বুধবার, নভেম্বর ২৫

গার্মেন্টস শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করে শতভাগ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা ‘অমানবিক’ ও ‘দুরভিসন্ধিমূলক’ : ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: বৈশ্বিক মহামারিকালীন সময়ে অব্যাহত ছাঁটাইয়ের মধ্যে বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হকের আনুষ্ঠানিকভাবে জুন মাস থেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণাকে ‘অমানবিক’ ও ‘দুরভিসন্ধিমূলক’ আখ্যায়িত করে অবিলম্বে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং সকল শ্রমিকদের বকেয়া শতভাগ বেতন-বোনাস প্রদানের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ।

জাতীয় ভিত্তিক এই শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি হাবিবুল্লাহ বাচ্চু এবং সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম ৭ জুন সংবাদপত্রে পাঠানো এক যুক্ত বিবৃতিতে এই দাবি জানান। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি তথা লকডাউন পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের অপরাপর শ্রমিকদের মতো গার্মেন্টস শ্রমিকরাও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। এরকম অবস্থায় মালিকরা ৫ এপ্রিল থেকে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা মাইলের পর মাইল পায়ে হেটে, ট্রাকে, পিক-আপে করে কারখানায় আসলেও সকলকে কাজে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। আবার যারা কাজে যোগ দিয়েছেন তাদের সকলকেও শতভাগ বেতন-বোনাস প্রদান করা হয়নি। অথচ শ্রমিকদের মার্চ, এপ্রিল, মে মাসের বেতন পরিশোধের জন্য মাত্র ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে সরকারের কাছ ৫ হাজার কোটি প্রণোদনা নিয়েছেন গার্মেন্টস মালিকরা।

প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে গার্মেন্টস শ্রমিক ছাঁটাই ও শ্রমিক অসন্তোষ সংবাদ যখন আসছিল তখন ৫ জুন বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হক জুন মাস থেকে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। যদিও পরদিন বিজিএমইএ’র পক্ষ জানানো হয় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা নয়; সভাপতির বক্তব্য ছিল শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা নিয়ে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বিজিএমইএ’র বক্তব্যকে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র অপচেষ্ঠা বলে মন্তব্য করে বলেন গার্মেন্টস মালিকরা ৪০ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিকের জীবিকাকে জিম্মি করে বাজেটের ঠিক পূর্বমুহুর্তে সরকারের সাথে যোগসাজসে জনগণের কষ্ঠার্জিত করের অর্থ থেকে বাড়তি সুবিধা আদায়ের অপচেষ্ঠায় লিপ্ত। এমনিতেই গার্মেন্টস মালিকরা করোনা দূর্যোগের মধ্যে নগদ ৫ হাজার কোটি টাকা আর্থিক প্রণোদনা ছাড়াও শতকরা ৫ শতাংশ সুদে ৩০ হাজার কোটি টাকার শিল্প ঋণের সুবিধাও নিচ্ছেন। মালিকদের স্বার্থরক্ষাকারী সরকারও উদার হস্ত হয়ে গার্মেন্টস মালিকদের জন্য রপ্তানিতে উৎসে কর কমিয়ে ০.২৫ শতাংশ নির্ধারণ করেন।

এছাড়াও প্রকাশ্য-গোপন, বৈধ্য-অবৈধ নানা রকম সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শ্রমিকদের নির্মম শোষণ করে বিগত ৪০ বছরে গার্মেন্টস মালিকরা দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুললেও এখন মালিকরা অমানবিকভাবে শ্রমিকদের দুঃসহ অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। শুধু তাই নয় বিজিএমইএ এখন পর্যন্ত ২৫০ জন শ্রমিকের করোনায় আক্রান্ত বলে স্বীকার করলেও বাস্তবে মালিকদের মুনাফার লালসার শিকার হয়ে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসুরক্ষার ব্যবস্থা ও সামগ্রী না পেয়ে কর্মরত অনেক শ্রমিকই করোনায় আক্রান্ত। শ্রমিকরা করোনায় আক্রান্ত হলে তাদের পুরো দায়িত্ব মালিকদের নেওয়ার কথা থাকলে অধিকাংশ মালিকই তা নিচ্ছেন না, উপরন্তু করোনায় আক্রান্ত শ্রমিকদের চাকুরী চলে যাচ্ছে। একদিকে করোনার চরম আতঙ্ক এবং অন্যদিকে চাকুরী হারানোর আশঙ্কায় শ্রমিকরা এক দুঃসহ সময় অতিক্রম করছেন। এরকম অবস্থায় শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় যেকোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির দায় সরকার ও মালিকপক্ষকেই নিতে হবে। নেতৃবন্দ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ছাঁটাই পরিকল্পনা থেকে সরে আসার জন্য মালিকদের প্রতি আহবান জানান এবং একই সাথে সকল শ্রমিকের বকেয়া শতভাগ বেতন-বোনাস প্রদান এবং কর্মরত শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, আসন্ন বাজেটে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য আবাসন, চিকিৎসা ও রেশন চালুর প্রেক্ষিতে সুনির্দ্দিষ্ট বরাদ্দ প্রদান করার দাবি জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম