শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

খুলনায় ব্যাটারি চালিত রিক্সার উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার দাবী

এখানে শেয়ার বোতাম

খুলনা প্রতিনিধি:: খুলনা নগরীতে ব্যাটারি চালিত রিক্সা চালানোর অনুমতি দেয়া, পুলিশী হয়রাণি বন্ধ করা, আটককৃত রিক্সা বিনা অর্থদন্ডে চালকদের ফেরৎ দেয়া, প্রয়োজনীয় নীতিমালা ব্যাটারি চালিত রিক্সার লাইসেন্স দেয়া ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিক্সার জন্য আলাদা লেন তৈরি করার দাবীতে খুলনায় মানববন্ধন ও সমাবেশ।

আজ ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার রিক্সা, ব্যাটারি রিক্সা ও ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ, খুলনা জেলা শাখা’র উদ্যোগে নগরীর পিকচার পালেস মোড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সংগ্রাম পরিষদের সংগঠক ও রিকসা শ্রমিক আন্দোলনের নেতা আলমগীর সোহেন বাবু’র সভাপতিত্বে ও সংগঠক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নাণ্টু’র সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম, সদস্য কোহিনুর আক্তার কণা, রিকসা শ্রমিক আন্দোলনের নেতা মোঃ মানিক মিয়া, মনির হোসেন, রফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, আব্দুল হাই প্রমুখ।

মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে সারাবিশ্বের মত বাংলাদেশও করোনা মহামারী মোকাবেলা করছে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি পালন করার লক্ষ্যে সামাজিক মেলামেশা নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকা- অনেকটা সীমিত। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রান্তিক নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষ। বেশিরভাগ মানুষ জীবন ধারণের ন্যূনতম প্রয়োজন জোগাড় করতে পারছে না। আর এই হতদরিদ্র মানুষের একটা বড় অংশ রিকসাচালক। বেঁচে থাকার তাগিদে প্রখর রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিদারুণ শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করছেন তারা। দারিদ্রতার কারণে পর্যাপ্ত পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য তারা গ্রহণ করতে পারে না। ফলে অতিরিক্ত পরিশ্রমে শীঘ্রই তারা কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। আবার যা উপার্জন করেন বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় তাতে সংসার চলে না। এমতাবস্থায় উপার্জন কিছুটা বৃদ্ধি ও শারীরিক শ্রম কিছুটা লাঘবের লক্ষ্যে তারা রিকসায় মটর লাগিয়ে চালাচ্ছেন। কিন্তু দেশের অনেক নগর, জেলা ও উপজেলায় ব্যাটারিচালিত রিকসা চললেও খুলনা নগরীতে চালাতে বাধাদান করা হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে পদচালিত রিকসা চালানো অমানবিকতা। আমরা বার বার অনুরোধ করে বলেছি, রিকসাকেও আধুনিক করা দরকার। আর এরজন্য প্রয়োজন একটা নীতিমালা প্রণয়ন করা। যে নীতিমালা রিকসার ডিজাইন, রাস্তায় চালানোর পদ্ধতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আলাদ লেন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই নীতিমালা অতি সহজেই নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব। স্বল্প দূরত্বে মানুষ ও পণ্য পরিবহণ, বিপদে-আপদে সহজপ্রাপ্য বিবেচনায় ব্যাটরিচালিত রিকসা এখনও মানুষের কাছে জনপ্রিয়। খুলনা শহরে প্রায় ২০ হাজার পরিবারের আয় এই বাহনের উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ সরাসরি লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করার জন্য ব্যাটরিচালিত রিকসা চলাচলের অনুমতি দেয়া জরুরী।

মানববন্ধ শেষে শ্রমিকনেতা জনার্দন দত্ত নাণ্টুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর দাবীসম্বলিত স্মারকলিপি পেশ করেন। পুলিশ কমিশনারে পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সহকারী পুলিশ কমিশনার, কেএমপি।


এখানে শেয়ার বোতাম