রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮
শীর্ষ সংবাদ

‘খুবির ৩ শিক্ষককে বহিস্কারের চক্রান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করতে হবে’

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 313
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ শিক্ষককে চূড়ান্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ ও বহিষ্কারের চক্রান্ত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিহত করতে হবে বলে আজ বুধবার সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন,“ছাত্রদের ন্যায্য দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে চূড়ান্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা তড়িঘড়ি করে বিশেষ সিন্ডিকেট ডেকে এই সিদ্ধান্ত নেন এবং তাদের মনোভাব এই যে, জবাব যে রকমই হউক না কেন এই তিনজন শিক্ষককে তারা বহিষ্কার করবেন।

২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষার্থীরা বেতন কমানো, আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করা, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অবকাঠামো নির্মাণ এবং ছাত্রবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাসহ ৫ দফা দাবি সংক্রান্ত স্মারকলিপি ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে পেশ করে।

তাতেও কোনো সমাধান না পেয়ে গত বছরের ১ জানুয়ারি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ন্যায্য দাবিগুলোকে গ্রাহ্যই করেনি। করোনাকালীন বন্ধের মধ্যেই নতুন বছরের ১৩ জানুয়ারি আন্দোলনকারী দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। এই বহিষ্কারের বিরুদ্ধে সারাদেশে প্রতিবাদ উঠেছে। বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেছেন।

শিক্ষার্থীদেরওই ৫ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনজন শিক্ষক। ব্যতিব্যস্ত হয়ে কর্তৃপক্ষ এবার ওই তিনজন শিক্ষককেও চূড়ান্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন ও বহিষ্কার করতে চাইছেন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সেখানে মতামত প্রকাশ করার জন্য কোন শিক্ষক বা শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার কিংবা কারণ দর্শানোর কোন প্রশ্নই ওঠেনা। কর্তৃপক্ষ হয়তো ভুলে গেছেন যে, এদেশে ‘৫২, ‘৬২, ‘৬৯ ও ‘৭১ এর জন্ম হয়েছে ছাত্রদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে সামিল হওয়ার মধ্য দিয়েই। সেদিন দলে দলে শিক্ষকরা তা সমর্থন করেছেন, রাস্তায় নেমেছেন।

এমনকি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও ‘৯০ এ স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র অভ্যুত্থানই গণঅভ্যুত্থানের জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সেসময় কর্মসূচী সমর্থন করা শুধু নয়, ধর্মঘট—হরতালে পর্যন্ত অংশ নিয়েছেন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনে ক্যাম্পাসগুলো আইয়ূব—এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনামল থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। সায়ত্ত্বশাসনের নামগুন্ধও আর তাতে থাকছে না।”

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। ছাত্রদের বহিষ্কারাদেশ ও শিক্ষকদের শোকজ নোটিশ প্রত্যাহারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 313
    Shares