শুক্রবার, জানুয়ারি ২২

জাপানে প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে ইয়োশিহিদে সুগা

এখানে শেয়ার বোতাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গেই জল্পনা শুরু হয়েছে, তার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন। এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নামটি আবের দীর্ঘদিনের ‘লেফটেন্যান্ট’ হিসেবে পরিচিত ইয়োশিহিদে সুগা। তিনি মন্ত্রিসভার ‘চিফ কেবিনেট সেক্রেটারি’।

২০০৬ এবং ২০০৭ সালে প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে জাপানে ব্যাপক টানাপড়েন শুরু হলে পদত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। পরে মিত্রদের সঙ্গে জোট গড়ে ২০১২ সালে ফের শিনজো আবের ক্ষমতায় ফেরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ৭১ বছর বয়সী ঝানু ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ইয়োশিহিদে সুগা।

২০১২ থেকে ২০ পর্যন্ত আট বছর লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) নেতা শিনজো আবের শাসনামলে ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত থাকলেও পদত্যাগের ঘোষণার সময় পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। শুধু বলেছেন, কে নেতা হবে তা পার্লামেন্ট ঠিক করবে।

এরপর শুরু হয় দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে তদবির। যদিও এখনো সুগা নতুন দলীয় প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নামবেন না বলছেন, কিন্তু তিনি নিজের প্রচার ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছেন। আবের পদত্যাগের আভাস পেয়ে গত সপ্তাহেই তিনি অন্তত চারটি বড় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

এ ছাড়া জাপানের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদের প্রধানমন্ত্রী আবের উত্তরসূরী হিসেবে মন্ত্রিসভাসহ বড় বড় গণমাধ্যমের সমর্থন আছে তার পক্ষে। সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কোইচি নাকানো বলছেন, ‘তারা (গণমাধ্যম) সুগাকে স্থলাভিষিক্ত করে আবের পুরনো মন্ত্রিসভা দিয়েই সরকার চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।’

২০১২ সালে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সুগাকে মন্ত্রিসভার তথা সরকারের শীর্ষপদ ‘চিফ কেবিনেট সেক্রেটারি’ করেন আবে। প্রভাবশালী এ পদের মাধ্যমে তিনি নানামুখী ক্ষমতা পেয়েছেন। যেমন, সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র হিসেবে কাজ করা এবং নীতি নির্ধারণে সহায়তা ছাড়া আমলাদেরও নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, কে হবেন প্রধানমন্ত্রী তা জানা যাবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর। ওইদিন ক্ষমতাসীন দল এলডিপি ভোটাভুটির মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচন করবে। যিনি নেতা নির্বাচিত হবেন পার্লামেন্ট তাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করবেন। কারণ পার্লামেন্টে এলডিপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল।

কোন পদ্ধতির মাধ্যমে দলটির নির্বাহীরা নতুন নেতা নির্বাচিত করবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হওয়ার দৌড়ে প্রভাব ফেলবে। আগামীকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সাধারণত, পার্লামেন্টে এলডিপির এমপি এবং একেবারে তৃণমূল থেকে দলের সদস্যরা এই ভোটাভুটিতে অংশ নিয়ে থাকেন।

তবে আচমকা পদত্যাগে বিশেষ ভোটের আয়োজনে শুধু এমপি এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের ডাকা হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণত যেভাবে নেতা নির্বাচিত হয় ওই পদ্ধতিতে ভোটাভুটি হলে শিনজো আবের খুব কম সমালোচকদের অন্যতম সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিগেরু ইশিবা নতুন নেতা নির্বাচিত হতে পারেন।

এই লড়াইয়ে চিফ কেবিনেট সেক্রেটারি ইয়োশিহিদে সুগা ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিগেরু ইশিবা ছাড়াও আবের মন্ত্রিসভার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা, বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারো কোনো, বর্তমানে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বও পালনকারী তারো আসোর নামও শোনা যাচ্ছে।


এখানে শেয়ার বোতাম