রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮
শীর্ষ সংবাদ

‘ছাত্ররাজনীতি নয় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ করার অভিমত’

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করলে সন্ত্রাস বন্ধ হবে না। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব-নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানানো হয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ‘ছাত্ররাজনীতি নয় সন্ত্রাস বন্ধ করুন’ শীর্ষক আলোচনা সভায়।

আজ মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকাল ৪ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর,সি,মজুমদার মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও প্রগতিশীল ছাত্র জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আল-কাদেরী জয়। বক্তব্য রাখেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহম্মদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবু সাইদ খান, জাহাঙ্গীরণগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক সায়েমা খাতুন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক সিত্তুল মুনা হাসান। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স।

সভায় আনু মুহম্মদ বলেন,‘ বিশ্ববিদ্যায় জ্ঞান সৃষ্টির প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সেখানে জ্ঞান চর্চার কোন আয়োজন না করে সরকার ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করছে। তাদের শোষণ শাসন নির্বিঘে পরিচালনার জন্য ছাত্র ছাত্র লীগের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করছে। কিন্তু ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করলে সন্ত্রাস বন্ধ হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভিসি পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ ও দলীয়অনুগত ব্যক্তিদের। আজকের ছাত্র লীগের অবস্থান পাকিস্তান আমলের এন,এস,এফ বাহিনীর মতোই ছাত্র স্বার্থ বিরোধী কর্মকা-ের সাথ যুক্ত হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র লীগের নেতা সেই হতে পারে যে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রন করতে পারে, যাকে দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দমন করা সম্ভব হয়। আজকের এই পরিস্থিতিতে তাই ছাত্র দের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই।’

কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন,‘সমাজে দুই ধরনের রাজনীতি আছে, একটা হচ্ছে শোষকের রাজনীতি আর একটা হচ্ছে শোষিতের রাজনীতি। শাসকগেষ্ঠির রাজনীতি শিক্ষাঙ্গণগুলোতে খুন-সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের জন্ম দেয়। অন্যদিকে এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই আজকের ছাত্র আন্দোলনের প্রধান দায়িত্ব। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দিয়ে শাসকগোষ্ঠি যৌবনের সেই প্রতিরোধের শক্তিকে ধ্বংস করতে চায়। একে কলুষিত করে দখলদারি ও মাস্তানি শক্তিতে পরিণত করতে চায়। বুয়েটের আবরার হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীনদের হিং¯্র চেহারা ফুটে উঠেছে। যে স্বায়ত্তশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, তাকে হত্যা করে ক্ষমতাসীনদের নির্যাতনের অভয়ারণ্য তৈরি করেছে। আজকে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ছাত্রজনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের শক্তি নির্মান করতে হবে।


এখানে শেয়ার বোতাম