীর অবাধ্যতা করতো। এক জায়গায় একটা লেখা দেখলাম নিহত মেয়েটার বাবা নাকি ভুল তরিকার মুসলমান। এজন্যই নাকি মেয়েকে সঠিক দ্বীনী শিক্ষাটা দিতে পারে নাই!

‘সহি মুসলমান’ আসলে একটা মিথ। পরম শূন্য তাপমাত্রার মত এটাও কখনো অর্জন করা যায় না। নামাজের হাত বাধার মত বিষয় নিয়ে কম খুনাখুনি হয় না দেশে। এক দল আরেক দলকে ‘সহি মুসলমান নয় তাই জবাই হালাল’ এই জোনে ফেলে দিয়ে খুন করে ফেলতে পারে।

মানুষকে ‘সহি মুসলমান নয় জোন’ বা ‘নাস্তিক জোন’ করে আইসোলেটেড করে ফেলার প্রবণতা যদি বন্ধ না করা যায় তাহলে এই দেশের সবগুলো সুন্দর উদ্যোগ একদিন এভাবেই শেষ হয়ে যাবে।

লেখক : অনলাইন এক্টিভিস্ট ও গবেষক


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 10
    Shares