মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৩
শীর্ষ সংবাদ

খুবি শিক্ষক বরখাস্ত-আপসারণের ঘটনায় গুণীজনের অভিমত

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 200
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বরখাস্ত-আপসারণের ঘটনায় গুণীজনরা তাঁদের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

কবি, প্রবন্ধকার ও গবেষক আহমদ রফিকঃ

বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ ছাত্রদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নেবার যে কথা দিয়েছিলেন তাদের উচিত সে কথা রক্ষা করা। কতৃপক্ষ বহিষ্কৃত ছাত্রদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছেন, আবার নতুন করে শিক্ষকদের কয়েকজনকে বহিষ্কার করা, এটা রীতিসম্মত না—এটা অন্যায় পদক্ষেপ। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের উচিত বহিষ্কৃত শিক্ষকদের আবার স্বপদে ফেরত নেওয়া। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কোন রাজনীতির ব্যাপার না, এটা ভেতরকার ব্যাপার, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ব্যাপার। শিক্ষার আন্দোলন—শিক্ষাগত আন্দোলনকে রাজনীতির সাথে গুলিয়ে ফেলা ঠিক না। এই শিক্ষাগত আন্দোলনের ব্যাপার হল এগুলো নিয়ে শিক্ষার্থীরা যা করেছে তা আবার নতুন করে তাদের শুরু করা উচিত। একই সাথে কতৃপক্ষের উচিত শিক্ষকদেরকে তাদের পূর্বেকার পদে ফিরিয়ে নেওয়া। উপাচার্য ছাত্রদের দাবি মেনে নেবার ব্যাপারে কথা দিয়ে কথা রাখেননি, উল্টো ছাত্র-শিক্ষক বহিষ্কার করলেন, তাই এ ব্যাপারে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে যাওয়া উচিত—শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে গিয়ে বলা উচিত উপাচার্য এই যুক্তিহীন কাজগুলো করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সেখানে পেশ করা উচিত। এই অভিমত প্রকাশ করা ছাড়া আমাদের মতো লোকের আর কি-বা করার আছে!

ইতিহাসবিদ, লেখক ও শিক্ষাবিদ বদরুদ্দীন উমরঃ

বাংলাদেশতো এখন মগের মুল্লুক। এখানে হাইকোর্ট, কোনো আদালত, কোনো ছোটখাটো আন্দোলন তার মাধ্যমে কিছুই হবেনা আর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যদি তাকায় তাহলে দেখি বছরের পর বছর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভয়াবহ খারাপ অবস্থার ভেতর দিয়ে চলছে। কোনো আন্দোলনতো নাই। আন্দোলন যদি না থাকে তাহলে অবস্থার উন্নতি কিভাবে ঘটবে? খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু এই আন্দোলন থেমে গেলে চলবে না। শিক্ষার্থীদেরকে এই আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যেতে হবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রইলো।

একইসাথে শিক্ষকদেরকে যেন অনতিবিলম্বে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয় আমি সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

ইমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীঃ

আমি মনে করি শিক্ষকরাতো ছাত্রদের অভিভাবকও বটে, কাজেই ছাত্রদের যে সমস্ত দাবিদবা থাকে বা অভিযোগ থাকে শিক্ষকরা অভিভাবক হিসেবে সেগুলোর সাথে সহানুভূতিশীল হবেন এইটাতো স্বাভাবিক। আর সেখানে চট করে এইরকম শাস্তি দেওয়া এটাতো আমি মনে করিনা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি করার জন্য এই শাস্তি প্রত্যাহার করা দরকার। আর একটা ব্যাপার আমি খুব অনুভব করি সেটা হল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ থাকা দরকার। ছাত্র সংসদ থাকলে এই সমস্যাগুলো, ছাত্রদের যে বক্তব্য, শিক্ষকদের সাথে তাদের যে যোগাযোগটা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে হতে পারে এবং সেইটা খুব দরকার। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ তার উপরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন নির্ভর করে। তা আমার নিজের সবসময় অনুভূতির মাঝে এটা থাকে যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন যদি বাৎসরিক—প্রতিবছর হয় তাহলে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটো জিনিস ঘটে। একটা হল, একটা সাংস্কৃতিক জীবন গড়ে উঠে, সুস্থ স্বাভাবিক ছেলেমেয়েরা এই চর্চার সুযোগ পায়। নাটক, পত্রিকা প্রকাশ, গান এগুলো খুব দরকারি। এটা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বস্তিতে পরিণত হয়। আর অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই প্রতিপক্ষের সঙ্গে ছাত্রদের যোগাযোগের এবং তথ্য আদান-প্রদানের এবং ঘনিষ্ঠতা তৈরির একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই সুযোগগুলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন নাই। ফলে ছাত্ররা তাদের বক্তব্য বা তাদের অভিযোগ কি করে প্রকাশ করবে সেটা ব্যক্ত হয় না এবং শিক্ষকরা ছাত্রদের সাথে কেমন করে যোগাযোগ স্থাপন করবে সেটারও প্রাতিষ্ঠানিক কোন উপায় নাই। আমি এইটার উপরে খুব গুরুত্ব দিই। তাহলে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে যাবার পক্ষে ছাত্র সংসদ একটা বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। শিক্ষকরাতো অভিভাবক, তারাতো সহমর্মিতা জানাবে ছাত্রদের যদি কোন দাবি থাকে। একটা নৈতিক অবস্থানতো তাদের নিতেই হবে। তারাতো নির্বাক নিস্ক্রিয়শীল থাকতে পারে না। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের এই মানসিকতা ঠিক না। বিশ্ববিদ্যালয়তো কোন আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান না। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আছে এবং শিক্ষক আছে। তারা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাদান-আসল উপাদান। তো তাদের দিকে তাকাতে হবে। এটাতো কোন কারখানা না, কোন অফিস না বা কোন আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কটা খুব জরুরী এবং সেখানে শিক্ষকদের ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ থাকাটাও খুব জরুরি।

অধ্যাপক ও চিন্তাবিদ যতীন সরকারঃ

আমি নিজে একজন শিক্ষক ছিলাম। এখনতো সবকিছু থেকে দূরে আছি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারটা সম্পর্কে আমি শুনছি। সেখানে শিক্ষকদের যে ঘটনা, শিক্ষকদের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে সে আচরণ মোটেও সঙ্গত হয়নাই বলে আমি মনে করি। এই আচরণ, যেভাবে তাদেরকে বরখাস্ত-অপসারণ করা হয়েছে এই যে ব্যাপারটা আমাকে অত্যন্ত দুঃখিত করেছে। কাজেই, এই ব্যাপারটার একটা সুষ্ঠু সমাধান হওয়া উচিত। এই বরখাস্ত করাটা— যেকোনো শিক্ষকের যেকোনো রকমের ঘটনা ঘটলে—কোন ধরণের দুর্ঘটনা ঘটলে আমি নিজে দুঃখিত হই। আমার উপরেই যেন এটা লাগে। কাজেই শিক্ষকদের যদি কোন অপরাধও থেকে থাকে এই ব্যাপারটা নিয়ে এই মুহূর্তে একটা মীমাংসা হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি।

কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকঃ

আমার সহানুভূতি রইলো এবং আমি চাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে তিনজন শিক্ষক বহিষ্কৃত হয়েছে তাদেরকে আবার স্বপদে পুনর্বহাল করা হোক। গুরুতর অপরাধ না করলে শিক্ষক বহিষ্কার করা যায় না। ছাত্র আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ অপরাধ কেন হবে? ছাত্র আন্দোলনে আমিও গেছিলাম, কলেজে পড়ার সময় আমি নিজে ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলাম। আমি নিজে ছাত্র ইউনিয়নের লোকাল কমিটির সভাপতি ছিলাম। যদি সেটা পজিটিভ হয়, দেশবিরোধী কিছু না হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এমন কিছুতে যুক্ত হবেই। সরাসরি পলিটিক্স হয়তো করবে না, কোন পদ হয়তো গ্রহণ করবে না, তবে অধিকার আদায়ের কথা বলবেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি থেকে প্রায় বিনা অপরাধে কিংবা কোন একটা বিশেষ কথা না শোনার জন্যে এইভাবে কাউকে বহিষ্কার করা— তাকে অপসারণ করে দেওয়া এটা ঠিক নয়। ভেবে দেখা দরকার একেবারেই গুরুদণ্ড হয়ে গেল কিনা এভাবে শিক্ষককে বহিষ্কার করা, এটা একটা নজির হয়ে থাকবে তো।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বাধীন চিন্তাশীলতার ও মতপ্রকাশের অধিকার দেওয়া উচিত। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কতৃপক্ষ যে ব্যবস্থা নিয়েছে সে সম্পর্কে আমার ধারণা হয়েছে যে শিক্ষকদের চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। কতৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেন। তা করা না হলে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ জটিল অবস্থার মধ্যে পড়বেন বলে মনে হয়।

অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদঃ

বয়সের হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাবালক। দেশের নাগরিক হিসেবে ভোট দিয়ে (যদি ভোট বলে কিছু থাকে) রাষ্ট্র পরিচালক নির্বাচিত করা থেকে শুরু করে সরকারসহ সকল কর্তৃপক্ষের সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করার অধিকার সাংবিধানিকভাবে (ত্রুটিপূর্ণ হলেও) স্বীকৃত। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যায়ের সমালোচনা কেন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে? আর শিক্ষার্থীদের এরকম ভূমিকার সমর্থনে এগিয়ে আসা সকল শিক্ষকের গুরু দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের জন্য তাদেরই বরখাস্ত করার সাহস দেখাচ্ছে প্রশাসন? বরং বরখাস্তসহ নানা শাস্তির যোগ্য হচ্ছেন সেসব উপাচার্য যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ভুল নিয়োগ, সন্ত্রাস তোষণ, কমিশন ভোগ, বছরের পর বছর দায়িত্বহীনতার অভিযোগ আছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনকে অপরাধ বিবেচনা করে শিক্ষার্থী বহিষ্কার এবং সেই শিক্ষার্থীদের সমর্থনে এগিয়ে আসা শিক্ষকদের বরখাস্ত করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। অবিলম্বে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এই অপরাধ থেকে সরে আসার দাবি জানাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যুক্ত শিক্ষকদের শিক্ষকসুলভ ভুমিকা গ্রহণের আহবান জানাই।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতিসহ নানা অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় শিক্ষক অপসারণ ও শিক্ষার্থী বহিষ্কারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন তা দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয ও নাগরিকদের উপর আক্রমণ। এভাবে চলতে পারেনা, সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হওয়া উচিৎ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ নাগরিকদেরও সোচ্চার হওয়া দরকার। এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অন্যায় অবিচার দুর্নীতি আরও অবাধ তৎপরতায় পরিণত হবে। আমরা অবিলম্বে এসব শিক্ষাবিদ্বেষী সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাই। একইসঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তের জন্য চ্যান্সেলরের কাছে দাবি জানাই।

আলোকচিত্রশিল্পী, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী শহিদুল আলম

যেখানে সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলিতে স্পষ্ট দলীয়করণ হয়েছে, সেখানে আশা ছিলো শিক্ষা ব্যবস্থা গুলি অন্তত, তাদের কথিত স্বাধীনতার কারণে ভিন্ন হতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত চিন্তার জায়গা। এখানে গবেষণা হবে,নতুন চিন্তার আবির্ভাব হবে, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ হবে।

নতুন চিন্তার আবির্ভাব যেখানে সারাক্ষণ হবার কথা সেখানে দ্বিমত ই যদি না হয়, তাহলে কোথায় হবে? মুক্তচিন্তা ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে কেন? সেটিই তো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ।

ছাত্র ছাত্রীদের দাবিগুলো খুবই যৌক্তিক। যেখানে বলা আছে যে, হলে ছাত্র ছাত্রী স্থান না পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানায় আবাসে তাদের থাকার ব্যবস্থা হবে। সেটা ৩০ বছরে কেনো বাস্তবায়ন করা হয়নি?এটা তো শিক্ষার্থীদের আগে প্রশাসনেরই প্রশ্ন করার কথা ছিলো। তারা যেহেতু করেননি।শিক্ষার্থীদেরই করতে হলো। প্রশাসন তাদের দায়িত্ব পালন করেননি।শিক্ষার্থীরা সেটা শোধরানোর চেষ্টা করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন আমি মানি। তবে সেটা তো ধারাবাহিক ভাবে এবং নিয়মিত ভাবে, ধাপে ধাপে হবে। হঠাৎ করে ১০০% এর বেশী বৃদ্ধি কিভাবে যৌক্তিক হতে পারে? শুনেছি বহিষ্কৃত এই শিক্ষকেরাই বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য মহোদয়ের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এমনসব বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। বোঝাই যায় এটা অবশিষ্ট সোজা মেরুদণ্ডগুলোকে বিকল করে দেবার আয়োজন।

সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দাবি শিক্ষার্থীদেরকে সিদ্ধান্ত নেবার প্রক্রিয়ায় যুক্ত রাখার। যাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় গড়া তাদেরকে বাদ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবার কোনো অর্থই হতে পারে না। বরং ছাত্র ছাত্রীদের চিন্তা ভাবনা কে কিভাবে জায়গা দেওয়া যায় সেটাই ভাবা দরকার।

দাবি মানার কথা বাদও যদি দিই। শান্তিপূর্ণ ভাবে ছাত্র ছাত্রীরা তাদের দাবি উত্থাপন করেছে সংস্কার চেয়েছে। এটিই তো একজন সচেতন শিক্ষার্থীর কাজ। এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েই তারা দায়িত্বশীল নাগরিক হবেন। দুইজন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হলো। শিক্ষার্থীদের অনশনের মুখে ও সারাদেশের মানুষের বিশেষত শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের প্রতিবাদের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই বহিষ্কারাদেশ তুলে নিলো। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর সাথে সংহতি প্রকাশ করার জন্য তিনজন শিক্ষককে আবার বহিষ্কার ও অপসারণ করা হলো। এ লজ্জা আমরা কোথায় রাখবো?

প্রতিবাদী ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষকদের বাদ দিয়ে যে প্রতিষ্ঠান রক্ষণশীলদের অগ্রাধিকার দেয়, সেই প্রতিষ্ঠান নেতৃত্ব তৈরী করবে কিভাবে? যেখানে শিক্ষা ব্যবস্থা ঢালাও ভাবে পরিবর্তন প্রয়োজন, সেখানে যারা পরিবর্তন আনতে চাইছে তাদের বহিষ্কার করার মত সিদ্ধান্ত একটা বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে নিতে পারে?

আমি চাই শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা মেনে নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক শর্তগুলো পূরণ করুক। সেই সাথে এখনই এই মুহূর্তেই তিন শিক্ষককে স্বপদে পুনর্বহাল করুক। এটা আমার দাবি। এটা দেশের দাবি। এটা যেকোনো সভ্য সমাজের দাবি।

কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদারঃ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে দাবিগুলো ছিল সেগুলো মেনে নেবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমি আহ্বান জানাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনটা যে যৌতিক সেটা আমি দৃঢ়তার সাথেই বলছি। সব শিক্ষকেরই উচিত ছিল এই দাবিগুলোর সাথে সংহতি জানানো। কেননা বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটা প্রতিষ্ঠান যেখানে মুক্তবুদ্ধির চর্চা বাধ্যতামূলক। তা না হলে সেটা বিশ্ববিদ্যালয় হয় না। যে শিক্ষকরা এগিয়ে এসেছেন তাদেরকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি, আর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে যে তিন শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে অবিলম্বে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাদেরকে স্বপদে বহাল করার জন্য আমি দাবি জানাচ্ছি।

এটা সারাদেশে বাকস্বাধীনতা বন্ধের যে একটা প্রক্রিয়াটা চলছে তারই একটা অংশ। একজন ভিসি আইন, জবাবদিহিতা সবকিছুর উর্দ্ধে এটা চলতে পারে না। কোন অগণতান্ত্রিক বিধি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কেন কেউ একা কারো উপর চাপিয়ে দিতে পারে না। যেকোনো অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা যেন না করা হয় তার জন্য অন্যদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্যই এই বহিষ্কার। আমি এমন কর্মকাণ্ডের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হোক, মুক্তবুদ্ধিচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক এটাই আমার চাওয়া। এদেশে যে যা খুশি তা করে যাচ্ছে, কৈফিয়তেরতো কোন বালাই নেই। এখন যতখানি সম্ভব নিজেদের জায়গা থেকে প্রত্যেককে প্রতিবাদ জানাতে হবে এটাই আপাতত আমার চাওয়া।

 


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 200
    Shares