বৃহস্পতিবার, মে ১৩
শীর্ষ সংবাদ

ছাত্র ফ্রন্টের নতুন সভাপতি জয় ও সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজেস্ব প্রতিবেদক :: আল কাদেরী জয়কে সভাপতি ও নাসির উদ্দিন প্রিন্সকে সাধারণ সম্পাদক করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর ২১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি রুখো ও গণতান্ত্রিক শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সামলি হোন এই আহ্বানে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর ৫ম কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত নতুন এই কমিটি ঘোষণা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সদ্য বিদায়ী সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন।

শিক্ষার বেসরকারিকরণ-বাণিজ্যিকীকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণ বন্ধ, শিক্ষা গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়

নব গঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি করা হয়েছে শ্যামল বর্মণকে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আছেন রুখসানা আফরোজ আশা।

২১ সদস্য বিশিষ্ট সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নতুন কমিটির দায়িত্ব প্রাপ্ত অন্য নেতৃবৃন্দ হলেন, দপ্তর সম্পাদক – সজল বাড়ৈ, অর্থ সম্পাদক – মুক্তা বাড়ৈ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক – শোভন রহমান, স্কুল সম্পাদক – সুলতানা আক্তার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক – মনীষা চক্রবর্ত্তী।

আর সদস্য হিসেবে আছেন
সোহরাব হোসেন
আলমগীর সুজন
বিকাশ শীল
সুস্মিতা মরিয়ম
যোগেশ ত্রিপুরা
ধনঞ্জয় বর্মণ
লাবনী সুলতানা
সনজিত মন্ডল
ইশরাত জাহান শাপলা
রাজীব কান্তি রায়
রেহনোমা রুবাইয়াত
রায়হান উদ্দিন

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের শহীদ ডা. সামছুল আলম মিলনের শ্রদ্ধেয় মা সেলিনা আক্তার।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার লোভে ক্ষমতাসীন দলগুলো মিলনের স্বপ্নের সাথে বার বার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মিলন স্বৈরাচার ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছিল। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার চেয়েছিল। কিন্তু এরা ক্ষমায় থেকে লুটপাটের বাংলাদেশ তৈরি করেছে। এই ভ্রষ্টনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা আজ সময়ের দাবি। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সম্মেলনে আগত হাজার হাজার তরুণ-যুবক আমাকে নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে। তোমাদের সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমি মিলনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইমরান হাবিব রুমনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্সের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করায় শিক্ষা বাণিজ্য ব্যাপক রূপ লাভ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞান চর্চা ও সৃষ্টির কেন্দ্র না হয়ে বিদ্যা বিক্রির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সবার জন্য শিক্ষার পরিবর্তে টাকা যার শিক্ষা তার নীতি প্রবর্তন করায় শিক্ষা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। গোটা সমাজের দুর্নীতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দুর্নীতিগ্রস্থ করে ফেলেছে। মাদক আর মাস্তানী ছাত্র-যুব সমাজের সংগ্রামী চরিত্রকে ধ্বংস করছে।’

তিনি বলেন, ‘যুগে যুগে ছাত্র-যুবকরাই দেশের সংকটকালে প্রতিরোধ সংগ্রামে এগিয়ে আসে। বর্তমানের এই সংকটেও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টকেই সে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

খালেকুজ্জামান বলেন, ‘রাজনীতিতে ফ্যাসিবাদ, অর্থনীতিতে লুণ্ঠন-পাচার, কৃষকের ফসলের দাম না পাওয়া, শ্রমিকের নায্য মজুরি না পাওয়া, যুবকদের কাজ না পাওয়া আর একদল মানুষের হাতে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠছে পুঁজিবাদী শোষণমূলক ব্যবস্থার কারণে। শিক্ষার আন্দোলনকে তাই শোষণমূলক ব্যবস্থা পরিবর্তনের আন্দোলনের সাথে যুক্ত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনকে শোষণহীন সমাজ নির্মাণের আন্দোলনের পথে পরিচালনা করার মাধ্যমে শিক্ষা ও নৈতিকতার সংকটকে দূরীভূত করা সম্ভব।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, ভারতের সাবেক ছাত্রনেতা বি. আর. মঞ্জুনাথ, নেপালের এএনএনআইএসইউ’র (রেভুলিউশনারী) ভাইস চেয়ারম্যান তিলকরাজ ভান্ডারী, শ্রীলঙ্কার এসএসইউ’র ইন্টারন্যাশনাল কমিটির সদস্য শানিকা হাসিনি সিলভা, স্টুডেন্ট এন্ড ইওথ উইং অবসোস্যালিস্ট পার্টি অব মালয়েশিয়ার অর্গানাইজার ভেনুসা প্রিয়া প্রমুখ।


এখানে শেয়ার বোতাম