রবিবার, নভেম্বর ২৯

গাছে বেঁধে নির্যাতনের পর নারীর আত্মহত্যা, গ্রেপ্তার ১

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় নির্যাতনের শিকার হয়ে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। ওই নারীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ আবদুল করিম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনান সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ইউপি সদস্যসহ ছয়জনকে আসামি করে বাগমারা থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে আক্তারুন নেসার (৪২) ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

আক্তারুন নেসার বাড়ি বাগমারার বড় বিহানালী ইউনিয়নের বাগান্না গ্রামে। প্রায় ১০ বছর ধরে তার স্বামী নিরুদ্দেশ রয়েছেন। তার ২০ বছর বয়সী এক ছেলে ঢাকায় কাজ করেন। কিশোরী মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন তিনি। প্রতিবেশী ইউপি সদস্য আবদুল মজিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরোধ ছিল। এ নিয়ে মামলাও হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ক্ষেতের ফসল নষ্টের অভিযোগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবদুল মজিদ ও তার সহযোগীরা আক্তারুন নেসাকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে দুই ঘণ্টা নির্যাতন করে। খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমানের নির্দেশে গ্রাম পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। ঘটনা জানাজানি হলে আক্তারুন নেসা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বুধবার সকালে তিনি গ্রামের একটি দোকান থেকে কীটনাশক কিনে পান করেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে ভর্তি করেন। সেখানে বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। বুধবার রাতেই তার ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন।

গৃহবধূর ভাই সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, তার বোনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এ কারণে তিনি ক্ষোভে-অভিমানে বিষপানে আত্মহত্যা করেন।

বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলার পর আবদুল করিম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে ইউপি সদস্য মজিদের ভাই। মামলার অন্য আসামিরা পলাতক।


এখানে শেয়ার বোতাম