শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

জবিতে ডিন সভা আইন ভেঙে পদোন্নতি দেয়ার পায়তারা

এখানে শেয়ার বোতাম

জবি প্রতিনিধি :: ২০১৬ সালে পাসকৃত সরকারি আইনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অধ্যাপক গ্রেড-১ পেতে শর্তাবলী হচ্ছে, অধ্যাপকগণ মোট চাকরীর মেয়াদ (কোয়ালিফাইং চাকরির মেয়াদ) ন্যূনতম ২০ বছর এবং দ্বিতীয় গ্রেডের সর্বশেষ সীমায় পৌছানোর দুই বছর পর জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রথম গ্রেড প্রাপ্ত হবেন। তবে এ সংখ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট অধ্যাপকের সংখ্যার ২৫ শতাংশের বেশি হবে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে ১৪ জন অধ্যাপক গ্রেড-১ পদমর্যাদায় আছেন। ২৫ শতাংশ অধ্যাপকদের সংখ্যার দিক দিয়ে গ্রেড-১ পদমর্যাদায় আরও ১১টি পদ খালি আছে। গত ১৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন সভায় গ্রেড-১ মদমর্যাদার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ জন শিক্ষক আবেদন করেন। এর মধ্যে দুইজন শিক্ষকের উল্লিখিত শর্ত না থাকায় তাদের আবেদন বাতিল করে। আর, একজন অধ্যাপকের গ্রেড-১ পদমর্যাদা পেতে ১ম শর্তটি পূরণ না হওয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার আবেদন বাতিল না করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে পরামর্শের জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সিন্ডিকেট সভার পরে ইউজিসির কাছে এটি প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন সভা সূত্রে জানা যায়, ডিন সভায় মাইক্রোবাইলজি বিভাগের অধ্যাপক ড.জাকারিয়ার গ্রেড-১ পদমর্যাদায় আবেদনের যোগ্যতা না থাকলেও তিনি এ পদমর্যাদা পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। ডিন সভায় তার আবেদন পত্রটি উত্থাপন হলে আইন অনুযায়ী তিনি এ পদমর্যাদা পাওয়ার গ্রহনযোগ্য না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডিন এর বিরোধীতা করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান এ শিক্ষককে গ্রেড-১ সুবিধা দেয়ার জন্য নানান যুক্তি দাড় করান বলে সভা সূত্রে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডিনদের বিরোধীতার পরেও উপাচার্যের সিদ্ধান্তে ড.জাকারিয়ার আবেদনটি পদমর্যাদায় (কোয়ালিফাইং জব) পড়বে কিনা এটির জন্য ইউজিসির পরামর্শ নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সূত্র জানায়, ড. জাকারিয়া মিয়া প্রভাষক, সহাকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে মোট ২২ বছর ৬ দিন চাকরি করেন। এর মধ্যে ২০১০ সালে ৪ এপ্রিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদে যোগ দান করেন। ২০২০ সালের ১৩ জুলাই পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ড.জাকারিয়া মিয়ার চাকরির বয়স ১০ বছর তিন মাস। এর আগে তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক পদ থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদ পর্যন্ত ১১ বছর ৯ মাস ৬ দিন চাকরী করেন। নিয়ম অনুযারী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসে কেউ নিয়োগ পেলে আগের চাকরিকাল থেকে ৫০ শতাংশ গণনা হবে। সে অনুযায়ী গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাদ দেয়ার পরে সেখান থেকে তার চাকরীর বয়সসীমা ৫ বছর ১০ মাস ১৮ দিন গণনা করা হয়। এ হিসাবে গ্রেড-১ পদমযার্দা পেতে তার যোগ্যতা চাকরিকাল ১৬ বছর ১ মাস ১৮ দিন। যা শর্ত উল্লেখিত চাকরি কাল থেকে অনেক কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.মীজানুর রহমান ডিন সভায় যুক্তি দেখান তিনি যেহেতু একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ বছর ৯ মাস ৬ দিন চাকরি করেছেন তাই তার বিষয়টি বিবেচনা করা যায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনরা আইনের পরীপন্থী হলে এর বিরোধীতা করেন। পরবর্তীতে উপাচার্য এটি ইউজিসির পরামর্শের জন্য সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু একই সভায় বেসরকারকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়োগ পাওয়া একজন অধ্যাপকের চাকরিকাল কম হওয়ায় তারটি গ্রেড-২ পদোন্নতির তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়।

সভা সূত্রে আরও জানা যায়, বয়সসীমা থাকার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের রেজিস্ট্রার অফিসের ভুলের জন্য চাকরিকাল কম দেখানোয় তারটি বাতিল হয়। আর দুই জনের শর্ত কম থাকায় দুইজনের বাতিল করা হয়। তারা দুইজনেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগদান করার আগে সরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন। তাদের সরকারী কলেজে চাকরিকাল থেকেও ৬০ শতাংশ চাকরীকাল গণনা করা হয়। ড. জাকারিয়ার অধ্যাপক পদে নিয়োগেও অনিয়মের খবরও পাওয়া যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ডিন বলেন, গ্রেড-১ পদমর্যাদা পেতে যে শর্ত দেয়া হয়েছে তার প্রথম শর্ত অনুযায়ী তিনি আবেদন করতে পারেন না। তাকে গ্রেড-১ সুবিধা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডিন বিরোধিতা করার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শুধু তার বিষয়টি ইউজিসির কাছে পরামর্শের জন্য পাঠাতে বলেন। এটি আইনপরীপন্থী, পদোন্নতিতে এই অনিয়ম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।

বিশ্ববিদ্যালয় রেজিষ্টার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান বলেন, ডিনসভার সিদ্ধান্ত ও অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন ডিনরা কি বলল না বলল এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না। পদোন্নতির বিষয়ে সিন্ডিকেটে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর জানানো হবে। আর ওই শিক্ষকের গ্রেড-১ যোগ্যতার বিষয়ে সিন্ডিকেটের পর ইউজিসিতে পরামর্শের জন্য পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহিদুল্লাহ বলেন, পদোন্নতির বিষয়ে কোন পরামর্শের জন্য চিঠি আসলে আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ডিরেক্টরের কাছে পাঠাবো। তিনি বিষয়টি আইনকানুন দেখে যাচাই করবেন। এ ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হবে না।


এখানে শেয়ার বোতাম