রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮
শীর্ষ সংবাদ

ছাত্র ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 129
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উপলক্ষে ২২ জানুয়ারি বিকাল ৪ টায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক আল কাদেরী জয় ও সঞ্চালনা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স।

আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ডাকসুর সাবেক সদস্য ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুখসানা আফরোজ আশা, অর্থ সম্পাদক মুক্তা বাড়ৈ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শোভন রহমান, সদস্য সুস্মিতা মরিয়ম ও রাজিব কান্তি রায়।

আলোচনা সভা শুরুর আগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে শামসুন্নাহার হল, রোকেয়া হল, মধুর ক্যান্টিন প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।

আলোচনায় কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, “করোনা বিপর্যয় মোকাবেলায় সরকার চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। একদিকে ভ্যাকসিন নিয়ে উদ্বিগ্ন উৎকণ্ঠা থাকলেও ভ্যাকসিন যখন হাতে এসেছে, তখন সেটা কিভাবে কবে বিতরণ করা হবে তার স্পষ্ট কোন পরিকল্পনা নেই। মার্চ মাস থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। সেগুলো কবে কিভাবে খুলবে তার কোন পরিকল্পনা নেই। করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কিভাবে কাজে লাগানো যাবে, কিভাবে করোনা মোকাবেলায় কি গবেষণা হবে, তার কোন উদ্যোগ নেওয়া হল না। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। ঠিক একই অবস্থা আমাদের শিক্ষার অন্যান্য ক্ষেত্রেও।

ফিরোজ বলেন, স্কুল কলেজের বেতন ফি তো মওকুফ করা হয়ই নি, বরং এসাইনমেন্ট ফি সহ নামে বেনামে নানা ফি নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদেরকে ঋণ দেওয়া হবে বললেও তার কোন বাস্তবায়ন নেই। এগুলোর বিরূদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হলে আজকে চাই সঠিক বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও রাজনৈতিক চর্চা। সেটা গড়ে তুলবার জন্যই মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ভিত্তিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট লড়াই অব্যহত রেখেছে”।

কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, “৩৭ বছর আগে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল সর্বজনীন বিজ্ঞান ভিত্তিক সেক্যুলার একই পদ্ধতির শিক্ষার আন্দোলন গড়ে তোলার দাবিতে। এবং এই নামের মধ্য দিয়ে ঘোষিত হয়েছিল এই সংগঠনের লক্ষ্য, একটি সমাজতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ। তার জন্য ৩৭ বছর ধরে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট লড়াই করেছে, প্রয়োজনে আরও হাজার বছর লড়াই করতে হবে।

রতন বলেন, আজকে করোনাকালে যখন স্কুল কলেজ বন্ধ, জনগণের আয় কমে গেছে। কিন্তু অন্যদিকে নতুন কোটিপতি হয়েছে অন্ততপক্ষে ১০ হাজার। তারা মাস্ক নিয়ে, অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে, টেস্ট নিয়ে লুটপাট করেছে। অথচ স্কুল কলেজের বেতন ফি মওকুফ এর কথা বলা হলে তাদের কোন সাড়া পাওয়া যায় না। বরং শিক্ষা ধ্বংসের জন্য যতরকম আয়োজন করা যায় তা তারা করছে। সুতরাং আজকে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব রাজনীতিকে গালি দেওয়া নয়, রাজনীতি থেকে দূরে থাকা নয়, এই সমস্ত গণবিরোধী নীতির বিরূদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা”।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 129
    Shares