মঙ্গলবার, মার্চ ৯
শীর্ষ সংবাদ

জাবিতে বিকালের মধ্যে হল না ছাড়লে পুলিশের অ্যাকশন

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক ::বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সব আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নয়তো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনি ব্যবস্থায় পুলিশ অ্যাকশনে যাবে বলে জানানো হয়েছে।

বুধবার (৬ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রভোস্ট কমিটির সভা শেষে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত জানায়। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনে সভাটি শুরু হয়।

প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ জানিয়েছেন, আবাসিক শিক্ষার্থীদের বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর ভেতরে হল খালি করে দিতে হবে। তা না হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হল খালি করা হবে। এক্ষেত্রে আন্দোলনকারী, ছাত্রলীগসহ সবাইকে হল ছেড়ে যেতে হবে।

একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দোকানপাট খোলা রাখা যাবে না- সভায় এমন সিদ্ধান্তও হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক বশির আহমেদ।

এর আগে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) উপাচার্যবিরোধী চলমান আন্দোলনের মুখে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। তখন এ দিন বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলন চলছে। এরই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি স্থানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা মানছেন না শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ছেলেদের আটটি হলের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী হল ছেড়ে যাননি। রাতে ছাত্রীরাও হলের তালা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থী তা মানেননি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে পুঁজি করে শিবির নাশকতা ঘটাতে পারে—এ আশঙ্কায় মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে হলত্যাগের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

ছাত্রলীগের হামলা ও হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে বিকেল থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে বিক্ষোভ করেন। অন্যদিকে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকেরা ও ছাত্রলীগ অবস্থান নেয় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে।

রাত সাড়ে আটটার দিকে আন্দোলনকারী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিছিল করে বিভিন্ন আবাসিক হলের সামনে যান। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে ছাত্রীরা হলের ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ছাত্রীদের বের হয়ে এসে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে এসব হলের ছাত্রীরাও আন্দোলনে যোগ দেন। তবে বন্ধ ঘোষণার পর অনেক ছাত্রী আগেই হল ত্যাগ করেন। পরে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তাঁরা বলছেন, উপাচার্যের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের দুজন সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও শিহাবউদ্দিন খান আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।


এখানে শেয়ার বোতাম