রবিবার, এপ্রিল ১১
শীর্ষ সংবাদ

গোপন কক্ষে ভোটারদের ভোট দিচ্ছেন অন্য ব্যক্তি

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গোপন কক্ষে ভোটারের সঙ্গে প্রবেশ করে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

শনিবার তেজগাঁওয়ের সিভিল এভিয়েশন উচ্চ বিদ্যালয়, তেজগাঁও কলেজ ও রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় এই ঘটনা ঘটেছে।

ব্যালট সিস্টেমে কারচুপি জালভোটের সম্ভাবনা থাকায় ব্যালট পদ্ধতি থেকে সরে এসে সবগুলো কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) তা সম্ভব বলে জানিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তবে ভোটের দিন উল্টো চিত্রের দেখা মিলে।

তেজগাঁওয়ের সিভিল এভিয়েশন উচ্চ বিদ্যালয় ৮১৮ নম্বর কেন্দ্রের ৩ নম্বর বুথের গোপন কক্ষে একজনের ভোট আরেকজনকে দিতে দেখা গেছে। দুপুর ১২টার দিকে এ দৃশ্য দেখা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৩ নম্বর বুথের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, “আমরা প্রবেশ করতে দিতে চাইনি। জোর করে ঢুকে গেছে।”

তেজগাঁও কলেজের ৮৭৯ কেন্দ্রের তিন নম্বর বুথের ভোটকেন্দ্রে গিয়াস নামে একজনকে ভোটারের সঙ্গে গোপন কক্ষে দেখা গেছে।

জোর করে এজেন্ট বা সমর্থকের উপস্থিতি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পর্যবেক্ষক সংগঠন মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান ডক্টর গোলাম রহমান ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, “তেজগাঁও কলেজে ভোটারের সঙ্গে গোপন কক্ষে গিয়াস নামে একজন ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। তিনি বের হলে আমরা তাকে প্রশ্ন করি আপনি এখানে কী করছিলেন। তখন তিনি বলেন, আমি তাকে সাহায্য করতে গোপন কক্ষে গিয়েছিলাম। আপনি গোপন কক্ষে যেতে পারেন কিনা, এমন প্রশ্ন করলে সে চলে যায়।”

এ ব্যাপারে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হালিমা আক্তার বলেন, “আমি শুরু থেকে অনেক মনোযোগী ছিলাম জোর করে তিনি ঢুকে গেছেন।”

রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনা বর্ণনা দিতে গিয়ে গোলাম রহমান বলেন, “আলফ্রেড রায় নামের ভোটার ভোট দিতে গোপন কক্ষে যান। তখন আরেকজন ব্যক্তি গোপন কক্ষে প্রবেশ করে জোর করে তার ভোট দিয়ে দেয়। আমার ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কেন ভোট দিলেন। ওই ব্যক্তি বলেন, তিনি ভোট দিতে সাহায্য করেছেন। এই বলে তিনি দ্রুত বেরিয়ে যান। গোপন কক্ষ থেকে বেরিয়ে ভোট দিতে না পারায় আলফ্রেড রায় কান্নাকাটি করেন। তার সিরিয়াল নম্বর ৪৪১৪।”

সিভিল এভিয়েশন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের এক কাউন্সিলর প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট জানান, তিনি একাই ৭টি ভোট দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম সাংবাদিকদের জানান, “গোপন কক্ষে ভোটার ছাড়া অন্য কারো প্রবেশের অধিকার নাই। যদি এ রকম ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে ভোটারকে আমাকে ফোন দিতে বলেন।” সূত্র: দেশরূপান্তর


এখানে শেয়ার বোতাম