শনিবার, ডিসেম্বর ৫

জাপায় ফের দেবর-ভাবী দ্বন্ধ : চেয়ারম্যান হতে চান রওশন

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: জাতীয় পার্টিতে (জাপা) আবার অস্থিরতা শুরু হয়েছে। একদিকে দলের চেয়ারম্যান পদে থাকতে চান জিএম কাদের; অন্যদিকে তাকে সরিয়ে চেয়ারম্যান হতে চান রওশন এরশাদ। দলের বড় অংশ প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছোট ভাই জিএম কাদেরের পক্ষে থাকলেও সরকারের ‘সমর্থন’ থাকায় রওশন এরশাদও শক্তিশালী প্রার্থী।

জাপার মহাসচিব পদ নিয়েও চলছে টানাটানি। মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ মহাসচিব পদে থাকতে চান। রওশন এরশাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহও এই পদের দাবিদার। রওশন এরশাদ তাকে মহাসচিব পদে চান। গতকাল রোববার তিনি দেশে ফিরেছেন।

জিএম কাদের ও রওশন এরশাদ উভয়ের অনুসারীরা বলেছেন, কে জাপার চেয়ারম্যান, কে মহাসচিব হবেন, তা কাউন্সিলের ওপর নির্ভর করছে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ।

চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থিতার কথা জানাতে গতকাল বিকেলে গুলশানের বাসভবনে বৈঠক ডেকেছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। কিন্তু জিএম কাদের ডাকে সাড়া দেননি। তার পক্ষে জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বৈঠকে যান। রওশনের পক্ষে ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম ও এস এম ফয়সাল চিশতি।

মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেন, আগামী ২৮ ডিসেম্বর জাপার নবম কাউন্সিলের আমন্ত্রণ জানাতেই তিনি রওশন এরশাদের বাসায় গিয়েছিলেন। রওশন এরশাদ জাপার চেয়ারম্যান হতে চান- এ খবরের সত্যতা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।

তবে বৈঠকে উপস্থিত দু’জন নেতা সমকালকে নিশ্চিত করেছেন, রওশন এরশাদ চেয়ারম্যান হতে চান। এ নিয়ে আলোচনা করতেই বৈঠক ডেকেছিলেন। ফয়সাল চিশতি সমকালকে বলেছেন, জিএম কাদের উপস্থিত না হওয়ায় আলোচনা এগোয়নি। জিএম কাদেরপন্থিরা বলেছেন, এ বিষয়ে আলোচনায় তারা আগ্রহী নন।

এ বিষয়ে রওশন এরশাদ ও জিএম কাদেরের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে গত শনিবার জিএম কাদের আভাস দেন, আসন্ন কাউন্সিলে নেতৃত্বের লড়াই হতে পারে। তিনি বলেন, নেতা নির্বাচনে ভোটের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

রওশনপন্থিরা বলছেন, তারা ভোট চান না। কারণ, যাদের কাউন্সিলর করা হয়েছে তারা জিএম কাদেরের অনুসারী। রওশন এরশাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হতে চান। এ আলোচনার জন্যই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তাকে চেয়ারম্যান পদে ছেড়ে দিলে নির্বাহী চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি করে তা জিএম কাদেরকে দেওয়া হবে।

১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর গত আটটি কাউন্সিলে দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত ১৪ জুলাই তার মৃত্যুর পাঁচ দিন পর ভারপ্রাপ্ত থেকে ‘পূর্ণাঙ্গ’ চেয়ারম্যান হয়েছেন জিএম কাদের। কিন্তু তাকে এ পদে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীরা। তাদের দাবি, জিএম কাদের এখনও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। পরবর্তী কাউন্সিলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।

এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য বিরোধীদলীয় নেতার পদে বসতে চেয়েছিলেন জিএম কাদের। এতে গত সেপ্টেম্বরে রওশন এরশাদ ও তার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়। পরে সমঝোতার মধ্য দিয়ে রওশনকে বিরোধীদলীয় নেতার পদ ছেড়ে দিয়ে উপনেতা হন জিএম কাদের। তাকে কাউন্সিল পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে মেনে নেন রওশন। এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য রংপুর-৩ আসনে রওশনের ইচ্ছায় জাপার প্রার্থী করা হয় তার ছেলে রাহাগীর আল মাহি সাদ ওরফে সাদ এরশাদকে। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর সাদকে দলের যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছে।

এর পর মাস তিনেক প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব ছিল না জাপায়। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কাউন্সিল সামনে রেখে আবারও সক্রিয় হয়েছেন রওশন এরশাদ। তার পক্ষে রয়েছেন সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, ফয়সাল চিশতিসহ জাপার ছোট একটি অংশ। সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে এই পক্ষটিই শক্তিশালী। রুহুল আমিন হাওলাদার ফের মহাসচিব হতে চান।

সরকারপন্থি হিসেবে পরিচিত জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ কোন পক্ষে রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। রওশনবলয়ের দুই এমপি সেলিম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকা জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্যপদ পেয়ে সম্প্রতি জিএম কাদেরের পক্ষে ভিড়েছেন। চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েও আওয়ামী লীগের সমর্থনে সরে দাঁড়ানো জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুও মহাসচিব পদে ফিরতে চান।

জি এম কাদেরপন্থিরা জানিয়েছেন, রওশন চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী না হলে মহাসচিব পদে তার পছন্দের কাউকে আনা হবে। গত কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছিলেন রুহুল আমিন হাওলাদার। গত বছর ভোটের আগে তাকে সরিয়ে মসিউর রহমান রাঙ্গাঁকে মহাসচিব করেছিলেন এরশাদ। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ রাঙ্গাঁ বলেছেন, ‘কে চেয়ারম্যান, কে মহাসচিব হবেন, তা কাউন্সিলররা ঠিক করবেন। তবে মহাসচিব পদে অবশ্যই থাকতে চাই।’

মহাসচিব পদ পেতে আগ্রহী গোলাম মসিহ। তার বাবা আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন। তিনি সমকালকে বলেছেন, মাত্রই দেশে ফিরেছেন, পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন।


এখানে শেয়ার বোতাম