শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

গণস্বাস্থ্যের অ্যান্টিবডি কিটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত করোনা অ্যান্টিবডি কিটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশের কোনও প্রতিষ্ঠানের অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার সক্ষমতা নেই। শুধু বাংলাদেশ নয়, আমেরিকা ছাড়া পৃথিবীর কোনও দেশেই এই নীতিমালা অনুযায়ী কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে পারবে না। কারণ, ওষুধ প্রশাসনের নীতিমালা যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) নতুন টেস্টের নিয়মের কপি। আর এটা করা হয়েছে শর্তের বেড়াজালে দেশীয় কিটকে আটকে দিয়ে বিদেশ থেকে কিট আমদানির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

গণস্বাস্থ্য কিট প্রকল্পের সমন্বয়ক ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেন, ওষুধ প্রশাসনের নীতিমালার মধ্যে তারা এমন সব শর্ত দিয়ে দিয়েছে, যা পূরণ করতে গেলে আমাদের আমেরিকায় যেতে হবে। আমেরিকায় গিয়ে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা খরচ করে এর পরীক্ষা করিয়ে নিয়ে আসতে হবে। কারণ, তাদের নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশের আইসিডিডিআর,বি বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, কারও এই পরীক্ষা করার সক্ষমতা নেই। সোজা কথা যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) টেস্টের যে নতুন নিয়ম-কানুন সেটাই জাস্ট ফটোকপি করে ওষুধ প্রশাসন আমাদের দিয়ে দিয়েছে। সেই নিয়মে বাংলাদেশে বাদ দেন, আমেরিকার বাইরে কোথাও তা পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। কারণ, এই নিয়ম-কানুন তৈরি হয়েছে মাত্র কিছু দিন আগে। ডা. মুহিব উল্লাহ বলেন, তারা যে পরীক্ষাগুলোর কথা বলছে সেটা তো বাংলাদেশে নেই। এখন যদি আইসিডিডিআর,বি ও বিএসএমএমইউ মনে করে তারা এই ফ্যাসিলিটি ডেভেলপ করবে তাহলেও এটা করতে ৬ থেকে ৭ মাস সময় লেগে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ওষুধ প্রশাসনকে লিখিত চিঠি দিয়ে বলেছি, আপনারাই এই টেস্টগুলো করিয়ে দেন। সেই চিঠিরও কোনও উত্তর পাইনি। তারা ঘুমিয়ে আছে। আসলে দেশীয় শিল্পের উদ্যোগের প্রতি একটা ষড়যন্ত্র চলছে, ওষুধ প্রশাসন সেটার অংশীদার হলো। এই অজুহাতে বাইরে থেকে কিট আমদানি করে আনবে। আমাদেরটা তারা আটকে দিলো আরকি। বাইরের কিট আনার জন্য যত পথ তৈরি করা দরকার, সেই পথগুলো তৈরি করছে ওষুধ প্রশাসন। আসলে কিট আমদানিতে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা আছে।

সব মিলিয়ে গণস্বাস্থ্যের করোনা অ্যান্টিবডি কিট কবে বাজারে আসবে বা এর ভবিষ্যৎ কী জানতে চাইলে মুহিব উল্লাহ বলেন, আমরা তো সব দিক থেকে চেষ্টা করেছি। এখন কীভাবে বলবো কবে বাজারে আসবে বা এর ভবিষ্যৎ কী? এখন আপনারাই বুঝে নেন কিটের ভবিষ্যৎ কী।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের করোনা অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেয় ওষুধ প্রশাসনে। কিন্তু কিটের সংবেদনশীলতার মাত্রা ৯০ শতাংশের কম হওয়ায় এটির অনুমোদন দেয়নি তারা। তবে পরবর্তীতে কিটটির উন্নয়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল ওষুধ প্রশাসন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিট তৈরি প্রকল্পে ৬ কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। বিদেশ থেকে কিট তৈরির মালামাল বা রি-এজেন্ট আমদানি থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক ধাপে অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এক্সটারনাল ভ্যালিডেশন ফি দিতে হয়েছে ৪ লাখ টাকার ওপরে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মতো একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জন্য তা খুব কষ্টসাধ্য ছিল। ডা. মুহিব উল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত গণস্বাস্থ্য ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছে।

কিট নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে জানতে চাইলে ডা. মুহিব উল্লাহ বলেন, আমাদের ইনহাউজ কাজ তো চলেই যাচ্ছে। কাজ তো আর থেমে নেই। এখন প্রক্রিয়া অংশ তো বড় সমস্যা। ওষুধ প্রশাসন আমাদের কিছু কাজ করতে দিয়েছে, যেমন- বিদেশ থেকে মালামাল আনার অনুমতি দিয়েছেন। কিট তৈরির উপাদান বা রি-এজেন্টের অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু এখন রি-এজেন্ট নিয়ে আসার পর যদি কিটের রেজিস্ট্রেশন না পাই তখন কী হবে। এটা তো এক-দুই টাকার মালামাল নয়, প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটির টাকার। এমনিতে ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। আরও ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা খরচ হবে, কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্র তো থেমে নেই।

জানা গেছে, করোনা অ্যান্টিবডি কিট নিয়ে হতাশা হয়ে পড়েছে গণস্বাস্থ্য। তাই পূর্বের কিট তৈরি অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এখন তারা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার কিট তৈরির কাজ শুরু করেছে। তাদের নিজস্ব ল্যাবেই এসব কিট তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে ডা. মুহিব উল্লাহ বলেন, আমাদের ল্যাবে অন্য কিট বানানোর কাজ শুরু করে দিয়েছি। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার কিট বানানো শুরু করেছি। আমাদের তো টেকনোলজি জানা আছে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন


এখানে শেয়ার বোতাম