শনিবার, এপ্রিল ১৭
শীর্ষ সংবাদ

জীবনের সত্য দর্শনের কথা ফুটে উঠেছে ‘এবং ইন্দ্রজিৎ’ নাটকে

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: ‘একুশে মিছিল, একুশে হাঁটা, একুশ মানে না পথের কাঁটা’ এই স্লোগানে মহান ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে সিলেটের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম চালিকাশক্তি সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট একুশের আলোকে নাট্য প্রদর্শনীর ১৭ দিনব্যাপী আয়োজনের ১৬ তম দিন রোববার মঞ্চস্থ হয় দিক থিয়েটার শাবিপ্রবির নাটক ‘এবং ইন্দ্রজিৎ’।

সন্ধ্যা ৭টায় কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে মঞ্চে নাটকটি মঞ্চায়ন হয়। বাদল সরকারের রচনায় নাটকটিতে নির্দেশনা দেন পাপ্পু রায়।

নাটক মঞ্চায়ন শেষে নাট্যদলের হাতে ফুল ও স্মারক তুলে দেন থিয়েটার বাংলা ইউকে এর নাট্য সংগঠক জন্মেজয় দেব দুলু ও সম্মিলিত নাট্য পরিষদের প্রাক্তন সহ সভাপতি খোঁয়াজ রহিম সবুজ। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত।

আধুনিক বাংলা নাটকে একটি নতুন নাট্যধারার সংযোজন বাদল সরকারের ‘এবং ইন্দ্রজিৎ’ নাটক। এই নতুন নাট্যধারা বিশ্বনাটকে ‘অ্যাবসার্ড’ নাটক হিসেবে পরিচিত। সুগঠিত বা নিয়মবদ্ধ নাটকের মতো ‘অ্যাবসার্ড’ বা উদ্ভট নাটক বিষয়বস্তু ও শিল্পরীতির দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
অ্যাবসার্ডিটির মূল বিষয়ই হলো জীবনের সঙ্গতি, সামঞ্জস্য ও অর্থময়তার বিরুদ্ধে। কাঠামোবদ্ধ জীবনদর্শনের বিরুদ্ধে অ্যাবসার্ড নাটকে বিদ্রোহ ঘোষণা করা হয়েছে। ‘এবং ইন্দ্রিজিৎ’ নাটকে লেখক এবং ইন্দ্রজিৎ চরিত্রের মধ্য দিয়ে এই জীবনদর্শনই ব্যক্ত হয়েছে।

অ্যাবসার্ড নাটকের মতো এ নাটকে জীবনে সম্পর্কে বিতৃষ্ণা, অবসাদ, ক্লান্তি, হতাশাই প্রকাশ করা হয়েছে। অ্যাবসার্ড দর্শনে শূন্যতাই হলো চরম সত্য। ‘এবং ইন্দ্রজিৎ’ নাটকেও জীবনশূন্যতার কথা অনেক জায়গায় বলা হয়েছে। যেমন,‘এ এক অঙ্ক। আবর্তনের অঙ্ক। পুরো অঙ্কটার উত্তর শূন্য।’ পাশ্চাত্য অ্যাবসার্ড রীতি অনুসরণ করে এ নাটকে সময় ও স্থানের কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখা হয়নি।

এ নাটকে ইন্দ্রজিৎ তার বয়স সম্পর্কে বলছে,‘একশো, দুশো, জানি না কতো’। সে লেখকের নাটক সম্পর্কে বলছে, ‘কি হবে শেষ করে? ওর শেষ
নেই। ওর গোড়া শেষ সব এক।’ ইন্দ্রজিৎ অমল, কমল, বিমল, মানসী, মাসীমা প্রভৃতি চরিত্রগুলো শুধুমাত্র কয়েকটি নাম নয়, তাদের মাধ্যমে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করা হয় নি, তারা ভিন্ন সময়ের নানা ব্যক্তিত্বকেই মূর্ত করে তুলেছে। আমাদের বদ্ধমূল সংস্কার যে, একটি নাম শুধু একটি চরিত্রেরই প্রতিনিধিত্ব করে, কিন্তু নাট্যকার দেখালেন একটি চরিত্র বহু বিচিত্র ব্যক্তিত্বকেই উদঘাটন করতে পারে। মানসী কেবল একটি নারীর নাম নয়; ইন্দ্রজিৎ, অমল, বিমল, কমল কেবল একটি চরিত্র নয়; তারা হাজারো চরিত্রের মূর্ত প্রতীক। একটি চরিত্রের মধ্যে অনেকগুলো চরিত্রকে খোঁজার চেষ্টা আমাদের কাছে আপাত দৃষ্টিতে অসঙ্গতি বলেই মনে হয়। কিন্তু লেখক দেখালেন একটি ব্যক্তিত্ব একটি বিশেষ সময়ের মধ্যে আবদ্ধ নয়; পরবর্তী মুহূর্তে সেই ব্যক্তিত্বের রূপান্তর ঘটে যায়। মূলত আপাত দৃষ্টিতে মনে হওয়া এমন অসঙ্গতি ও অর্থহীনতার আড়ালে নাট্যকার বাদল সরকার জীবনের সত্য দর্শনের আভাস দিয়েছেন।

নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন, বাঁধন, অনিক, পাপ্পু, সাদাফ, বিকু, সাইদুল, রাকিব, আরাফ, হাবিব, মায়া, আর্নিকা, রুমি, মায়া, কোরিওগ্রাফিতে ছিলেন, শাকিল, জিসান, তামিম, হাবিব, বর্ষা, রাকিব, আরাফ, অনিক, সাদাফ, বাঁধন।

১৭দিন ব্যাপী এই নাট্য প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে সিলেটের ১৬টি নাট্যদল। নাট্যপ্রদর্শনী উপলক্ষ্যে সিলেটের নাট্যমোদী দর্শকের উপস্থিতি ও উৎসাহ এযাবতকালের সর্ববৃহৎ নাট্যপ্রদর্শনীকে প্রাণবন্ত করে তুলছে।

সোমবার ১৭দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের শেষ দিনে নান্দিক নাট্যদল মঞ্চস্থ করবে ‘বাসন’। নাটকের প্রবেশপত্র হল কাউন্টারে বিকেল ৫টা থেকে পাওয়া যাবে। ১৭ দিনব্যাপী নাট্য প্রদর্শনীতে সহযোগিতা করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদ, সিলেট।

সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমেদ চৌধুরী মিশু ও সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত ১৭ দিন ব্যাপী নাট্য প্রদশনীর সমাপনী দিনে নাটক উপভোগ করার জন্য নাট্যমোদী দর্শকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।


এখানে শেয়ার বোতাম