মঙ্গলবার, মার্চ ৯
শীর্ষ সংবাদ

‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষণের প্রজ্ঞাপন ছাত্রসমাজ মানবে না,

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে “বর্তমান ছাত্র নয়” এমন লোকজনের ক্যাম্পাস চলাকালীন সময়ে ক্যাম্পাসে আসার ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিগত ৯ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফ থেকে ক্যাম্পাসের মুক্ত বুদ্ধির চর্চা ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ ঠিক রাখতে ছাত্র ব্যাতীত অন্যদের প্রবেশাধিকারের ব্যাপারে প্রশাসনের আপত্তির কথা জানানো হয়।

কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে রাত সাড়ে ১০ টার পর প্রবেশের ক্ষেত্রেও একইরকম বিধিনিষেধ জারি করা হয়। ক্যাম্পাসে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দোহাই দিয়ে রাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোনায়েম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক তানজিম সাকিব এক যৌথ বিবৃতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ধরনের যেকোন অগণতান্ত্রিক ও আশ্চর্যজনক প্রজ্ঞাপনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং সেইসাথে প্রজ্ঞাপনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন বিরোধী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চেতনার সাথে সাযুজ্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়।

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তচিন্তা আর সংস্কৃতি চর্চার দোহাই দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষণের কথা বলা হচ্ছে- যা রীতিমতো হাস্যকর। ক্যাম্পাসে জনগনের প্রবেশ, সাবেক শিক্ষার্থীদের আনাগোনা এবং সর্বোপরি সকল স্তরের জনগনের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমেই একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তার ‘জনবান্ধব চরিত্র’ এবং ‘জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা’ অনুধাবন করতে পারে। জনগণের করে, অর্থে, যোগানে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ে এভাবে জনগণের প্রবেশাধিকার ঠেকানো যায় না। বরং মুক্তিচিন্তা এবং সংস্কৃতি চর্চার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে জনগণের মেলবন্ধনের মাধ্যমেই মুক্ত চিন্তা ও কাঙ্খিত পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে।

সেইসাথে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এখন পুরনো ঢাকার সাংস্কৃতির পীঠস্থান। এই এলাকার মানুষ এবং বলা বাহুল্য ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্যবাহী একটি অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এখন তার স্বকীয়তা নিয়ে উজ্জ্বল। সুতরাং এহেনও সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার সঙ্গে বেমানান।

যৌথ বিবৃতিত্তে উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেকোন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করছে কোন ধরনের ছাত্র প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না করেই এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের মতামতের তোয়াক্কা না করেই একতরফা বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিজেরা নিজেরা গ্রহন করছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল স্টেকহোল্ডার জনগণ এবং শিক্ষার্থীরা। সেখানে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত তার স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা না করে গ্রহণ করার অর্থ হলো স্বৈরাচারী মানসিকতার প্রকাশ। সমাজে-রাষ্ট্রে সর্বগ্রাসী স্বৈরাচারী প্রবণতা বা নিয়ন্ত্রণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কেও একই স্রোতে ভাসিয়ে নেবার যেকোন ধরনের সিদ্ধান্তকে ছাত্র সমাজ প্রত্যাখান করবে বলেই সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মনে করে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি সত্যিই মুক্তবুদ্ধির চর্চাকেন্দ্র বানাতে হয় তবে ক্যাম্পাসে অবাধে প্রবেশাধিকার এবং তার পাশাপাশি অপরাধমূলক কাজের বিচারের ভিত্তিতেই তা নিশ্চিত করা যাবে। এ ধরনের বিধিবিধান মূলত রাষ্ট্রযন্ত্র- প্রশাসনের যৌথ নিয়ন্ত্রণপ্রচেষ্টার নীলনকশা মাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়কে যেভাবে চিত্রিত করা হয়েছে উক্ত প্রজ্ঞাপনে তা ঘোরতর আপত্তিকর। একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়ে, খুপড়িবদ্ধ কাঠামো দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা উন্নত হয় না।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা মনে করে প্রশাসন থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও চেতনার সাথে বেমানান হওয়ায় ছাত্রদের সঙ্গে সম্মিলিত লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমেই তা প্রত্যাখাত হবে। অতীতের লড়াই- সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমাজ এহেনও সিদ্ধান্তকে পুনর্বার ছুড়ে ফেলে দেবে।


এখানে শেয়ার বোতাম