শনিবার, মে ৮
শীর্ষ সংবাদ

গ্যাস রপ্তানির চুক্তি জাতীয় স্বার্থের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা : জাতীয় কমিটি

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক ::  দেশে গ্যাস সংকট রেখে গ্যাস রপ্তানির চুক্তি জাতীয় স্বার্থের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা বলে অভিহিত করেছে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আজ (৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে বলেছেন “আমরা ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সঙ্গে জানতে পারলাম যে, গতকাল (৫ অক্টোবর) দিল্লীতে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এলপিজি অর্থাৎ সিলিন্ডারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির চুক্তি করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে সীমিত গ্যাসসম্পদের শতভাগ দেশে ব্যবহারের বিষয়ে দীর্ঘদিনে একটি ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বর্তমানে দেশেই গ্যাস সংকটের কারণে

১. বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে।

২. বহু অঞ্চল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

৩. গ্যাস সংকটের কথা বলে সরকার অনেক বেশি ব্যয় বহুল এলএনজি আমদানি করছে।

৪. গ্যাস সংকটের কথা বলেই সরকার একের পর এক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চল বিনাশে উদ্যত হয়েছে।

৫. এই যুক্তি দিয়েই অন্য দিকে এলএনজি ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সুন্দরবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তার সংলগ্ন এলাকায় এলপিজি প্লান্ট প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এখন সেই ‘এলপিজি উদ্বৃত্ত’ এই যুক্তি দেখিয়ে তা ভারতে রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এতে এলপিজি’র প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং ভারত লাভবান হবে। আর বাংলাদেশের একদিকে সুন্দরবন অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নিজেদের গ্যাস সংকট বহাল থাকা অংস্থায় গ্যাস রপ্তানির সিদ্ধান্ত আত্মঘাতি শুধু নয় বাংলাদেশের স্বার্থের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার নামান্তর। আমরা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, দুই দেশের বাণিজ্য সকল ক্ষেত্রেই ভারতকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমরা সরকারের এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতা থেকে সরে আসার দাবি জানাই।”


এখানে শেয়ার বোতাম